যানজট অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

প্রশ্নঃ যানজট নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ।

উত্তরঃ

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ১

যানজট আমাদের দেশের অতি পরিচিত দৃশ্য, আলােচিত বিষয় এবং নাগরিক জীবনের এক ভােগান্তির অনুষঙ্গ। রাস্তায় প্রয়ােজনের তুলনায় অতিরিক্ত গাড়ি যখন স্বাভাবিক গতিতে চলতে ব্যর্থ হয় তখন আমরা তাকে যানজট বলি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনার ত্রুটি যানজটের একটি অন্যতম কারণ। তবে যানজটের প্রধান দুটি কারণ হলাে— অবৈধ রাস্তা দখল এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা। একটি মেগাসিটিতে শহরের আয়তনের ২৫% রাস্তা থাকতে হয়। কিন্তু ঢাকায় আছে মাত্র ৮%। এই রাস্তার অনেক জায়গা আবার বিভিন্ন অবৈধ দখলদারের হাতে। রাস্তায় দোকানপাট, ময়লার ভ্যান, যত্রতত্র গাড়ি রেখে রাস্তাকে সংকীর্ণ থেকে আরও সংকীর্ণতর করে ফেলা হচ্ছে। ট্রাফিক আইন অমান্য করার ফলে রাস্তার স্বাভাবিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এছাড়া চালকের অদূরদর্শিতা, শহরমুখী মানুষের স্রোত, অপ্রশস্ত রাস্তা প্রভৃতি বিষয়ও যানজটের অন্যতম কারণ। যানজট দেড় কোটি নগরবাসীর জীবন থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক লাখ ঘণ্টা কেড়ে নিচ্ছে। যানজটের কারণে রাস্তাঘাটে ছিনতাইয়ের মতাে বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। আমাদের মূল্যবান সময়কে আমাদেরই ভুলে যানজটের কাছে হারাতে হচ্ছে। কর্মক্লান্তির পর যানজটে আবদ্ধ থাকা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তােলে। প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ আইন,আইনের কঠোর প্রয়ােগ প্রভৃতি বিষয় যানজট নিরসনে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে । শহরকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। যানজট নিরসনে আমাদের সবার সচেতনতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। উন্নয়নের পথে আমাদের যে যাত্রা, সে যাত্রাকে আরও গতিশীল করতে যানজট সমস্যা সমাধানের কোনাে বিকল্প নেই।

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ২

যদি কোনাে কারণে বেশ কিছু যানবাহন রাস্তায় প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে, তখন এটিকে যানজট বলে। আমাদের দেশের বড় বড় শহরে এটি একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। সাধারণত এটি শহরের ব্যস্ততম এলাকায় সংঘটিত হয়ে থাকে। নগর জীবনের নাগরিক সমস্যাগুলাের মধ্যে এটি অন্যতম। প্রতিদিন শহরের জনগণকে এই অসহনীয় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব যানজটের প্রধান কারণ। বাস, প্রাইভেট কার, অটোরিকশা, রিকশা প্রভৃতির সংখ্যা বৃদ্ধিই এর জন্য দায়ী। এ ছাড়াও আমাদের দেশের যান চলাচল ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়। যানবাহনের চালকরা তাদের ইচ্ছামতাে যানবাহন চালাতে চায়। অবৈধভাবে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং করাও যানজটের জন্য দায়ী। এটি যাত্রী ও পৃথচারী উভয়ের জন্যই অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট বয়ে আনে। এটি আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে এবং আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যানজটের ফলে শুধু ঢাকাতেই গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া যানজটের কারণে প্রতিদিন যে বাড়তি জ্বালানি পােড়ে তা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বােঝা হয়ে দাঁড়ায়। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়ােগ করতে হবে। চলাচলের অনুপযােগী গাড়ি রাস্তায় চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রাইভেট কারের উপর অধিক শুল্ক আরােপ করে এর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পাবলিক পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবস্থা করতে হবে। সুপরিকল্পিতভাবে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। গাড়িচালকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। যেখানে সেখানে পার্কিংয়ের যথেচ্ছতা বন্ধে নিতে হবে উদ্যোগ। ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে দোকানপাট খােলা কি জিনিসপত্র রাখার প্রবণতা রুখতে হবে। যেখানে সেখানে বাসে লােক উঠানাে যুদ্ধ করতে হবে। রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির মহােৎসব বন্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবতে হবে। তবে সবচেয়ে জোর দিতে হবে ট্রাফিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায়। এর জন্য গণসচেতনতাও প্রয়ােজন। তাহলেই আমরা মুক্তি পাব অসহনীয় যানজটের হাত থেকে।

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ৩

যদি কোনাে কারণে কতক যানবাহন অচল অবস্থায় থাকে এবং সামনে এগােতে পারে না তখন এটিকে যানজট বলে।
আমাদের দেশের বড় বড় শহরে এটি একটি সাধারণ ঘটনা। এটি সচরাচর শহর অথবা নগরের ব্যস্ত এলাকায় সংঘটিত হয়ে থাকে। এটি শহরবাসীদের জন্য প্রতিদিন যার মুখােমুখি হয়। এটি একটি প্রধান সমস্যা শহরবাসী প্রতিদিন যার মুখােমুখি হয়। যানজটের অনেক কারণ রয়েছে। জনসংখ্যা বিস্ফোরণ হচ্ছে তাদের একটি। জনসংখ্যার তুলনায় আমাদের পর্যাপ্ত যানবাহন সুবিধা নেই। আমাদের সড়ক ও রাস্তাগুলাে প্রায়ই অনুন্নত যেখানে যানবাহন দুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব যানবাহন রাস্তায় চলাচলের পর্যাপ্ত স্থান পায় না। ফলে যানজট সৃষ্টি হয়। তাছাড়া, আমাদের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি যথেষ্ট উন্নত নয়। জনগণ ট্রাফিক আইন মানতে চায় না। সব ধরনের যানবাহন তাদের ইচ্ছামাফিক চলে। সব যানবাহন অন্যটিকে ছাড়িয়ে যেতে চেষ্টা করে। ফলে সেখানে যানজটের সৃষ্টি হয়। যানবাহনগুলাে রাস্তায় আটকে পড়ে। মাঝে মাঝে যানজট এতােটাই ভয়াবহ হয় যে যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক সাথে একই স্থানে আটকে থাকে। এটি বিভিন্ন যানবাহনে চলাচলকারী লােক ও পথচারীদের জন্য অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট বয়ে আনে। এটি আমাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে এবং আমাদের কাজের ক্ষতি করে। কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ সমস্যা সমাধান করা যেতে পারে। ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়ােগ করতে হবে। সুপরিকল্পিতভাবে প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। এর জন্য গণসচেতনতাও প্রয়ােজন।

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ৪

যানজট যানবাহনের একটি দীর্ঘ লাইন যা চলাচল করতে পারে না বা কেবল খুব ধীরে চলতে পারে কারণ রাস্তায় প্রচুর যানবাহন থাকে। বড় শহর ও শহরে যানজট একটি সাধারণ বিষয়। এটি আধুনিক সময়ের অন্যতম প্রধান সমস্যা। যানজটের কারণ অনেক। আমাদের জনসংখ্যার অনুপাতে রাস্তা বাড়েনি। রাস্তা সব একই। রাস্তাগুলি দখল করছে অনেক লাইসেন্সহীন যানবাহন। এমনকি চালকরাও ট্রাফিক নিয়ম মানতে রাজি নয়। তারা তাদের ইচ্ছা অনুসারে গাড়ি চালাতে চায়। ওভারটেকিং প্রবণতা যানজটের কারণও বটে। ট্র্যাফিক পুলিশের সংখ্যা অপর্যাপ্ত। অফিস সময়ে ট্র্যাফিক জ্যাম অসহনীয়। কখনও কখনও যানজট এত ভারী হয় যে এটি আধ কিলোমিটার অবরুদ্ধ করে। এটি আমাদের মূল্যবান সময়কে হত্যা করে এবং আমাদের কাজ ব্যাহত হয়। এতে করে মুমূর্ষু রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সে এবং ফায়ার ব্রিগেডের যানবাহন চরম দুর্ভোগ পোহায়। তবে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান হতে পারে। সুপরিকল্পিত প্রশস্ত রাস্তা নির্মাণ করা উচিত। একমুখী যানবাহন চলাচল চালু করা উচিত। ট্র্যাফিক নিয়মগুলি কঠোরভাবে চাপানো উচিত যাতে চালকরা সেগুলি মানতে বাধ্য। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে পর্যাপ্ত ট্র্যাফিক পুলিশ নিয়োগ করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন যানবাহন সরানো উচিত। এই সমস্ত কাজ করার পরে আমরা আমাদের সহজ এবং আরামদায়ক চলাফেরার জন্য একটি ভাল ট্র্যাফিক সিস্টেমের আশা করতে পারি।

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ৫

আমাদের দেশে যানজট, বিশেষত ঢাকা শহরে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। যানজট হলো মহাসড়কের নির্দিষ্ট স্থানে বা রাস্তায় প্রচুর যানবাহনকে আটকে রাখা, ফলস্বরূপ যানগুলি আটকে থাকে এবং গন্তব্যে এগিয়ে যেতে পারে না। এটি একটি দুর্দান্ত সমস্যা তৈরি করে। জরুরি ব্যবসায় ব্যস্ত ব্যক্তিরা তাদের সময়সূচি অনুসরণ করতে পারেন না। উদাহরণস্বরূপ, অনেক লোক সময় মতো তাদের কর্মস্থলে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন। পণ্য পরিবহন বিলম্বিত হয়। সম্ভবত সবচেয়ে খারাপ পরিণতি মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলিতে বহন করে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়। মানসিক ও শারীরিক দুর্ভোগও খুব কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাধারণত রিকশাওয়ালা বা ট্যাক্সিচালক, যারা কষ্ট করে আহার জোটান, তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার কারণে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। তবে এমন নয় যে এটি সর্বদা সব জায়গায় ঘটে থাকে। কেবলমাত্র রাস্তার পরিস্থিতি এবং ড্রাইভারদের নিয়ম-লঙ্ঘনমূলক আচরণই এর কারণ হতে পারে। যানবাহনের সংখ্যা, বিশেষত রিকশা, এই উপদ্রবগুলির একটি বড় কারণ। কারণ যাই হোক না কেন এটি অবিশ্বাস্য নয়। সর্বোপরি, আমরা এত দূর্ভোগ পোহাতে চাই না।

যানজট সমস্যা অনুচ্ছেদ ৬

যানজট মানে এক জায়গায় অনেক বেশি যানবাহন আটকা পড়া। যখন বিভিন্ন যানবাহন একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা চালায় তখনই এর প্রকোপ দেখা দেয়। যানজটের বিভিন্ন কারণ রয়েছে। তবে রাস্তার বেহাল দশা এবং ট্রাফিক বিধি লঙ্ঘনই এর প্রধান কারণ। ব্যস্ততার সময় আমরা যানজটে আটকে গেলে অনেকটা অসহায় ও হতাশাবোধ করি। এটি আমাদের মূল্যবান সময়কে কেঁড়ে নেয়। শিক্ষার্থীরা তাদের বিদ্যালয়ে সময় মতো পৌঁছতে পারে না। অফিস কর্মীরা সময়মতো অফিসে পৌঁছতে পারন না। ট্র্যাফিক জ্যামে প্রচুর কাজের সময় নষ্ট হয়। এমনকি গুরুতর রোগীদেরও সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়েই অনেক রোগী মারা যান। যানজটে আটকা পড়ে থাকা দূরপাল্লার যাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমাদের দেশের সমস্ত মানুষ যদি নিজেদের মধ্যে নাগরিক বোধ গড়ে তোলে এবং ট্রাফিক নিয়মগুলি অনুসরণ করে তবে যানজট নিরসন করা যেতে পারে। সরু রাস্তা প্রয়োজনমতো প্রশস্ত করা, মূল ক্রসিংয়ে ফ্লাইওভার তৈরি করা, কঠোর আইন এবং সর্বোপরি ক্রমবর্ধমান জনসচেতনতা যানজট অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে।

যানজট অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

4 thoughts on “যানজট অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

  • April 28, 2021 at 12:34 am
    Permalink

    পপি মাধ্যমিক রচনা শিক্ষা বই থেকে COPY করা 😆😆

  • April 28, 2021 at 1:18 am
    Permalink

    ভাইয়া সবার কাছে পপি গাইড নেই আপনার মতন। মন্তব্য করার আগে ডিসক্লেইমার পড়ে দেখবেন। আপনার সদিচ্ছা থাকলে এবংং ভালো লেখার গুন থাকলে লেখা পাঠাতে পারেন। প্রয়োজনে সম্মানী নিতে পারেন। এই ওয়েবাসাইট এর বেশিরভাগ লেখা ই বই থেকে সংগ্রহ করা এবং এইটা প্রকাশ্যে। আশা করি বুঝে উঠতে পেরেছেন। বেশি প্রয়োজন পড়লে নিজে লিখুন। এখানে এসেছেন কেন!

  • July 24, 2021 at 9:53 pm
    Permalink

    😵😵

  • July 25, 2021 at 11:37 am
    Permalink

    But good

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *