Sabbir8986 / December 24, 2020

যে সহে, সে রহে

Spread the love

যে সহে, সে রহে ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: জগৎসংসারে যারা সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল তারা জীবনে বহুক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে। ধৈর্য ও সহনশীলতা মানুষকে অন্তরের শক্তিতে বলীয়ান করে তােলে। সেই শক্তি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে সমস্যা মােকাবিলায়,প্রতিকূলতা অতিক্রমে।

ভাবসম্প্রসারণ: মানবজীবনে চলার পথ বড়ই বন্ধুর। জীবনের নানা প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে সংগ্রাম করে মানুষকে এগিয়ে যেতে হয়। রােগ-শােক, দুঃখকষ্ট, দারিদ্র্য ও হতাশা— এসবের সঙ্গে সংগ্রাম করতে গিয়ে মানুষ অনেক সময় দিশেহারা হয়ে পড়ে। এমনকি মাঝে মাঝে বাঁচার ইচ্ছাও হারিয়ে ফেলে কিন্তু ধৈর্যের শক্তিতে শক্তিমান মানুষই পারে প্রত্যাশা পূরণের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা নিয়ে সকল কিছুকে জয় করতে। সেই জন্যে প্রয়ােজন ধৈর্য ও শক্তি, সাহস, অধ্যবসায় ও সহিষ্ণুতা। এ গুণগুলাে থাকা সব মানুষের জন্যে আবশ্যক। তা না হলে মানুষ জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে পারবে না; পদে পদে তাকে পর্যুদস্ত হতে হবে। জীবনের চলার পথে অনেক লাঞ্ছনা, গঞ্জনা ও যাতনা সহ্য করতে হতে পারে। কিন্তু এতে ধৈর্য হারালে চলবে না। সহনশীল ক্ষমতার অধিকারী হতে হবে। এ ধৈর্য ও সহনশীলতার শক্তিতে জ্ঞানী-গুণী ও মহামানবরা পৃথিবীর বুকে দুঃখ ও বিপদ জয়ের অক্ষয় কীর্তি রেখে যেতে পেরেছেন। মানব সভ্যতার কোনাে উপকরণই মুহূর্তের চেষ্টায় উদ্ভাবিত হয়নি। প্রতিটি আবিষ্কারই অপরিসীম ধৈর্য্যের উজ্জল সাক্ষর বহন করে।

মহামানবরা মানবজাতিকে সত্যের পথে, ন্যায়ের পথে, সুন্দর জীবনের পথে আনার জন্যে বহু ত্যাগ, তিতিক্ষা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন। কখনাে হাল ছেড়ে দেননি, ধৈর্যহারা হয়ে পড়েননি। বরং আশার আলাে নিয়ে, সহনশীল মনােভাব নিয়ে কাজ করে গেছেন। তাঁদের মহৎ এ ত্যাগের ফলেই মানুষ পেয়েছে সুন্দর জীবন ও বাসযােগ্য পৃথিবী ।

ত্যাগ, ধৈর্য, সহিষ্ণুতাই মানবজীবনের সুখ-শান্তি ও প্রতিষ্ঠা লাভের পূর্বশর্ত। ধৈর্যশীল মানুষই পারে ধীরস্থিরভাবে
প্রতিকূলতাকে মােকাবিলা করতে। বস্তুত ধৈর্য ও সহিষ্ণুতাই মানবজীবনকে নিয়ে যেতে পারে সফলতার শেষ প্রান্তে।

যে সহে, সে রহে ভাবসম্প্রসারণ (ভিন্ন লেখা ২)

মূলভাব : এ বিশ্ব-সংসারে যারা সহিষ্ণু ও ধৈর্যশীল তারাই কেবল টিকে থাকে।

সম্প্রসারিত ভাব : মানুষের জীবন পুষ্প-সজ্জিত নয়, জীবনের পথ কণ্টকাকীর্ণ। মানুষকে সে পথ মাড়িয়ে জীবনের সফলতার দিকে এগিয়ে যেতে হয়। জীবনে যেমন আছে বাধা-বিপত্তি, তেমনি আছে নানা রকম সংকট। সকল প্রতিবন্ধকতা জয় করে মানুষকে জীবনে প্রতিষ্ঠা অর্জন করতে হয়। এ জন্য যে মহৎ গুণটির প্রয়ােজন তা হলাে সহ্যগুণ বা সহনশীলতা। সহনশীলতা মনুষ্য জীবনের অন্যতম সাম্য নীতি। মানুষ পরস্পরকে উপলব্ধির মাধ্যমে শ্রেয় প্রাপ্ত হয়। পরস্পরকে বুঝতে হলে সহনশীলতার চর্চা আবশ্যক। সহনশীলতা মানুষকে সঠিক পথের দিক নির্দেশনা দিতে পারে। মহামানবদের জীবন ইতিহাস আলােচনা করলে দেখা যায়, তাদের জীবন ধৈর্য ও সহনশীলতায় পরিপূর্ণ। তারা মানুষের মধ্যে যেটুকু মন্দ তা উপেক্ষা করেন। এর মধ্য দিয়ে যা ভাল আছে সাহচর্য, মধুর ব্যবহার ও ভালবাসা দিয়ে তারা তাকেই উৎসাহিত করেন। প্রভু যীশুকে ক্রুশবিদ্ধ করার পরও তিনি অসহিষ্ণু হননি। মহানবির জীবনালেখ্য সহনশীলতার এক অসামান্য দলিল। তাঁর অসীম ধৈর্য ও অপার করুণার প্রবৃত্তি পরতন্ত্র মানুষকে কল্যাণের পথে টেনে আনে। এ সব ধৈর্যশীল প্রেমময় মহামানবরাই মানব জাতির মুক্তির দূত।

মন্তব্য : ক্ষমা, দয়া, স্নেহ, ধৈর্য, সহিষ্ণুতা প্রভৃতি মহৎ গুণের বিকাশ ঘটিয়ে ব্যক্তি

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি