বিদ্যা বিনয় দান করে, বিনয় দ্বারা জগৎ বশীভূত হয়

বিদ্যা বিনয় দান করে, বিনয় দ্বারা জগৎ বশীভূত হয় ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: বিদ্যা মানবজীবনের অমূল্য সম্পদ। সত্যিকার মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে এর কোনাে বিকল্প নেই। বিদ্যা অর্জনের মধ্য দিয়েই মানুষ বিনয়ী হতে শেখে। আর বিনয় মনুষ্যত্বের প্রকাশ ঘটায়। বিদ্বান ব্যক্তি নিজের জীবনকে সুন্দর ও সার্থক করে তােলার পাশাপাশি জগতের কল্যাণের প্রতিও দায়বদ্ধ থাকেন। ফলে জগৎ হয়ে ওঠে সুন্দর ও কল্যাণময় ।

ভাবসম্প্রসারণ: বিদ্যাহীন ব্যক্তির জীবন অজ্ঞা ও সংকীর্ণতার অন্ধকারে ডুবে থাকে। সে হয়ে পড়ে বিচার-বুদ্ধিহীন। চোখ থাকলেও মনের চোখ বন্ধ থাকে বলে তার মধ্যে বিনয়, নৈতিকতা, মননশীলতা, পরমতসহিষ্ণুতা- এক কথায় ব্যক্তিত্ব ও মনুষ্যত্বের পরিপূর্ণ স্ফুরণ ঘটে না। অন্ধকারে হাতড়ে বেড়ানাে এ ধরনের মানুষের কাছে জগতের কোনাে প্রত্যাশা নেই, বরং জগতের কাছে এরা বােঝা। অন্যদিকে একজন বিদ্বান লােক কেবল দেখার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখেন না, তার মনের চোখও থাকে খােলা। ন্যায়-অন্যায়, ভালাে-মন্দ বােধ তাঁকে বিনয়ী করে তােলে। শিক্ষিত লোক যতই জ্ঞানী হােক না কেন, তার আচরণ যদি ঔদ্ধত্যপূর্ণ হয় সমাজ, দেশ, জাতি, জগৎ কেউই তার দ্বারা উপকৃত হয় না। বর্তমানে জগৎ ছেয়ে গেছে হিংসা, বিদ্বেষ ও অরাজকতায়। বৈষম্যের কালিমায় কলুষিত হয়ে আছে জীবন। এ সকল অবস্থা থেকে পরিত্রাণের অন্যতম উপায় হলাে বিদ্যা। যা মানুষকে বিনয়ী করে তােলে। একজন বিনয়ী ব্যক্তি যতই ধনী হােক তার মধ্যে কোনাে অহংকার থাকে না। মায়া-মমতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে তিনি পৃথিবী অর্থাৎ পৃথিবীর মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হন। পৃথিবীতে বিরাজ করে শান্তি, শৃঙ্খলা ।

বিদ্যার্জনের মাধ্যমে অর্জিত বিনয় মানুষকে মনুষ্যত্বের মহিমায়উদ্ভাসিত করে। বিনয়ীজনের সংস্পর্শে যে আসে সেও আলােকিত হয়, তার মধ্যেও জাগ্রত হয় মনুষ্যত্ব। আর এ বিনয়ের স্পর্শে মনুষ্যত্বের আলােয় আলােকিত হয় জগৎ।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *