স্বার্থপরতা মানবজীবনের উন্নতির পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক

স্বার্থপরতা মানবজীবনের উন্নতির পথে অন্যতম প্রতিবন্ধক ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: মানবজীবনের সার্থকতা স্বার্থপরতার সীমাবদ্ধ ক্ষেত্রে ঘুরপাক খাওয়া নয়। বরং আত্মকেন্দ্রিকতার বলয় থেকে মুক্ত হয়ে বিশাল জনসমাজের সাথে একাত্ম হওয়ার মধ্য দিয়েই জীবনে সত্যিকার সার্থকতা আসে। তাই নিজ স্বার্থচিন্তা নয়, মানবতার স্বার্থকে উচ্চে স্থান দিয়েই জীবনকে সার্থক করতে হবে।

ভাবসম্প্রসারণ: মানুষ ধরণীর বুকে শুধু নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্যে জন্মগ্রহণ করে না। সৃষ্টিরাজ্যে শ্রেষ্ঠ জীব মানুষ। এ শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের জন্যে তাকে দেওয়া হয়েছে বুদ্ধি ও বিবেকবােধ।তা দিয়ে সে মনুষ্যত্ববােধের বিকাশ ঘটায়, চিন্তা করে বৃহত্তর মানবসমাজের স্বার্থ নিয়ে। আত্মকেন্দ্রিকতার পরিবর্তে বৃহত্তর মানবতার স্বার্থচিন্তাই মানুষকে দেয় তার প্রকৃত পরিচয়। আমাদের আজকের বিশ্ব যুগ যুগ ধরে অগণিত পরহিতব্রতী মহামানবের অবদান, যারা আপন জীবনের কল্যাণচিন্তা নয়, পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত বিশাল মানবসমাজের কল্যাণচিন্তা করেছেন । চেষ্টা করেছেন নানামুখী মহৎ কর্ম ও সৃষ্টি দিয়ে একটা কল্যাণজনক সুন্দর পৃথিবী গড়ে তুলতে। তা কেবল তাদের কালের মানুষের কল্যাণের জন্যে নয় বরং অনাগত কালের বিশাল মানবসমাজের জন্যেও । অন্যকে আনন্দদানের মধ্যেই তারা নিজেদের জীবনের আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন। ফলে পরের কল্যাণে জীবনােৎসর্গকারী এসব মহৎ ব্যক্তি মানবহৃদয়ে অমরত্বের আসন পান। অন্যদিকে আত্মমগ্ন মানুষ নিজেকে নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকে যে পৃথিবীর বিশাল অঙ্গনে দৃষ্টি নিক্ষেপের সুযােগ সে পায় না। ফলে আপনবৃত্তে ঘুরপাক খেতে খেতেই তার জীবনাবসান ঘটে। মানবসমাজের সাথে একাত্মতা ঘােষণার যে অপার্থিব আনন্দ তা থেকে যায় তার ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন ধরনের মানুষ। সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হীনম্মন্য মানুষ। ব্যক্তিহৃদয়ে তার আসন সৃষ্টি তাে দূরে থাক, তার জন্যে সামান্যতম শ্রদ্ধাও সৃষ্টি হয়। আপন গণ্ডির চারপাশে প্রদক্ষিণ করতে করতে সে মানুষ হিসেবে তার স্বাভাবিক হৃদয়ধর্মও হারিয়ে ফেলে। কারাে ভালাে-মন্দ, মঙ্গল-অমঙ্গল, কল্যাণ-অকল্যাণ স্বার্থান্ধ মানুষের মনে কোনাে রেখাপাত করে না। ফলে মৃত্যুর সাথে সাথেই এদের অস্তিত্ব পৃথিবীর বুক থেকে পুরােপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে নিঃস্বার্থ পরােপকারী মানুষ কর্মের মধ্য দিয়ে আপন চৌহদ্দি পার করে বিশ্বমানবের প্রতিনিধি হয়ে ওঠেন। ফলে পৃথিবীর বুকে তিনি মহৎ মানুষ হিসেবে বেঁচে থাকেন চিরকাল।

মানবজীবনের প্রকৃত সার্থকতা বৃহত্তর মানবতার কল্যাণ-চিন্তার মধ্যে নিহিত। নিঃস্বার্থ পরােপকারিতার মধ্যে জীবনের প্রকৃত আনন্দ লাভ হয়। তাই আত্মসর্বস্বতার সকল দ্বার বন্ধ করে দিয়ে বৃহত্তর মানবসমাজের কল্যাণে নিজেকে নিয়ােজিত করতে হবে, যা কিছু মানুষকে পীড়িত করে তা রােধ করতে নিজের জীবন উৎসর্গে প্রস্তুত থাকতে হবে ।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *