নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এর ১৫ টি পদক্ষেপ

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এ করণীয় ১৫ টি কাজ

নারীর প্রতি সহিংসতার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যই প্রধান।

সামাজিক কুপ্রথা ও দৃষ্টিভঙ্গি দারিদ্র্য, বেকারতৃ, নিরাপত্তার অভাব, বালাবিবাহ, বহুবিবাহ, যৌতুক, আইন ও আইনগত অধিকার সম্পর্কে নারীদের অসচেতনতা, আইন ও বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রভৃতি নারীর প্রতি সহিংসতার গুরত্বপূর্ণ কারণ ।

নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে তোমার নিজের পরিবার ও এলাকার দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যায়

বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থায় ধমীয় চর্চার অভাব অনেকটা লক্ষ করা যায় । কেননা আমাদের ধর্মে নারীদের মর্যাদা দেওয়ার বিধান আছে | অথচ নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করা হয় । বাইরে গেলে এই হবে সেই হবে ইত্যাদি।  পুরুষরা আসলেই চান না নারীরা কিছু করুক,ঘরের বাইরে যাক । আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের হেয় প্রতিপন্ন করা এই মনোভাবকে বদলাতে হবে । নারীদের সমান অধিকার দিতে হবে । নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে গ্রহনযোগ্য পদক্ষেপ নানামুখী ।  যেমনঃ

  • জেন্ডার সংবেদনশীল শিক্ষানীতি ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন
  • প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা
  • প্রশাসন, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণে জেন্ডার ও মানবাধিকার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
  • নারী শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণ, বিধবা ভাতা প্রদান এবং নারীর জন্য ঋণদান কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি।
  • অ্যালকোহল ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ
  • যুবসমাজের জন্য শিক্ষার মান ও কর্মসংস্থানের মান উন্নতি
  • নির্যাতন, সহিংসতার ধরন ও প্রকৃতির সাথে আইন প্রণয়ন এবং এর যথাযথ প্রয়োগ ।
  • কিশোরী নির্যাতন বন্ধে নীরবতা ভেঙে এগিয়ে আসতে হবে।
  • নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নিমূ‌র্লের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সচেতনতা মূলক কর্মসূচিতে নারী ও কন্যাশিশুদের যুক্ত করতে হবে।
  • পিতামাতা এবং শিক্ষকদের উচিত শিশুদের মধ্যে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা করা এবং রোল মডেল হিসেবে সমাজে তুলে ধরা।
  • নারী অধিকার এবং অধিকার সংশ্লিষ্ট আইন বিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি।
  • নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্মতৎপরতার সম্প্রসারণ ।
  • নারী  নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা ।
  • সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধ
  • অপসংস্কৃতি রোধ
  • নারী ও পুরুষের শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা
  • নারীর ভূমিকা ও মর্যাদার যথার্থ মূল্যায়ন করা
  • নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রবর্তিত আইন।যেমনঃ-এসিড অপরাধ দমন আইন, এসিড নিয়ন্ত্রণ আইন, যৌতৃক প্রতিরোধ আইন, পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, বাল্যবিবাহ অধ্যাদেশ, সন্ত্রাস দমন অধ্যাদেশ এর যথাযথ প্রয়োগ ।
  • নারীর ক্ষেত্রে সহিংস ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অপরাধী কিংবা অপরাহীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা প্রভৃতির ক্ষেত্রে সমাজের মানুষের ঐক্যবদ্ধ চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে  সহিংস ঘটনা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।
  • নারী নির্যাতন প্রতিরোধ ও নিমূ‌র্ল কর্মসূচিতে পুরুষসমাজকে যুক্ত করে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
  • নারীর বিরুদ্ধে সহিংস ঘটনার প্রভাব প্রচার মাধ্যমে প্রকাশ করে জনমনে সচেতনতা সৃষ্টি করে সহিংসতা প্রতিরোধ করা যেতে পারে।

উপরিউক্ত বিষয়গুলো  ছাড়াও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে আরও বেশ কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দিতে হয়।

নারীদেরকে এ সমস্ত সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য। কারণ নারীরাও মানুষ, নারীরা মায়ের জাত। পরিবার, সমাজ এবং দেশের ভালো কাজে নারীদের প্রচুর অবদান রয়েছে । মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর সন্তানের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নির্ভরশীল। এ থেকে বোঝা যায় যে, নারীরা আমাদের পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে আসছে। সুতরাং নারী তথা মেয়েদের সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব ও কর্তব্য।তাছাড়া যুবসমাজকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে যুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। স্বাভাবিক, সুস্থ ও সমতা ভিত্তিক সমাজ বির্নিমাণে তাই সব প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে হবে।

নারী সহিংসতা রোধে যে কোন একটি পদক্ষেপ বাস্তবায়নের জন্য একটি বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রনয়ণ কর

নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কতিপয় আইনি প্রতিকার হলোঃ
১। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন — ২০০০ (২০০৩ সালে সংশোধিত) যৌন হয়রানিকে শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।যদি কেউ এধরনের কাজ করে তাহলে উক্ত ব্যক্তি অনুর্ধ সাত বছর এবং সর্বনিম্ন দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং অর্থদণ্ডে ও দণ্ডিত হবেন।

২। এসিড অপরাধ দমন আইনঃ এসিড অপরাধ দমন আইন ২০০২ অনুসারে এসিড দ্বারা মৃত্যু ঘটানো বা আহত করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
যদি কোনো ব্যক্তি এসিড দ্বারা অন্য ব্যক্তির মৃত্যু ঘটান তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। আবার এসিড দ্বারা কাউকে আহত করলে যদি আহত ব্যক্তির শ্রবণশক্তি কিংবা দৃষ্টিশক্তি বা মুখমণ্ডল নষ্ট হয়ে যায়,, তবে তার একই শাস্তি হবে। কিন্তু শরীরের অন্য কোথাও আঘাতপ্রাপ্ত হলে তার চৌদ্দ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও কেউ যদি এসিড মজুদ বা পরিবহনের সাথে যুক্ত থাকেন তাহলে তার জন্যও শাস্তির বিধান আছে। ২০১০ সালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক এসিড নিয়ত্রন আইন ২০১০ পাস হয়।

৩। নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের আইনঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ অনুসারে যদি কোনো ব্যক্তি পতিতাবৃত্তি বা বেআইনি কোনো কাজে নারীদের বিদেশ থেকে আনে বা বিদেশে প্রেরণ করে তাহলে তার মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অনধিক ২০ বছর কিন্তু অন্যূন ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন। এছাড়াও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

এছাড়াও নারী অপহরণ, ধর্ষন,যৌনপীড়ন, মুক্তিপণ আদায়, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো ইত্যাদির জন্য শাস্তির বিধান আছে

আরো পড়ুনঃ নারীর প্রতি সহিংসতা মূলক আচরণের কারণ।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *