ভাবসম্প্রসারণ: স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন |

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে স্বাধীনতা অর্জন করা অত্যন্ত দুরূহ কাজ। কিন্তু অর্জিত স্বাধীনতাকে যথার্থভাবে রক্ষা করতে আরও অনেক বেশি ত্যাগ, সাধনা, পরিশ্রম ও নিষ্ঠার প্রয়ােজন হয়। সর্বোপরি প্রয়ােজন দেশের জনগণের পারস্পরিক ঐক্য ও দেশপ্রেম।

ভাবসম্প্রসারণ: স্বাধীনতা সকলেরই কাম্য। স্বাধীনতা কথাটি যতই মধুর হােক না কেন, সহজ পথে তা লাভ করা যায় না। অনেক ত্যাগ, রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়। পৃথিবীতে কোনাে জাতিই বিনা কষ্টে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি।কেবল স্বাধীনতা অর্জনই শেষ কথা নয়, বহু কষ্টে অর্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষা করা আরও কঠিন। কারণ স্বাধীনতার শত্রুরা কখনােই অর্জিত স্বাধীনতার স্বাদ নির্বিঘ্নে ভােগ করতে দেয় না। স্বাধীনতা অর্জনের পর স্বাধীনতার বিপক্ষের শত্রুরা স্বাধীনতাকে বিনষ্ট করার জন্যে তৎপর হয়ে ওঠে। এ ধরনের শত্রু দেশের ভেতর ও বাইরে বিরাজমান থাকে। ভেতরের শত্রু যাতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, আবার বাইরের শত্রু যাতে তাদের সাথে হাত মিলাতে না পারে সেদিকে সকলেরই সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অপরদিকে বিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করা ও দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, অর্থনৈতিক উন্নতি করা খুবই কষ্টকর। সে কারণে কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে দেশের নারী-পুরুষ সকলেরই মাঠে, কলকারখানায়, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষ্টি ইত্যাদি দেশ গঠনমূলক কাজে আন্তরিকতার সাথে নিজেকে নিয়ােজিত করতে হবে। দেশের সকল নাগরিক যদি একতাবদ্ধভাবে দেশের অগ্রগতির জন্যে কাজ করে তবে স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার ভয় থাকে না। স্বাধীনতা লাভের পর যদি দেশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল থাকে, দেশের জনগণ সচেতন না হয়, যদি জনগণ দেশপ্রেমিক না হয় তবেই স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একতাবদ্ধ নাগরিক দেশের যেকোনাে বিপদ মােকাবিলা করতে পারে দৃঢ়ভাবে। প্রয়ােজনে রক্ত ও জীবন বিসর্জন দিতে এরা দ্বিধা করে না।

স্বাধীনতা লাভ করলেই কর্তব্য শেষ হয় না, একে মর্যাদার সাথে রক্ষা করে পূর্ণতা দিতে পারলেই অর্থবহ হবে। স্বাধীন জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে সকলকেই পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল, কর্তব্যপরায়ণ ও দেশপ্রেমিক হতে হবে।

একই ভাবসম্প্রসারণের ভিন্ন প্রতিলিপন

মূলভাব: যে কোনাে জাতির জীবনে স্বাধীনতা সূর্যকে ছিনিয়ে আনা কষ্টকর এবং তার চেয়েও কষ্টকর ঐ স্বাধীনতারক্ষা করা।

সম্প্রসারিত ভাব : স্বাধীনতা মানুষের অমূল্য সম্পদ। কোনাে মানুষই পরাধীনরূপে বেঁচে থাকতে চায় না। স্বাধীনতাঅর্জন অত্যন্ত গৌরবের ব্যাপার। তাই মানুষ স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন করে, যুদ্ধ করে। স্বাধীনতা অর্জনের জন্য অবর্ণনীয়দুঃখ-কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকার করতে হয় এবং অমূল্য জীবন বিসর্জনের মাধ্যমেই স্বাধীনতা আসতে পারে। কারণ স্বার্থমগ্ন।শক্তিশালী বেনিয়া শাসকেরা সহজে কোনাে জাতিকে স্বাধীনতা দিতে চায় না; বহু কষ্টে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই তাছিনিয়ে আনতে হয়। স্বাধীনতা অর্জিত হলেই সংগ্রাম শেষ হয়ে যায় না; তখন বিজয়ী জাতির সামনে আসে স্বাধীনতা রক্ষারসংগ্রাম। এ সংগ্রামে আরাে বেশি ত্যাগ-তিতিক্ষা ও শক্তি-সামর্থ্যের প্রয়ােজন হয়। কারণ স্বাধীন দেশের ভেতরে ও বাইরেশত্রুর অভাব নেই। এরা সুযােগের সন্ধানে তৎপর থাকে সারাক্ষণ। যে কোনাে সময় সুযােগ পেলে হিংসাত্মক কার্যকলাপের।মাধ্যমে স্বাধীনতাকে বিপন্ন করে তুলতে পারে। সুতরাং, এ ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল, মীরজাফরি চরিত্রের হিংসাত্মক দৃষ্টিথেকে দেশকে রক্ষার জন্য শক্তি ও বুদ্ধি প্রয়ােজন। যদিও তাদের পরাভূত করা কঠিন ব্যাপার। যথেষ্ট দায়িত্ব সচেতন, সদাসতর্ক, নিবেদিত প্রাণ, দেশপ্রেমিক ও শক্তিশালী না হলে স্বাধীনতাকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মন্তব্য : স্বাধীনতা রক্ষা করা স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে কঠিন ও দুরূহ কাজ। তাই স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সবাইকেপ্রাণপণ চেষ্টা করা উচিত।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *