নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধ রচনা (৫০০ শব্দ) | JSC, SSC |

নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধ রচনার সংকেত (Hints)

  • ভূমিকা
  • নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের স্বরূপ
  • সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবােধের গুরুত্ব
  • অনৈতিক মূল্যবােধের অবক্ষয়ের কারণ
  • মূল্যবোেধর অবক্ষয়ের ফল
  • অবক্ষয় রােধে পদক্ষেপ
  • উপসংহার

নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধ রচনা

ভূমিকা:

‘নৈতিক’ কথাটি নীতির সাথে সম্পর্কযুক্ত। সকল ক্ষেত্রে সুনীতিই নৈতিক মূল্যবােধের নিয়ামক। ব্যক্তিজীবনে এবং সামাজিক জীবনে কোনাে মানুষ কোনাে কালেই সকলের শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততা লাভ করতে পারে না যদি তার না থাকে নৈতিক মূল্যবােধ। নৈতিক মূল্যবােধের বিষয়টি শুভবােধ, সৎ চিন্তা, সততা, নির্লোভ জীবন পদ্ধতির সাথেও সম্পৃক্ত।

নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের স্বরূপ:

যে ব্যক্তি ব্যক্তিজীবনে সত্য কথা বলাকে অভ্যাসে পরিণত করতে পারেনি তার মধ্যে নৈতিক মূল্যবোেধ আশা করা অসংগত। পরােপকার করতে যার মন কাঁপে, লােভের বশবর্তী হয়ে যে অন্যের অধিকার হরণ করে তার মধ্যে সুনীতি আশা করা যায় না। সামাজিক জীবনে পরহিত কামনা করা, কল্যাণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া, সৎচিন্তা চর্চা করা, মিথ্যাকে পরিহার করে সত্য সুন্দর ন্যায়সংগত জীবনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার মধ্যে নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ করা যায় নৈতিক মূল্যবােধ তাই মানুষের শ্রেষ্ঠ অলংকার।

সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবােধের গুরুত্ব:

সমাজের প্রধান উপকরণ মানুষ। মানুষই সমাজকে উঁচুতে আসীন করে আবার মানুষের অনৈতিক কর্মকাণ্ডই কোনাে সমাজকে ভরাডুবি করে। নৈতিক মূল্যবােধসম্পন্ন মানুষ স্বভাবতই উত্তম চরিত্রের হয়ে থাকে। তাই সৎ, চরিত্রবান মানুষের প্রভাব পড়ে সমাজে। ফলে কোনাে সমাজ হয়ে ওঠে উঁচু আদর্শের সমাজ। সমাজে দরকার আলােকিত মানুষ যারা নিজেরা আলােকিত এবং সমাজকেও আলােকিত করে। আর নৈতিক মূল্যবােধ যার প্রখর নয় সে তাে আলােকিত মানুষ নয়। তাই সুন্দরের প্রয়ােজনে নৈতিক মূল্যবােধের প্রয়ােজনীয়তা অসীম। যে মাজে নৈতিক মূল্যবােধসম্পন্ন মানুষ যত বেশি সে সমাজ তত সুখী ও সমৃদ্ধ। সমাজে নৈতিক জ্ঞানসম্পন্ন মানুষের অভাব হলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা অসম্ভব আর ন্যায়বিচার যেখানে অনুপস্থিত সেখানে শান্তি নির্বাসিত। তাই সমাজজীবনে নৈতিক মূল্যবােধের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

অনৈতিক মূল্যবােধের অবক্ষয়ের কারণ:

কোনাে একটি বিশেষ কারণে মানুষের নৈতিক মূল্যবােধের পতন ঘটে না। নানাবিধ কারণে এ অবক্ষয়ের শিকার হয় মানুষ । সমাজজীবনে চরম দারিদ্র্য, শিক্ষিত বেকারের কর্মহীনতা, ভােগবাদী মানুষের বিলাসী প্রতিযােগিতা, আপাত স্বার্থের লােভে পতিত হওয়া, জাতীয় জীবনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না থাকা, ধর্মীয় বিধিনিষেধকে গুরুত্ব না দেওয়া ইত্যাদি কারণেই মানুষ তার নৈতিক মূল্যবােধ হারায়। মানুষ যখন নৈতিক মূল্যবােধ হারায় তখন প্রকৃতপক্ষে তার উৎকৃষ্ট চরিত্রকেই হারায় । আর মানুষের চরিত্রই যখন থাকে না তখন আর অন্য কিছু থাকলেও বা কি!

মূল্যবোেধর অবক্ষয়ের ফল:

নৈতিক মূল্যবােধের অবক্ষয়ের ফলাফল হচ্ছে অসুন্দর সমাজ। সমাজজীবনে অন্যায়, দুর্নীতি আর অনিয়ম নৈতিক মূল্যবােধের অবক্ষয়েরই ফল। মূল্যবোেধ ভেঙে পড়লে সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে পেশিশক্তির প্রয়ােগে ক্ষমতাবানরা ক্ষমতাহীনের ওপর উৎপীড়ন চালায় সহজেই। মানসভ্যতা যখন চরম উন্নতির পথে ধাবমান তখন পরিতাপের হলেও স্বীকার্য আমাদের দেশে মূল্যবােধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। ফলে দুর্নীতিতে সর্বোচ্চ শিখরে আসীন আমাদের দেশ। বিশ্বজনের কাছে এ সংবাদ– জাতি হিসেবে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করে না বরং আমাদের আত্মমর্যাদাবােধ আজ কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন। মূল্যবােধের অবক্ষয়ের ফলেই সমাজে দুবৃত্তের দল অন্যায় সংঘটনে সাহস পায়। চাঁদাবাজি, রাহাজানি ওঅরুচিপূর্ণ বিনােদনে মানুষ মত্ত থাকে তখনি যখন মানুষের মূল্যবােধ থাকে না। একটি সমাজে বা জাতির জীবনে মূল্যবােধের এমন অবক্ষয় কাটিয়ে উঠতে না পারলে তারা নিক্ষিপ্ত হবে আস্তাকুঁড়ে। সভ্য জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হলে নৈতিক মূল্যবােধের এ পতনকে রুখে দিতে হবে ।

অবক্ষয় রােধে পদক্ষেপ:

নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের এ অবক্ষয় রােধ করার দায়িত্বটি প্রথমে ব্যক্তি নিজে এবং পরিবার থেকে শুরু করতে হবে। নিজে ব্যক্তিগতভাবে সুনীতি ও শুভবােধের চর্চার মধ্য দিয়ে পরিবার ও সমাজকে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং নীতিবােধসম্পন্ন দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে হবে। নৈতিক মূল্যবােধের পরিপন্থি বিনােদনমূলক অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ আরােপ করতে হবে। দেশের জনগণকে উচ্চ মূল্যবােধসম্পন্ন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তােলার জন্যে সমাজে মূল্যবােধে জাগ্রত নিবেদিত প্রাণ উপযুক্ত ব্যক্তিকে পুরস্কারের মধ্য দিয়ে অন্যদেরকে উৎসাহিত করা যেতে পারে।

উপসংহার:

একটি সুন্দর কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের তাগিদ থেকে আমাদের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবােধের জাগরণ জরুরি। সত্য, সততা ও ন্যায়কে আমরা হ্যা বলব । জীবনে সকল পর্যায়ে সুনীতি, সুবচন ও শুভ বােধ হােক আমাদের চর্চার বিষয়। তবেই আমরা উন্নীত হব সম্মানজনক সামাজিক জীবনে।।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *