অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখি অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

প্রশ্নঃ অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখি নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

অতিথি পাখি অনুচ্ছেদ ১

বরফাচ্ছন্ন শীতপ্রধান অঞ্চলের ঠান্ডার প্রকোপ থেকে বাঁচতে এবং অপেক্ষাকৃত উষ্ণ আবহাওয়ার সুখ অনুভব করতে সুদীর্ঘ পথ পেরিয়ে পরিযায়ী পাখিরা আসে নাতিশীতােষ্ণ আবহাওয়ার দেশ বাংলাদেশে । শীতকালে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটে থাকে এবং শীত শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখিরা তাদের আগের আবাসের উদ্দেশে উড়াল দেয় । অল্পসময় অবস্থানের জন্যে এদেশে আসে বলে এই পাখিরা আমাদের অতিথি। দেশের দক্ষিণাঞলের সুন্দরবন, সুনামগঞ্জের হাওর, ঢাকার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা চিড়িয়াখানার জলাশয়গুলােতে এরা সাময়িক আবাস গড়ে তােলে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, খুলনা ও যশােরের বিলগুলােতেও অনেক পাখি আশ্রয় নেয়। পুরাে শীত জুড়েই জলে বা জলার ধারে থাকে পরিযায়ী পাখির বিচরণ। মূলত হিমালয়ের পাদদেশ থেকে এবং সুদূর সাইবেরিয়া বা উত্তর ইউরােপ পাড়ি দিয়ে এরা শীতের অতিথি হয়ে আসে। পরিযায়ী পাখিদের মধ্যে কাইন, রাঙ্গো, টেকুর, ডাক, বালিহাঁস, কোড়া, কুদলা, হাঁস জাতীয় পাখি, চখাচখি, বড় দিঘির গুলিন্দা ইত্যাদি উল্লেখযােগ্য। জলার ধারে আশ্রয় নেওয়া এই পাখিগুলাের বিচরণ যেমন একদিকে হৃদয়গ্রাহী, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু কিছু মানুষের নিষ্ঠুর আচরণ শীতের এই অতিথিদের অবাধ বিচরণকে সংকটময় করে তােলে। প্রতিবছরই শীতের সময় কিছু মানুষ পরিযায়ী পাখি নিধনযজ্ঞে মেতে ওঠে, যা অনৈতিক। বাস্তবে পরিযায়ী পাখিদের অতিথির মতােই সাদরে গ্রহণ করা উচিত। তাদের জন্যে তৈরি করা উচিত অভয়ারণ্য। এই পাখিরা শুধু আমাদের দেশে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতেই আসে না; তারা নিয়ে আসে সাম্য-মৈত্রীর বার্তাও। পরিযায়ী পাখিরা আমাদের সামনে কাঁটাতারমুক্ত অবাধ বিচরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে যায় । বিশ্বায়নের যুগে এই বার্তাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই পরিযায়ী পাখি সংরক্ষণে বিশেষভাবে সচেতন হতে হবে। প্রতিরােধ করতে হবে পাখি শিকারিদের । তবেই আমাদের বাংলাদেশ হবে পরিযায়ী পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল।

অতিথি পাখি অনুচ্ছেদ ২

অতিথি পাখি বলতে একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে একস্থান থেকে অন্যস্থানে আশ্রয় নেওয়া পাখিদের বােঝায়। শীতকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশে অতিথি পাখি আসে আশ্রয়ের সন্ধানে। ঋক বেঁধে যখন অতিথি পাখি আসে তখন সে দৃশ্য কত যে অপরূপ তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। এ সব পাখির কলকাকলিতে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠে দেশের নানা প্রান্তের হাওর, বাঁওড়, বিল, লেকসহ অসংখ্য জলাশয়। বালিহাঁস, বাটুল, চখাচখি, শামুকখােল, খােপাডুবুরিসহ নানা বর্ণ ও আকৃতির পাখির চঞ্চল ওড়াউড়ি মুগ্ধ করে যেকোনাে মানুষকে। এসব পাখি একদিকে যেমন আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবুও এক শ্রেণির অসাধু শিকারির কবল থেকে রক্ষা পায় না দূর প্রবাসের এই অতিথি পাখিগুলাে। হাজার হাজার মাইল পথ অতিক্রম করে যেসব পাখি আসে। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, সেগুলাে অস্তিত্ব বিসর্জন দেয় হৃদয়হীন শিকারির ফাঁদে। শিকারকৃত এসব পাখি গ্রামের বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হয় অবলীলায়। অথচ বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুসারে অতিথি পাখি শিকার ও বিক্রয় করা দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এ আইনের সুই প্রয়ােগ নেই বলে শুধু পেশাদার নয়, অনেক শৌখিন শিকারিও অতিথি পাখি শিকার করে। আমাদের কর্তব্য অতিথি পাখিগুলােকে বসবাসের উপযােগী স্থান করে দেওয়া। সেগুলাের জন্য অভয়ারণ্য তৈরি করা, আশ্রয়কালীন সময়টুকুকে নিরাপদ ও আনন্দময় করে তােলা। আর এজন্য মানুষকে হতে হবে প্রকৃতি ও পাখ-পাখালি প্রেমী, পরিত্যাগ করতে হবে ক্ষুদ্রস্বার্থকে। তা ছাড়া বিচিত্র ধরনের এসব পাখি যেন কারও লালসার শিকার না হয় সেদিকে সবার সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। অতিথি পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে সবাইকে জানাতে হবে। একটি পাখিও যাতে শিকারির লােলুপ দৃষ্টির সম্মুখীন না হয় সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই রক্ষা পাবে অতিথি পাখি এবং সুরক্ষিত হবে পরিবেশের ভারসাম্য।

অতিথি পাখি বা পরিযায়ী পাখি অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *