Faria Hasan / December 28, 2020

কর্তব্যনিষ্ঠা রচনা (700 word) | JSC, SSC |

Spread the love

কর্তব্যনিষ্ঠা রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • কর্তব্যনিষ্ঠা কী
  • কর্তব্যনিষ্ঠার প্রয়ােজনীয়তা
  • কর্তব্যনিষ্ঠার ফল
  • কর্তব্যনিষ্ঠার প্রকাশ
  • কর্তব্যনিষ্ঠা চর্চার গুরুত্ব
  • উপসংহার

কর্তব্যনিষ্ঠা রচনা

ভূমিকা:

কর্তব্যকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে যথাযথভাবে পালন করাই কর্তব্যনিষ্ঠা। মানুষ জীবনে সফল হতে চাইলে এ বিশেষ গুণটি তার আয়ত্ত করা চাই। জীবনের ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে নানাভাবে কর্তব্য এসে মানবজীবনে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে যায়। কর্তব্য সম্পাদন থেকে মানুষ পরিত্রাণ আশা করতে পারে না। কর্তব্যকে এড়িয়ে যাওয়ার মধ্যে সম্মান নিহিত নেই, বরং কর্তব্য পালনের মধ্যেই মানুষের তৃপ্তি পাওয়া উচিত। কর্তব্যনিষ্ঠ মানুষমাত্রই সফল জীবনের অধিকারী। তাই কর্তব্যনিষ্ঠাই অগ্রযাত্রার সােপান।

কর্তব্যনিষ্ঠা কী:

সাধারণত কাজের প্রতি আগ্রহ এবং নিষ্ঠাকে কর্তব্যনিষ্ঠা বােঝায়। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুচারুরূপেপালন, বিবেকবােধে উজ্জীবিত হয়ে আপন কর্তব্য সম্পাদন, দায়িত্বকে সম্পূর্ণভাবে আন্তরিকতা দিয়ে গ্রহণ করা কর্তব্যনিষ্ঠার লক্ষণ। নামেমাত্র কাজ করা কাজ হলেও কর্তব্যনিষ্ঠা নয়। কেননা সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা কর্তব্যের মধ্যেও ভেজাল ঢুকিয়ে দেন। দায় সারা গােছের কর্তব্য পালনে কোনাে কৃতিত্ব নেই বরং এহেন কর্মও সুকর্ম নয়। কাজে শতভাগ মনােযােগ এবং প্রজ্ঞার পরিচয় না থাকলে তা কর্তব্যনিষ্ঠা নয়। যুগে যুগে বিশ্বজুড়ে সমাজ ও সভ্যতার যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার মূলেও আছে কর্তব্যনিষ্ঠ মানুষের কঠোর শ্রম। কর্তব্যের ধরন ও প্রকৃতি: স্থান, কাল, অবস্থান ও কর্ম দক্ষতার বৈচিত্র্যই কর্তব্যের প্রকৃতিকে দেয় নানা মাত্রিকতা । এক জন শিক্ষকের কর্তব্য এবং ছাত্রের কর্তব্য এক ধরনের নয়। আবার একজন গৃহকর্তার কর্তব্য এবং পেশাজীবীর কর্তব্যেও আছে বৈচিত্র্য। কর্তব্য কাজে নানা বৈচিত্র্য থাকলেও মানুষ হিসেবে সকলেরই কিছু সাধারণ দায়িত্ব আছে সেগুলােকে মৌলিক দায়িত্বও বলা যেতে পারে। পরিবারের সদস্য হিসেবে একে অন্যের প্রতি করণীয় কর্তব্য পালন করা এবং সামাজিক জীব। হিসেবে সমাজের কল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সংযুক্ত করাও কর্তব্যবােধের উদাহরণ।

কর্তব্যনিষ্ঠার প্রয়ােজনীয়তা:

ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনে শুধু কর্তব্যনিষ্ঠার বিষয়টি জড়িত নয়। একজন ব্যক্তি একটি দেশ বা রাষ্ট্রে বাস করে বলে তার ওপর নাগরিক কর্তব্যের বিষয়টিও বর্তায়। নাগরিকের দায়িত্ব পালন প্রকৃতপক্ষে জাতিকে অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। যে দেশের নাগরিক যতবেশি কর্তব্যনিষ্ঠ সে দেশের নাগরিকদের নাগরিকমান এবং দেশ তত উন্নত। বিশ্বে যে কয়টি দেশ অর্থনৈতিকভাবে সর্বোচ্চ সমৃদ্ধিশীল বলে বিবেচিত সেসব দেশের মানুষ কর্তব্যনিষ্ঠ — এ সত্যটি আজ সংশয়হীনভাবে স্বীকৃত। ব্যক্তিজীবনে সাফল্য পেতে হলেও মানুষকে কর্তব্যনিষ্ঠ হতে হবে। পৃথিবীতে যত জ্ঞানী-গুণী সাফল্যের স্বর্ণতােরণে উত্থিত হয়েছেন তাদের সকলের মধ্যে ছিল কর্তব্যনিষ্ঠার মতাে মহৎ গুণ। কর্তব্যনিষ্ঠ না হয়ে দিবাস্বপ্ন দেখলে জীবনে সাফল্য ধরা দেয় না। তাই কর্তব্যনিষ্ঠাকে সর্বাগ্রে মূল্য দিতে হবে, কর্তব্যকে গ্রহণ করতে হবে আন্তরিক আগ্রহে।

কর্তব্যনিষ্ঠার ফল:

কর্তব্যনিষ্ঠার প্রধান ফল হচ্ছে সাফল্য। বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের যেখানে সাফল্যের উদাহরণ বর্তমান সেখানে রয়েছে কর্তব্যনিষ্ঠার নিপুণ প্রয়ােগ । মানুষের কর্তব্য নিষ্ঠাই বিকাশ ঘটিয়েছে সভ্যতা ও সংস্কৃতির। চলমান সময়ে প্রযুক্তির সাহচর্যে এসে মানুষ যে সুখ ভােগ করছে এর পেছনে আছে মানুষের কর্তব্যনিষ্ঠা । বিজ্ঞানী, শিল্পী, সাহিত্যিক যারা জগতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তা প্রকৃতপক্ষে তাদের কর্তব্যনিষ্ঠারই ফল। তারা দিনে দিনে সঠিক কর্তব্য সম্পাদনের মধ্য দিয়ে। এগিয়ে গেছেন সাফল্যের দিকে। তাই আগামী সাফল্যকে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে ধারণ করতে হলে আমাদের হতে হবে কর্তব্যপরায়ণ ।

কর্তব্যনিষ্ঠার প্রকাশ:

প্রত্যেকটি মানুষের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সে কেমন করে পালন করে তার মধ্য দিয়ে প্রকাশ ঘটে কর্তব্যনিষ্ঠার । জীবিকার অনিবার্য প্রয়ােজনে মানুষ চাকরি গ্রহণ করে। কিন্তু চাকরিকালে সকলেই কর্তব্যনিষ্ঠার সমান পরিচয় প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। কেউ কেউ কেবল সময়কে অতিক্রমের চেষ্টায় ব্যস্ত। মাস গেলে মাইনে পাবে আর অবসর জীবনে পাবে অবসর ভাতা এ নিয়ে ভাবনা যার তার পক্ষে কর্তব্যনিষ্ঠ হওয়া কঠিন। কর্তব্যনিষ্ঠ ব্যক্তি অতি সহজেই অন্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। ফলে তার কর্মজীবন হয়ে ওঠে আনন্দময়। কাজের মধ্য দিয়েই কর্তব্যনিষ্ঠ ব্যক্তি সকলের কাছে। সদগুণের প্রতিষ্ঠা করে। পক্ষান্তরে, কর্তব্যনিষ্ঠ নয় এমন ব্যক্তি সহকর্মীদের কাছে পরিচিত হন মন্দ মানুষ হিসেবে। তাই প্রতিটি মানুষের উচিত কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে কর্তব্যনিষ্ঠার পরিচয় প্রতিষ্ঠা করে জাতীয় উন্নতি ত্বরান্বিত করা।

কর্তব্যনিষ্ঠা চর্চার গুরুত্ব:

কর্মদক্ষতা ও অবস্থানগত কারণে কারও কর্তব্য পালনের ক্ষেত্রটি ছােট আবার কারও ক্ষেত্রটি বড় তাই বলে কর্তব্য ছােট নয়। সকল কর্তব্যই কর্তব্য। মানবজীবনে কর্তব্য চর্চার বিষয়টি বিশেষ প্রয়ােজন কেননা কর্তব্যবােধ হঠাৎ করে জন্মায় না, তাকে চর্চা করার মধ্য দিয়ে নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠা করতে হয়। কথায় বলে কর্তব্যের কাছে ভাই-বন্ধুকেউ নেই।’ কর্তব্যনিষ্ঠ নয় এমন যে কেউ কর্তব্য পালনে কর্তব্যহীনতার পরিচয় দিতে পারে। বিচারকের আসনে বসে স্বজন-পরিজনকে ক্ষমা করে দেবার চেষ্টা কর্তব্যনিষ্ঠার উদাহরণ নয়। তাই কর্তব্যনিষ্ঠা চর্চা থাকলেই কর্তব্যের কাছে ভাই-বন্ধুনেই’— কথাটি সত্য হতে পারে। স্বাধীন জাতি হিসেবে, আত্মমর্যাদাবােধ সম্পন্ন জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেতে হলে প্রয়ােজন।কর্তব্যনিষ্ঠাকে সমাজজীবনে চর্চা করা, কর্তব্যনিষ্ঠাকে জাতীয় চরিত্রের বৈশিষ্ট্য হিসেবে গ্রহণ করা। কবির ভাষায়—

“দুঃখ সুখ দিবস রজনী মন্ত্রিত করিয়া তােলে জীবনের মহামন্ত্রধ্বনি শত শত সাম্রাজ্যের ভগ্নশেষ পরে। ওরা কাজ করে।’

উপসংহার:

ব্যক্তির কর্তব্যনিষ্ঠার প্রভাব পড়ে সমাজজীবনে। তাই একটি উন্নত সমাজ বিনির্মাণে সকলের কর্তব্যনিষ্ঠ হওয়া জরুরি। জাতি কর্তব্যনিষ্ঠ হলে জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত। পক্ষান্তরে, জাতি কর্তব্যনিষ্ঠ না হলে তার ধ্বংসও ঠেকিয়ে রাখা যায়। অতএব কর্তব্যনিষ্ঠার গুরুত্বের কথা স্বীকার করে এর চর্চা এবং সকলের মাঝে বিস্তার ঘটানােই আমাদের করণীয়।

FILED UNDER : রচনা

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি