রক্তদান অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

প্রশ্নঃ রক্তদান নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

রক্তদান হলাে কোনাে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ মানুষের স্বেচ্ছায় রক্ত দেওয়ার প্রক্রিয়া। এই দান করা রক্ত অসুস্থ, মুমূর্ষ মানুষের দেহে প্রবেশ করানাে হয়। উন্নত বিশ্বে বেশিরভাগ রক্তদাতাই হলেন স্বেচ্ছায় রক্তদাতা, যারা সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রক্তদান করেন। দরিদ্র দেশগুলােতে এ ধরনের প্রতিষ্ঠিত স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বেশ কম, বেশিরভাগ রক্তদাতাই কেবল তাদের পরিচিতজনদের প্রয়ােজনে রক্তদান করে থাকেন। আবার অনেক রক্তদাতাই সমাজসেবামূলক কাজ হিসেবে রক্তদান করেন। তবে কিছু মানুষ পেশাদার রক্তদাতা, অর্থাৎ তারা অর্থ বা কোনাে ভাতার বিনিময়ে রক্তদান করে থাকেন। আবার রক্তদাতা তার ভবিষ্যৎ প্রয়ােজনে রক্ত পেতে পারেন। রক্তদানের প্রয়ােজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে দুই ধরনের রক্তদান পদ্ধতি আছে— ১. স্বীয় রক্তদান (নিজের প্রয়ােজনে যখন নিজের রক্তদান) ২. অন্যকে রক্তদান (কোনাে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন বা মুমূর্ষ রােগীর প্রয়ােজনে রক্তদান)। বিজ্ঞানের প্রসারের ফলে বর্তমানে ৪ ধরনের রক্তদান প্রক্রিয়া রয়েছে— যেমন— ১. সম্পূর্ণ রক্তদান ২. অনুচক্রিকাদান ৩. প্লাজমাদান ৪. লােহিত কোষদান। বাংলাদেশের কয়েকটি সংগঠন আছে যারা স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে, এগুলাে হলাে— সন্ধানী মেডিকেল ক্লাব, বাঁধন, রেডক্রিসেন্ট ইত্যাদি। ১৭-৫০ বছর বয়সের সুস্থ দেহের সবাই রক্তদান করতে পারেন। তবে অবশ্যই তাকে সুস্থ হতে হবে। ওজনের ক্ষেত্রে মহিলারা সাধারণত ৪৫ এবং পুরুষ ৫০ কেজির ঊর্ধ্বে হতে হয়। তাছাড়াও কিছু শারীরিক বিষয় বিবেচনা করা হয়, যেমন— কোনাে ছোঁয়াচেযৌন বাহিত রােগ, জ্বর, প্রসূতি, মাসিকের সময় কোনাে বিশেষ ওষুধ সেবন, মাদক সেবন, এলার্জি ইত্যাদি বিবেচনা করা হয়। রক্তদানের বেশ কিছু উপকারিতা আছে। যেমন— ১. রক্তদান করার প্রধান স্বার্থ নিজের, কারণ তার বা তার পরিবার-পরিজনের প্রয়ােজনে অন্যেরা রক্ত দিতে কার্পণ্য করে না; ২. একজন মুমূর্ষ রােগীকে রক্তদান কেবল রক্তদান নয়, তাকে একটা নতুন জীবনদান করা হয়; ৩. নিয়মিত রক্তদান করলে রক্তদাতা শারীরিক পরীক্ষাগুলাে বিনামূল্যে করতে পারেন; ৪. নিয়মিত রক্তদান করলে বেশ কিছু রােগের ঝুঁকিও কমে যায়; ৫. রক্তদান করলে দেহের রক্ত চাহিদা পূরণ করতে রক্ত উৎপাদন প্রক্রিয়া গতিশীল হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যে উপকারী। অর্থাৎ সঠিকভাবে রক্তদানের ফলে কোনাে ক্ষতির সম্ভাবনা নেই বরং তা রক্তদাতা ও রক্তগ্রহীতা উভয়ের জন্যেই মঙ্গলজনক। তাই প্রত্যেক সুস্থ মানুষের উচিত রক্তদানের মাধ্যমে মানবতার সেবা করা।

রক্তদান অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *