এ পৃথিবী অলস ভীরু কাপুরুষের জন্যে নয়

এ পৃথিবী অলস ভীরু কাপুরুষের জন্যে নয় ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: পৃথিবীতে মানুষের জীবনটা যুদ্ধক্ষেত্রস্বরূপ। ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সাহস ও পরিশ্রমই সৌভাগ্যের একমাত্র নিয়ামক। এখানে অলস ও ভীরু-কাপুরুষদের কোনাে ঠাঁই নেই।

ভাবসম্প্রসারণ: এ পৃথিবী এক বিশাল কর্মক্ষেত্র । যুগ যুগ ধরে তৈরি মানুষের অগ্রগতির ইতিহাস মূলত তাদের পরিশ্রম আর সাহসিকতার ইতিহাস। সাহসী মানুষেরা নিরলস শ্রমের মাধ্যমে তাদের সৌভাগ্যের ইতিহাস নিজ হাতে লিখে নিয়েছে। সে ইতিহাসে অলস ভীরু কাপুরুষদের কোনাে অবদান নেই, কোনাে স্থান নেই। কারণ জীবনে সফল হতে চাইলে বুকে সাহস ধারণ করতে হয়, পরিশ্রমী হতে হয়। পৃথিবীতে কোনাে সৌভাগ্যই আপনা-আপনি কাউকে ধরা দেয় না। বাহ্যদৃষ্টিতে মানুষ যাকে ভাগ্য বলে চিহ্নিত করে, তা মূলত মানুষের প্রাণান্ত চেষ্টা আর পরিশ্রমেরই ফসল। কর্মময় মানবজীবনে প্রতিটি কাজেই কম-বেশি ঝুঁকি থাকে। তাই বলে থেমে গেলে চলবে না, পিছিয়ে যাওয়া যাবে না । জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে হলে পরিশ্রমকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে নির্ভীকচিত্তে সামনে এগুতে হবে। মানব সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকে সাহসী মানুষেরা অন্যদের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে, পরিশ্রমীরা সাফল্য লাভ করেছে। পৃথিবীতে যারা আজ সবার কাছে স্মরণীয়-বরণীয় বলে মান্য, তারা সবাই ছিলেন পরিশ্রমী এবং অকুতােভয় প্রাণ। পক্ষান্তরে আলস্য ও ভীরুতা জীবনে শুধু ব্যর্থতার অভিশাপই বয়ে আনে। আলস্য জীবনে এক অভিশাপ। অলস ব্যক্তির দ্বারা কোনাে কাজই ঠিকভাবে সম্পাদিত হয় না। কর্মবিমুখ ব্যক্তি অলসতার প্রশ্রয়ে যা কিছু চিন্তা-ভাবনা করে আকাশকুসুম রচনার মতােই ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ভীরুরা তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে পারে না, সকল কাজে ব্যর্থ হয়। জীবনকে তারা উপভােগ করতে পারে না, মরণের আগেই বহুবার মৃত্যুবরণ করে। সমাজ তাদের ধিক্কার জানায়, মরণের সাথে সাথে পৃথিবী থেকে তাদের নাম-নিশানা মুছে যায়। তাই জীবনকে সুচারুরূপে পরিচালনা করে পৃথিবীতে নিজের কীর্তিগাথা রচনা করতে চাইলে অবশ্যই সাহসী হতে হবে, অলসতা সম্পূর্ণভাবে পরিহার করতে হবে।

জগতের নিরন্তর কর্মযজ্ঞে ভীরু ও অলসপ্রকৃতির লােকদের কোনাে মূল্য নেই। বুকে সাহস নিয়ে পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বীয় অস্তিত্বের জানান দিতে হবে। তবেই জীবনে অর্জিত হবে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, পাওয়া যাবে শ্রেষ্ঠত্বের আসন।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *