অতি দীন ও অশক্ত লােকেরাই দৈবের দোহাই দিয়ে থাকে

অতি দীন ও অশক্ত লােকেরাই দৈবের দোহাই দিয়ে থাকে ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: যারা দরিদ্র ও ভীরু, সত্যের মুখােমুখি হতে যারা ভয় পায়, তারা তাদের দুরবস্থার জন্য দৈবের দোহাই দিয়ে থাকে। মূলত নিজেদের অক্ষমতাকে আড়াল করার জন্যেই তাদের এ প্রবঞনার ছল।

ভাবসম্প্রসারণ: পৃথিবীতে মানুষের চলার পথ সতত কণ্টকাকীর্ণ । জীবনে সম্পদ ও সমৃদ্ধি অর্জন করতে চাইলে শত প্রতিকূলতাকে মােকাবিলা করে সামনে অগ্রসর হতে হয়। পরিশ্রম ও চেষ্টার মাধ্যমে নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নিতে হয়। কিন্তু দরিদ্র ও দুর্বলচিত্তের লােকদের মাঝে সংকট মােকাবিলা করার মানসিকতা থাকে না। তারা আত্মবিশ্বাস্য হারিয়ে ফেলে, নিজের ভাগ্যের ওপর তাদের কোনাে নিয়ন্ত্রণই থাকে না। তাদের ব্যর্থতার দায় তারা দৈবের ঘাড়ে চাপিয়ে পরিত্রাণ পেতে চায়। নিজেদের ত্রুটি আড়াল করার চেষ্টাতে মূলত তাদের চরিত্রের কর্মবিমুখতা ও আত্মবিশ্বাসহীনতাই প্রকাশ পায়। দরিদ্র লােক ভেবেই নেয়, তার এই দুরবস্থা সম্পূর্ণ ভাগ্যের লিখন এবং পূর্বনির্ধারিত। চেষ্টা করলেও দুর্ভাগ্যের কোনাে পরিবর্তন হবে না— এই ভ্রান্তবিশ্বাস তাকে নতুন করে চেষ্টা করতে বাধা দেয়। অন্যদিকে অশক্ত দুর্বলেরা কর্তব্য কাজ করতে গিয়ে যখন কোনাে বাধার সম্মুখীন হয় তখন তারা দৈবের দোহাই দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকে। নিজেদের মনােবলের প্রতি কোনাে বিশ্বাস না থাকার কারণে। তারা কাজে ব্যর্থ হয় আর অজুহাত হিসেবে ভাগ্যকে টেনে আনে। দুর্ভাগ্যের জন্য তারা বিধাতাকে দায়ী করে দোষারােপ করতে ভালােবাসে। এ দুই শ্রেণির মানুষই আত্মমর্যাদাহীন গ্লানিকর জীবনের ভার বয়ে বেড়াতে বাধ্য হয়। কারণ নিজেদের অবস্থার পরিবর্তনের জন্যে তাদের কোনাে উদ্যম থাকে না, উদ্যোগও থাকে না। পক্ষান্তরে প্রকৃত মানুষেরা বাধাবিপত্তির ভয়ে ভীত না হয়ে নিজেদের শক্তি ও মনােবলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে নেয়। মানুষ হিসেবে এটাই হওয়া উচিত প্রকৃত জীবনসাধনা। দুর্বলচিত্তের দরিদ্রজনেরা কখনােই সে জীবনের স্বাদ পায় না ।

ভীরু ও দুর্বলচিত্তের লােকজন দৈবের দোহাই দিয়ে নিজেদের অক্ষমতা আড়াল করে। কর্মবিমুখতা ও আত্মবিশ্বাসহীনতার ফলেই তারা এমন আচরণ করে থাকে। ফলে তারা কখনােই তাদের দুরবস্থার পরিবর্তন করতে পারে না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *