সময়ানুবর্তিতা রচনা (650 words) | JSC, SSC |

সময়ানুবর্তিতা রচনার সংকেত(Hints)

  • ভূমিকা
  • সময়ানুবর্তিতা কী
  • সময়ানুবর্তিতার প্রয়ােজনীয়তা
  • সময়ানুবর্তী না হওয়ার পরিণাম
  • সময়ের সদ্ব্যবহার
  • সময়ের মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্য
  • সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি ও জাতির উদাহরণ
  • উপসংহার

ভূমিকা:

একটি সফল জীবনের যে চরিত্রগুণ থাকে তার মধ্যে সময়ানুবর্তিতার মতাে উত্তম গুণটিও বিদ্যমান থাকে। বিচিত্র কর্মপ্রবাহে বিকশিত জীবন অর্থবহ করে তােলার অন্যতম প্রধান উপায় হিসেবে ময়ানুবর্তিতাকে বিবেচনা করা চলে।সময়ানুবর্তিতাকে পরিত্যাগ করে মনুষ্যজীবন কৃতকার্যময় হয়ে উঠতে পারে না নিজের সম্ভাবনা বা প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে চাইলেও সময়ানুবর্তী হতে হবে, কেননা সময়ের সঠিক এবং সফল ব্যবহারই মানুষকে যথা সময়ে যথা কাজটি সম্পাদনে সহায়তা করে। তাই সময়ের অনুবর্তী হতে পারলেই জীবনকে সফল করে তােলা সম্ভব।

সময়ানুবর্তিতা কী:

মানবজীবনের প্রতিটি মুহূর্ত একটা বিশেষ কর্তব্যের আহ্বান নিয়ে আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়। প্রতিটি আহ্বানে সাড়া দিতে হলে সময়ের কাজ সময়ে সমাপ্ত করতে হবে। সময়ের কাজ সময়ে সম্পাদনের উদ্যোগকেই সময়ানুবর্তিতা বলে। যে সময় যে কর্তব্যের ডাক আসে ঠিক তখনই তা না করলে ঐ মুহূর্তটি নিষ্ফল হয়ে যায়। সংসারে কাজের জন্য নির্ধারিত সময়ে বিশেষ কাজটি সম্পাদন করাতেই সময়ানুবর্তিতার প্রকাশ ঘটে। দ্রুত চলমান সময়ের মহাকালের মধ্যে মানবজীবনকে কল্পনা করতে গেলে মানবজীবন অতি সামান্য বলেই বিবেচিত হয়। এ সামান্য জীবনই অসামান্য গৌরবকে ধারণ করতে পারে যদি জীবনে থাকে সময়ানুবর্তিতা । বলা চলে, সময়ানুবর্তিতাই হচ্ছে জীবনে সাফল্যের একটি সিড়ি।

সময়ানুবর্তিতার প্রয়ােজনীয়তা:

যে জীবন সফলতার জন্যে উন্মুখ সে জীবনে সময়ানুবর্তিতার প্রয়ােজন সর্বাধিক। যার জীবনে। সময়ানুবর্তিতা নেই তার জীবনে সফলতার আশা করা বৃথা । অনন্ত কালপ্রবাহে মানুষ বেঁচে থাকে তার সুকীর্তির মধ্য দিয়েই। সুকীর্তি নির্মাণ তার পক্ষেই কেবল সম্ভব যার পক্ষে সময়ানুবর্তী হওয়া সম্ভব। মানুষ পৃথিবীকে সভ্যতার উচ্চশিখরে আজ আসীন করতে পেরেছে সময়ানুবর্তিতা চর্চার মাধ্যমেই। কবি বলেছেন–

‘নদী আর কালগতি উভয়ে সমান
অস্থির প্রবাহে করে উভয়ে প্রয়াণ।

তাই সময়ের এ প্রবহমান ধারা থেকে সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগানাের মধ্যে জীবনের সাফল্য নির্ভর করে। সময়ানুবর্তিতার মধ্যে মানবজীবনের কৃতিত্ব নিহিত। ঘাসের ডগায় চিকচিক করা শিশিরের মতাে মানবজীবন- যে জীবন প্রভাতেই মিলিয়ে যায় সূর্যের প্রথম সাক্ষাতে। তাই ক্ষণস্থায়ী এ জীবনকে একটি চিরস্থায়ী সম্মানিত আসনে রেখে যেতে হলে প্রয়ােজন সময়ের অনুবর্তী হওয়া।

সময়ানুবর্তী না হওয়ার পরিণাম:

মানুষ সময়ানুবর্তী না হলে জীবনে দুঃখ-যাতনার অন্ত থাকে না। সময়ানুবর্তী না হওয়া আলস্যপূর্ণ জীবনেরই নামান্তর। জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সময়ানুবর্তিতার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে পরিণাম হবে দুঃখময় । যে সব জাতি আজ বিশ্বের সভ্য দেশ এবং উন্নত জাতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে তারা ছিল সময়ানুবর্তী। অন্যদিকে, পৃথিবীতে যেসব জাতি এখনও পশ্চাৎপদ তাদের ইতিহাস পর্যালােচনা করলে দেখা যায়, তারা সময়ানুবর্তিতা চর্চা করেনি। তাই তাদের পরিচিতিও হয়েছে অনুন্নত জাতি হিসেবে।

সময়ের সদ্ব্যবহার:

এ জগৎ-সংসারের অনেক কিছুরই আর্থিক মূল্য নিরূপণ করা যায় । কিন্তু সময়ের মূল্য নিরূপণ করা সম্ভব নয় । জন্ম ও মৃত্যুর শাসনে জীবন সদা সংকুচিত। আশা করলেও মানুষ অন্তহীন জীবন পায় না। এখানেই জীবনের চরম ট্রাজেডি। কবি সুইনবার্গ বলেছেন—

‘life is a vision or a watch between a sleep and a sleep.’

দুই প্রান্তের ঘুম, ঘুমের মতাে অন্ধকার, মাঝখানে একটু চেয়ে থাকাটা জীবন। তাই জীবন যখন এতই অল্প সেজন্যই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। সময়ের সদ্ব্যবহারই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষকে অবিনশ্বর করে বাঁচিয়ে রাখে। বিশ্বে বৈজ্ঞানিক, দার্শনিক, দেশনায়ক, গবেষকসহ সকল কীর্তিমানবরাই সময়ের সদ্ব্যবহার করেছেন। ছাত্রজীবনেও সময়ের সদ্ব্যবহার করলে।
জীবন গঠন সহজ হয়।

সময়ের মূল্যায়ন ও জীবনে সাফল্য:

সময়ের মূল্যায়নের সাথে জীবনের সাফল্য জড়িত। জীবনে সময়কে যথার্থ মূল্যায়ন করতে পারলে সফল হওয়া যায়। অন্যদিকে, সময়কে অবহেলা করে অপব্যয় করলে জীবনে ভয়াবহ পরিণতি নেমে আসে। কোনাে বিষয়ে সে সফতার মুখ দেখতে পায় না। কবির ভাষায়—

‘নিতান্ত নির্বোধ শুধু সেইজন
অমূল্য সময় করে বৃথায় যাপন।’

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি ও জাতির উদাহরণ:

পৃথিবীর প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিদের জীবন পর্যালােচনা থেকে জানা যায়, তাদের কেউ সময়ের মূল্য সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল তাদের প্রাণচঞ্চল এবং কর্মবহুল । গণতন্ত্রের প্রবক্তা আব্রাহাম লিংকন- যিনি সামান্য শ্রমিক থেকে হয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কৃতী প্রেসিডেন্ট। অ্যারিস্টটল যিনি দিগ্বিজয়ী বীর আলেকজান্ডারের গৃহশিক্ষক থেকে হয়েছিলেন জগদ্বিখ্যাত দার্শনিক। বৈজ্ঞানিক নিউটন, আইনস্টাইন, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এমন মহামনীষীরা সময়নিষ্ঠ ছিলেন না এরূপ কথা শােনা যায়নি। আর সময়নিষ্ঠ জাতি হিসেবে ইংরেজ, আমেরিকান, জাপানি, ভিয়েতনামি, চাইনিজ ও কোরিয়ানদের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। ইংরেজরা সময়নিষ্ঠ জাতি বলেই একসময় গােটা পৃথিবীতে সাম্রাজ্য গড়তে পেরেছিল। সময়কে কাজে লাগিয়েই জাপান দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন মুছে নিয়ে এখন উন্নত দেশ। আমাদের নিকট থেকে খুব দূরের দেশ নয় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া। তারা আমাদের চেয়ে অনেক বেশি সময়নিষ্ঠ বলেই প্রভূত উন্নতি তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে।

উপসংহার:

মানুষের জীবন দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে আসবে না। তাই মানুষের উচিত এ জীবনকে পরিপূর্ণ করে গড়ে তােলা।এজন্য সময়ানুবর্তিতা একান্ত প্রয়ােজন । সময়ানুবর্তী জীবন উজ্জ্বল জীবনের উপমা ।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *