ভাবসম্প্রসারণ: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে |

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ (২০০ শব্দ)

মূলভাব: সৌন্দর্য সর্বত্র বিকশিত হয় না। প্রাকৃতিক নিয়মে যার যথা স্থান সেখানেই তার সৌন্দর্য ফুটে ওঠে।

সম্প্রসারিত ভাব : ‘সুন্দর’ শব্দটি আপেক্ষিক। সৌন্দর্যের গতি-প্রকৃতি স্থান-কাল-পাত্র ভেদে ভিন্নতর হয়। উপযুক্ত পরিবেশের অভাবে অনেক সুন্দর জিনিসও অসুন্দর দেখায়। প্রত্যেকেরই একটি নিজস্ব পরিবেশ আছে। সে পরিবেশ ব্যতীত অন্য যে কোনাে
পরিবেশে সে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলে। বন্যদের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নগরকেন্দ্রিক যান্ত্রিক সভ্যতার অভিঘাতে মূর্ত হয়ে উঠে না। বনের মুক্ত বিহঙ্গাকে সােনার খাঁচায় ধরে রাখলেও অস্বাভাবিক মনে হয়। সুবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার চিড়িয়াখানায় আটকে রাখা হলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারিয়ে শ্রীহীন হয়ে পড়ে। বনই এদের যথার্থ স্থান। বাগানই ফুলের অপরূপ সৌন্দর্যের আধার। বৃন্তচ্যুত ফুল ফুলদানিতে সাজালেও শুকিয়ে যায়। অগাধ ‘জল মাছের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। মাছকে ডাঙ্গায় তুললে
তার নান্দনিক সৌন্দর্য ব্যাহত হয় এবং তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। মানব শিশুর সুন্দরতম স্থান মাতৃক্রোড়। সেখানে তার সৌন্দর্য অত্যন্ত সুন্দরভাবে বিকশিত হয়। অন্যের কোলে শিশুর সে সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। এভাবে স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হলে যে
কোনাে প্রাণীর স্বাভাবিকতা ক্ষুন্ন হয়। তাই জ্ঞানী ব্যক্তির হৃদসিন্ধু মহুনজাত উক্তি, “যার যেখানে স্থান তাকে সেখানে থাকতে দাও।”

মন্তব্য: আপন পরিবেশই সৌন্দর্যের নিয়ামক। যার যে পরিবেশ তাকে সে পরিবেশেই মানায়। তাই কোনাে কিছুকে স্বরূপে উপলব্ধি করতে হলে তার নিজের পরিবেশেই তাকে দেখতে হবে।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ (২১৫ শব্দ)

মূলভাব: সৌন্দর্য প্রকৃতির এক অসামান্য উপহার এ সৌন্দর্য কোথায় বিশিষ্টতা অর্জন করতে সক্ষম, তা প্রকৃতিই নির্ধারণ করে দেয়। এর ব্যতিক্রম ঘটলে সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়।

সম্প্রসারিত ভাব : প্রত্যেকটি সৃষ্টিই পরিবেশের পটভূমির ওপর নিজের প্রকৃত সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে. যথাস্থানেই তাকে সুন্দর ও সাবলীল দেখায় । যেমন: বুনো মানুষের স্বভাব, চরিত্র, আচার-আচরণ স্বাভাবিক নিয়মে বনের মধ্যেই সুন্দরভাবে বিকাশ লাভ করে থাকে । কিন্তু তারা যদি আধুনিক সভ্যতার আলোকে আলোকিত শহরে আসে তবে তাদের জীবন কুৎসিত বলেই প্রতীয়মান হয় । ঠিক তেমনই মায়ের কোলে শিশুকে যেমন সুন্দর লাগে, অন্য কারও কোলে তত সুন্দর মানায় না। এজন্যে অনেক বড় বড় শিল্পী মা ও শিশুর ছবি এঁকেছেন, যেখানে শিশুকে মাতৃক্রোড়েই দেখানো হয়েছে । লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি এবং পাবলো পিকাসো ছাড়া আরও অনেক ক্লাসিক্যাল ও আধুনিক শিল্পী শিশুকে মাতৃক্রোড়েই স্থান দিয়েছেন। শিশুর জন্য তার মায়ের কোলই উপযুক্ত জায়গা । এটা প্রকৃতির চিরায়ত নিয়ম । আবার বন্য প্রাণীদেরকে বনে যেমন সুন্দর সৌন্দর্য বিকশিত হবে না। কাজেই প্রাকৃতিক নিয়মে যে যেখানে সুন্দর তাকে সেখানেই থাকতে দেওয়া উচিত। সেখানেই তার মুক্তি, সেখানেই তার সহজ সাবলীল ও স্বাধীন সুন্দর প্রকাশ । তাই মনীষীরা বলেন, “যার যেখানে স্থান তাকে সেখানে থাকতে দাও ।’ কেননা যে যেখানে যে পরিবেশে প্রতিপালিত হয়, তাকে সেখানেই সুন্দর মানায় ।

প্রতিটি সৌন্দর্যেরই একটা নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে । সেই নির্দিষ্ট স্থান এবং পরিবেশেই তা যথার্থ বিকাশ লাভ করে, অন্যত্র নয়।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ (২৫০ শব্দ)

ভাবসম্প্রসারণ: রহস্যময় প্রকৃতির প্রতিটি বিষয় সুনির্ধারিত। প্রকৃতি প্রদত্ত যে বিধান তাই সুন্দর, তাই মনােরম, তাই সত্য, তাই শাশ্বত । এর ব্যতিক্রম কিছু ঘটলেই সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায়। যার পরিণাম সত্যিই ভয়াবহ। সৃষ্টিকর্তা জগৎ সৃষ্টি করে পরিবেশ অনুযায়ী জীব সৃষ্টি করেছেন এবং যাকে যেখানে শােভা পায় সেখানেই স্থাপন করেছেন। পশুপাখি বনে বাস করে। বনের বুকে তারা মুক্ত জীবনযাপন করে, স্বচ্ছন্দে বিহার করে। তাদের সে স্বাভাবিকতা লােকালয়ে আসলে আর থাকে না। স্বাভাবিকতা হারালে সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যায় । যে সকল মানুষ বনজঙ্গলে বসবাস করে তারা বর্বর; শিক্ষার আলাে থেকে ব

ত বলে চালচলনে তারা অনেকটা হিংস্র প্রকৃতির হয়। তাদের মার্জিত রুচিবােধ নেই। তারা প্রায় নগ্ন অবস্থায় থাকে। সভ্য সমাজের রুচিবােধের সাথে তাদের রুচিবােধের রয়েছে দুস্তর ব্যবধান। তারা যদি হঠাৎ করে শহরে চলে আসে তাহলে তা শহুরে মানুষের নিকট বেমানান ঠেকবে তেমনি বন্য মানুষের নিকটও এটি অস্বস্তির কারণ হবে। বনের পশুপাখির বেলায় লােকালয়ে রেখে যতই আদর যত্ন করে পােষা হউক না কেন, এতে সে তৃপ্ত নয়। সে চায় যথেচ্ছ ঘুরে বেড়াতে। লােকালয় এদের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতেও প্রতিবন্ধকস্বরূপ। বন্য জীবজন্তুর বন্য রূপের সাথে পরিচিত হতে পারা যায় শুধু বনেই । বনেই এদের যথার্থ স্থান এবং সেখানেই তাদের সকল সৌন্দর্য মূর্ত হয়ে ওঠে। স্বাভাবিক জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন করলে প্রতিটি প্রাণী সংকুচিত, ভীত ও বেদনায় নুয়ে পড়ে। পরিবেশ অনুযায়ী প্রতিটি প্রাণীই দেখতে সুন্দর। বন্যেরা বনেই সুন্দর আর শিশুরা মায়ের কোলে।

জীবজগতের প্রতিটি প্রাণীরই একটি নিজস্ব জগৎ আছে। সে জগতেই সে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠে। অন্যথা হলে জীবনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়।

বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে ভাবসম্প্রসারণ (২৬০ শব্দ)

মূলভাব: প্রাকৃতিক নিয়ম অনুসারে যেহেতু প্রতিটি জিনিসই স্ব-স্ব স্থানে সুন্দর ও মানানসই,তাই তাদের নিজ স্থান থেকে সরিয়ে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে ব্যাহত করা উচিত নয়। কেননা তাকে সরিয়ে যতই আনন্দ-সুখ-শান্তি দেওয়া হােক না কেন তাতে তার আসল প্রাণচাঞ্চল্য, সৌন্দর্য ও স্বাভাবিকতা ফুটে ওঠে না।

সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীই আপন পরিবেশের সৃষ্টি। আর তাই আপন পরিবেশ থেকে বিচ্যুত হলে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হয়। কেননা সব কিছুরই সৌন্দর্য ও বিকাশ প্রকাশ পায় সেগুলাের নিজ নিজ পরিবেশে। আমরা জানি, স্ব-স্ব পরিবেশে সব জিনিসই সুন্দর দেখায়।

এ কারণে কোনাে জিনিসের সৌন্দর্য অবলােকন করতে হলে তাকে অবশ্যই তার নিজস্ব পরিবেশে রেখে দেখতে হবে । সমগ্র পৃথিবীতে বিভিন্ন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে অসংখ্য জাতি-গােষ্ঠীর মানুষ বসবাস করছে। এসব মানুষ নিজস্ব পরিবেশে আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্য নিয়ে বসবাস করছে। কখনােই নিজ পরিবেশ ছেড়ে অন্যত্র বসবাসে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবােধ করে না। তেমনি বন্যপ্রাণীদের জন্য বন হচ্ছে সবচাইতে উৎকৃষ্ট স্থান। বনজঙ্গলের মধ্যেই তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অভ্যস্ত। সেই বন্যপ্রাণীকে যদি বন থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয় তাহলে তার আসল সৌন্দর্য ও বিকাশ নষ্ট হয়ে যায়। পাখির জন্মগত স্বভাব মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়ানাে। অসীম নীল আকাশে যখন পাখি পাখা মেলে উড়ে বেড়ায় তখন তার আসল সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। আর সেই পাখিকে যখন শখ করে খাচায় বন্দি করা হয় তখন তার মধ্যে কোনাে প্রাণচাঞ্চল্য থাকে না। সে খাঁচার প্রাচীরে পাখা ঝাপটায় ওড়ার জন্য, ছটফট করে মুক্তির জন্য। ঠিক তেমনি হিংস্র প্রাণী বাঘ চিড়িয়াখানায় বন্দি অবস্থায় যতই গর্জন করুক না কেন তাতে বনের মুক্ত বাঘের স্বভাবের প্রকাশ ঘটে না।

মন্তব্য: মায়ের কোল শিশুর নিরাপদ আশ্রয়। মায়ের কোল ছাড়া শিশুর সৌন্দর্য বিকশিত হয় না। তাই বলা হয়, যে যেখানে উপযুক্ত তাকে সেখানেই থাকতে দেওয়া যথার্থ ।

দেখে নিতে পারেন: বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে বিষয়ক প্রথম আলোর প্রতিবেদনটি

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *