সত্যবাদিতা অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

প্রশ্নঃ সত্যবাদিতা নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তরঃ

সত্যবাদিতা অনুচ্ছেদ ১

সত্য আলাের সমতুল্য। সত্যকে অবলম্বন করে যে পথ বিকশিত হয় তার নাম সত্যবাদিতা। সত্যবাদিতা মানব চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। এটি ব্যক্তিমানুষের আচরণগত একটি বিশেষ মূল্যবােধ। পৃথিবীতে সত্যের চেয়ে বড় আরাধ্য আর কিছু নেই। মানবজীবন সত্যের সমুজ্জ্বল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। সত্যের অনুসরণে জীবন সুন্দর ও সার্থক হয়ে ওঠে। সেই সত্যকে যথাযথভাবে প্রকাশের নামই সত্যবাদিতা। সত্যবাদিতা মানে শুধু ‘মিথ্যা না বলা’ নয়। বরং কোনাে কিছু গােপন না করে অকপটভাবে সব প্রকাশ করাই হচ্ছে সত্যবাদিতা । সত্যের পথ কঠিনতর ও কণ্টকময়। তাই, সত্যবাদী হতে গেলে জীবনের সর্বক্ষেত্রে কথা ও কাজে এই গুণটির চর্চা আবশ্যক। সত্যবাদী মানুষ সবার কাছে বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধার পাত্র হিসেবে গণ্য হয়ে থাকেন। যুগে যুগে মহামানবগণ সত্যবাদিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। সত্যবাদিতার গুণে তারা একদিকে যেমন সবার শ্রদ্ধা ও ভালােবাসা পেয়েছেন তেমনি সত্যের বিক্রমেই অন্ধকারকে দূরীভূত করে সমাজকে দিয়ে গেছেন সুন্দর পথের দিশা। শুধু ব্যক্তিজীবনেই নয়, জাতীয় জীবনে তথা সামাজিক জীবনব্যবস্থায় সত্যবাদিতার চর্চা একান্ত প্রয়ােজন। সত্যের আলােকে রাষ্ট্র ও সমাজ গড়তে পারলে তা হয়ে উঠবে শান্তিপূর্ণ ও বাসযােগ্য। যে সমাজে সত্যের চর্চা নেই সে সমাজ কালক্রমে অন্ধকারে নিপতিত হয়। কারণ সমাজে সত্যের জয় ও মিথ্যার পরাজয় সুনিশ্চিত। বিভিন্ন ধর্মেও সত্যবাদিতাকে বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়েছে, সদা সত্য পথে চলতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। তাই আমাদের জীবনকে অবশ্যই সত্যবাদিতার মাধুর্যে মণ্ডিত করতে হবে। মিথ্যার আশ্রয়ে সাময়িক শান্তি ও সাফল্য লাভ করা যেতে পারে বটে, কিন্তু তা আসলে ক্ষণস্থায়ী। পক্ষান্তরে সত্যবাদিতার মাধ্যমে শান্তি ও সৌহার্দের স্থায়ী ভিত্তি নির্মাণ সম্ভব। কারণ সততা তথা সত্যবাদিতার গুণেই মানুষের মনুষ্যত্ব বিকশিত হয়। বলা যায়, সত্যবাদিতা মানবসমাজের অগ্রগতি ও কল্যাণের অন্যতম মৌল ভিত্তি। তাই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় সত্যবাদিতার অনুশীলন করা।

সত্যবাদিতা অনুচ্ছেদ ২

সত্য বলার অভ্যাসকে সত্যবাদিতা বলে। এটি একটি মহৎ গুণ। সত্য মানুষকে নিয়ে যায় মর্যাদার পথে, গৌরবময় স্থানে, যা তাকে সকল মানুষের কাছে আদর্শ হিসেবে তুলে ধরে। সত্যবাদিতা মানব চরিত্রের অলংকার। সত্যবাদিতা মানুষের আদর্শের বৈজয়ন্তী। সমাজে সত্যবাণীকে সবাই পছন্দ করে, তার প্রতি মানুষের পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস থাকে। কারণ, সত্যবাদী ব্যক্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে সততার পরিচয় দেন। তার যারা কখনাে কারও কোনাে ক্ষতি সাধিত হয় না। প্রকৃতপক্ষে সত্যবাদিতা মানুষের জীবনে এক অনন্য পরশপাথর; যার স্পর্শে জীবন হয়ে উঠে শুভ্র ও সুন্দর। প্রতিটি ধর্মেই সত্যবাদী হওয়ার ব্যাপারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সত্যবাদিতা মানুষের মধ্যে কল্যাণময় জীবনের উন্মেষ ঘটায়। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ। আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদী লােকের সঙ্গে থাক।” মানুষ মুক্তি ও সফলতা লাভ করে সত্যবাদিতার মাধ্যমে। মহানবী (স.) বলেছেন, “সত্যবাদিতা মানুষকে মুক্তি দেয় আর মিথ্যা ডেকে আনে ধ্বংস।” যে ব্যক্তি সত্যকে জীবনপথের পাথেয় হিসেবে গ্রহণ করেন তিনি কখনাে কোনাে কাজে ব্যর্থ হন না। সত্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তিনি সকল বাধা-বিপত্তি জয় করে সফলতার স্বর্ণশিখরে আরােহণ করেন। তাই জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সত্যবাদিতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করতে হবে। এজন্য শৈশবেই যেন শিশুরা সত্যবাদিতার ধারণা লাভ করে এবং জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে সেদিকে পিতামাতা বা অভিভাবকদের বিশেষ লক্ষ রাখতে হবে। সত্যবাদিতা ব্যক্তিকে মর্যাদার আসনে আসীন করে। জীবনে সফলতা লাভ করতে হলেও সত্যবাদিতার বিকল্প নেই। সত্যবাদিতার অভাব থেকে সকল পাপাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠে এবং মানুষ আদিম যুগের অন্ধকারের দিকে এগিয়ে চলে। তখন আর কোনাে অবৈধ কাজই তার কাছে অন্যায় বলে বিবেচিত হয় না। তাই আমাদের সকলের উচিত জীবনে সত্যবাদিতার অনুশীলন করা। সত্যবাদিতাই হােক আমাদের সকলের জীবনের মূলমন্ত্র।

সত্যবাদিতা অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *