বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদ | JSC, PSC |

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এর মধ্য দিয়েই বাঙালির বহু বছরের স্বাধিকার আন্দোলন পূর্ণতা পায়। ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি তৈরি হয়েছিল সেই ১৯৪৭ সাল থেকেই যখন ভারতবর্ষ ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল। পাকিস্তানের পূর্ব অংশে ছিল বাংলা ভাষাভাষী মানুষের অবস্থান। শুরু থেকেই এই অংশের মানুষকে পরাধীন করে রাখে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী। কেড়ে নেওয়া হয় তাদের অধিকারসমূহ। শােষিত ও বঞ্চিত বাঙালি তখন অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নামে। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালির মাঝে স্বাধিকার চেতনার উন্মেষ ঘটে। একে একে আসে ‘৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন এবং ‘৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল বিজয় লাভের পরও বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়নি, ফলে ফুসে ওঠে গােটা জাতি। বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সবাইকে প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। ১৯৭১ সালের ২৫-এ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীনির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। মধ্যরাতের পর হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গ্রেফতারের পূর্বেই, অর্থাৎ ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘােষণা করেন। এরপর চট্টগ্রামের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ২৬ ও ২৭-এ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নামে প্রচারিত হয় স্বাধীনতার ঘােষণা। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণ দলে দলে ঝাপিয়ে পড়ে মুক্তিযুদ্ধে। এগারােটি সেক্টরে দেশকে বিভক্ত করে শুরু হয় তুমুল লড়াই। পরবর্তী নয় মাস মুক্তিবাহিনী বিপুল পরাক্রমে প্রতিরােধ করে চলে হানাদারদের আগ্রাসন। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর আমরা এজন করি চূড়ান্ত বিজয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য প্রাণ দিয়েছে এদেশের ৩০ লক্ষ মানুষ। তাই মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সবচেয়ে বড় প্রেরণার নাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমাদের অধিকার আদায়ে সংঘবদ্ধ করে, আদর্শের পথে চলতে উদ্বুদ্ধ করে। সেই চেতনাকে ধারণ করে সমৃদ্ধ দেশ গঠনে আমাদের যথাযথ ভূমিকা রাখতে হবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *