ভাবসম্প্রসারণ: বিশ্রাম কাজের অঙ্গ এক সাথে গাঁথা নয়নের অংশ যেমন নয়নের পাতা |

বিশ্রাম কাজের অঙ্গ এক সাথে গাঁথা নয়নের অংশ যেমন নয়নের পাতা ভাবসম্প্রসারণ

ভাবসম্প্রসারণ: সুন্দর পৃথিবীতে কর্মমুখর জীবনের জন্যে পরিশ্রম ও বিশ্রাম দুটোই অপরিহার্য। এ যেন চোখ আর চোখের পাতার মতাে একটি অন্যটির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত। পরিশ্রমের মাধ্যমেই জীবনে সফলতা আসে আর বিশ্রাম কাজের শক্তি জোগায়। জীবনে সাফল্য পেতে হলে মানুষকে বহুবিধ কাজ করতে হয়। কঠোর পরিশ্রম ও কর্মসাধনাই একমাত্র পথ, যা মানুষের জীবনকে সার্থক করে তুলতে পারে। আর পরিশ্রম করার শক্তি ও প্রেরণা আসে বিশ্রামের অবকাশ থেকে। জীবনকে সার্থক করে তুলতে পারে। ফুলের পাপড়ি ছুঁয়ে উড়ে বেড়ায় যে প্রজাপতি, সে এক সময় ডানা গুটিয়ে নিশ্চল হয়ে বসে। অন্তহীন নীলিমায় উড়ে বেড়ানাে অবাধ বিহঙ্গা নেমে আসে মাটির বুকে, খানিকটা জিরিয়ে নেয়। যে মানুষটি মাথার ঘাম পায়ে ফেলে গাঁইতি চালিয়ে পাথর ভাঙে, সে হাতিয়ার ফেলে দু দণ্ড দাঁড়ায়। এ যে ক্ষণিক বিরতি। এ যে এতটুকু বিশ্রাম, এ তাে শুধু ক্লান্তি উপশম নয়, নতুন কর্মপ্রেরণায়, নবউদ্যমে উজ্জীবিত হয়ে পরবর্তী কাজের জন্যে প্রস্তুত হওয়া। পরিশ্রম ব্যতীত সময়টুকু হলাে অবকাশ । কাজ জীবনে আনে সমৃদ্ধি। আর বিশ্রাম আনে কাজে উদ্যম, শক্তি ও প্রেরণা। পরিশ্রমের পর শ্রান্ত ও ক্লান্ত দেহকে সুস্থ করে মৃত উদ্যম ফিরিয়ে আনার জন্যে যেমন বিশ্রামের প্রয়ােজন, তেমনি বিশ্রামের পর দেহের কর্মস্পৃহাকে সচল সজীব রাখার জন্যে নিয়মিত শ্রমেরও প্রয়োজন। দেহের পক্ষে একটানা পরিশ্রম যেমন ক্ষতিকর তেমনি একটানা বিশ্রাম মােটেও সুখকর নয়। একটানা বিশ্রাম জীবনকে করে তােলে অলস, অচল ও কর্মবিমুখ। পক্ষান্তরে, একটানা পরিশ্রমের ফলে দেহমনে ভর করে অবসাদ, লুপ্ত হয় দেহের কর্মক্ষমতা বিশ্রাম কোনাে বিলাসিতা কিংবা কর্মঘণ্টার অপচয় নয়। চোখের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ যেমন চোখের পাতা তেমনি কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ বিশ্রাম । পরিশ্রম ছাড়া বিশ্রামের কোনাে সার্থকতা নেই। কাজে আত্মনিবেদিত থাকার অজুহাতে বিশ্রামকে অস্বীকার করাও বিবেচনাপ্রসূত নয়।

তাই একতরফা কাজ অথবা একতরফা বিশ্রাম কোনােটাই জীবনের জন্যে কল্যাণকর নয়। কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম, বিশ্রামের পাশাপাশি কাজ— এমন ছন্দই জীবনে এনে দেয় সার্থকতা।

একই ভাবসম্প্রসারণের ভিন্ন প্রতিলিপন

মূলভাব : কাজ এবং বিশ্রাম একে অন্যের পরিপূরক। কাজ আনে জীবনে সমৃদ্ধি আর বিশ্রাম আনে কাজের শক্তি ওপ্রেরণা।

সম্প্রসারিত ভাব : কাজ ও বিশ্রাম আপাতদৃষ্টিতে বিপরীত বলে মনে হলেও প্রকৃত অর্থে তা একই প্রক্রিয়ার দুটি দিক।কাজের পাশাপাশি বিশ্রাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অনস্বীকার্য। চোখের পাতা যেমন চোখেরই একটা অংশ, তেমনি বিশ্রামওকাজের একটা অংশ। চোখের কাজ দেখা। কিন্তু চোখের পাতা সেই দেখার কাজ কখনও কখনও বন্ধ রেখে চোখকে অবদেয়। এতে চোখকে আরও বেশি কাজ করার সুযােগ দেওয়া হয়। আমরা যদি কিছু সময় একটানা কাজ করি, তবেআমাদের শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং কর্মক্ষমতা লােপ পায়, একঘেয়েমির ফলে আসে গভীর অবসাদ ও ক্লান্তি। এ ধরনেরপরিস্থিতি উত্তরণের জন্য আমরা বিশ্রামের প্রয়ােজন অনুভব করি। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে আমাদের ক্লান্তি দূর হয়, মন প্রশান্তহয় এবং আমাদের কর্মশক্তি ফিরে আসে। আমরা তখন নতুন উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজে আত্মনিয়ােগ করতে সক্ষমহই। আর বিশ্রাম ছাড়া যদি আমরা ক্রমাগত কাজ করতে থাকি, তাহলে আমাদের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তাইকাজের সফলতার জন্য এবং বেশি শক্তি অর্জনের জন্য কাজের সাথে উপযুক্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য : কাজ ও বিশ্রাম একে অপরের সাথে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে ভাবা যায় না। তাই কাজের সাথেসাথে বিশ্রামের প্রতিও গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *