সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ

সাহিত্য জাতির দর্পণস্বরূপ ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: মানুষ এক অতুলনীয় উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী। এ শক্তির বলে সে সৃষ্টি করেছে জগদৃব্যাপী আধিপত্য, উন্নত সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং জাতির প্রাণসমতুল্য সাহিত্য। সাহিত্যে একটি জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা, জীবনেতিহাসের প্রতিফলন ঘটে, যেমনটি দর্পণে ঘটে আমাদের অবয়বের। আর তাই সাহিত্যকে জাতির দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।

ভাবসম্প্রসারণ: সাহিত্য এমন এক অমূল্য সম্পদ যেখানে মানুষের প্রাণশক্তি ও প্রতিভার উন্মেষ এবং যথার্থ স্ফুরণ ঘটে। মানুষ তার মনের নিগূঢ়তম আবেগ ও মনুষ্যত্বের ছোঁয়ায় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে তােলে। একটি জাতি যা কিছু ভালােবাসে, যাকে চিরস্থায়ী বলে মানে, যার আরাধনা করে তার সবকিছুর সম্মিলনে সাহিত্যকে রূপ দান করে। কালের গর্ভে সে জাতি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে, তার চিহ্ন নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে কিন্তু তার সাহিত্য থাকে চির অক্ষয়। তখন সেই সাহিত্যের মধ্যে সে জাতির নিদর্শন। খুঁজে পাওয়া যায়। কেননা সাহিত্য অবিনশ্বর ও কালাতীত। কালের ধুলােয় সাহিত্য মলিন হয়ে যায় না বরং জাতির কালিক মহিমা ও ইতিহাস আমাদের সম্মুখে মূর্ত করে তােলে। কোনাে জাতিকে সম্যকভাবে জানতে হলে তাই সে জাতির সাহিত্যকে জানা প্রয়ােজন সাহিত্যের মাধ্যমে জাতির মানুষের জীবনবৈশিষ্ট্য, আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতি সবকিছুর যথােপযুক্ত বিবরণ পাওয়া যায় আর তাই সাহিত্যের বিস্তৃতি অত্যন্ত ব্যাপক। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথা। তাঁর রচিত সাহিত্যকর্মে আমরা তৎকালীন সমাজের জীবনব্যবস্থা, আবেগ, অনুভূতি, আশা, হতাশা, রাগ, দুঃখ, প্রকৃতি সবকিছুর উজ্জ্বল বিবরণ খুঁজে পাই। তৎকালীন সময়ের মানুষের জীবনপ্রণালি তাই আমাদের সম্মুখে স্পষ্ট করে তুলেছে তাঁর রচিত সাহিত্য। গবেষকগণ প্রাচীন ও রেনেসাঁ যুগের বিবরণও খুঁজে পেয়েছেন তঙ্কালীন সাহিত্যে। সেজন্যেই সাহিত্য সদা জাগ্রত, জীবন্ত ও পবিত্র।

কোনাে জাতি সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হলে সে জাতির সাহিত্য সম্পর্কে জানা প্রয়ােজন। এ যেন এক অমূল্য সােনার কাঠি, যা রূপকথার রাজকুমারীর তন্দ্রাভঙ্গের মতাে মানবমনকে উদ্বোধিত করে আমাদের সামনে সমগ্র জাতির জীবনচিত্র তুলে ধরে। এজন্যেই বিখ্যাত সাহিত্যিক জন কিটস সাহিত্যকে জীবনের সৌন্দর্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *