Sabbir8986 / December 30, 2020

আমার দৈনন্দিন জীবন রচনা (7 words) | JSC, SSC |

Spread the love

আমার দৈনন্দিন জীবন রচনার সংকেত (Hints)

  • ভূমিকা
  • দিন যাপনের পাঁচালী
  • সকাল: যাত্রা হলাে শুরু
  • বেলা দ্বিপ্রহর
  • রাত্রি যখন
  • উপসংহার

আমার দৈনন্দিন জীবন রচনা

ভূমিকা:

পৃথিবীতে সময় আসে সময় যায়, কেটে যায় মানুষের জীবন। মানুষ প্রবীণ হতে থাকে, প্রাচীন হয়ে ওঠে পৃথিবীও। দিনকে যাপন করতে না চাইলেও যাপিত হয়ে চলে জীবন। একে ধরে রাখা দায়। ছুটছে মানুষ, ঘুরছে পৃথিবী। পৃথিবী ঘুরছে তার পৃষ্ঠে সওয়ার হওয়া কোটি কোটি জনতার দৈনিক কর্মযজ্ঞকে সঙ্গী করে । এরই মধ্যে পার হয়ে যায় আমারও দৈনন্দিন জীবন। জীবন পার হয়ে যায় চুপিসারে, সবার অলক্ষ্যে।

দিন যাপনের পাঁচালী:

আমি কিশাের বয়সি। ছাত্রত্বই আমার পরিচয়। বর্তমানে আমি যে জীবনকে যাপন করে চলেছি তাকে ছাত্রজীবন ছাড়া আর কিছুই বলা দুরস্ত নয়। আমি দশ বছর যাবৎ বিদ্যা অভ্যাসের ফলে এখন দশম শ্রেণিতে পড়ছি। আর কজন ছাত্রছাত্রীর মতাে আমার দৈনন্দিন জীবনেও পড়াশুনাই প্রধান। তবু আমি স্বতন্ত্র বলেই নিজেকে মনে করি। আমার সহপাঠীদের সাথে কোথায় যেন দিনযাপনে আমি ব্যতিক্রম। পৃথিবীতে সূর্য ওঠে। সূর্য ওঠে সােনার হাসি হেসে । আমিও উঠি নিদ্রাভঙ্গের অভ্যাসে নিদ্রাভঙ্গের বিষয়ে আমি প্রতিদিন সূর্যকে পরাজিত করি। পূর্বাকাশে কোনােদিন সূর্য ওঠে না আমি ওঠার আগে । ‘সুয্যি মামা জাগার আগে উঠব আমি জেগে’ মন্ত্রে আমি দীক্ষিত। তাই প্রভাতের সােনার রবিকে প্রতিদিনই আমি অবলােকন করি নব নব রূপে, নব নব সাজে। আমার দৈনিক জীবনের ২৪ ঘণ্টাকে আমি চারটি ভাগে ভাগ করে নিয়েছি –

সকাল: যাত্রা হলাে শুরু:

আমি সূর্যোদয়ের আগে ঘুম থেকে উঠে কিছুক্ষণ ব্যায়াম করি। তারপর হাত মুখ ধুয়ে সজীব-সতেজ মনে পড়ার টেবিলে বসি। এ সময়টাতে আমি সাধারণত গণিতচর্চা করতে ভালােবাসি। এ সময়ে মাথা হালকা ও সতেজ থাকে। তাই গণিত আমার কাছে হয়ে ওঠে তখন উপভােগ্য। এরই মধ্যে মা ওঠেন। মা সকালের নাশতা তৈরি করেন। আমি দুত স্নান করে নিই। এরপর নাশতা সেরে স্কুলে যাবার জন্য তৈরি হই । সকালের সােনারােদ গায়ে মেখে স্কুলে যেতে আমার খুবই ভালাে লাগে ।

বেলা দ্বিপ্রহর:

দুপুর হয়ে আসে। বাজে ছুটির ঘণ্টা। ছুটির ঘণ্টার আওয়াজ শুনতে ভারি মজা। ঘরে ফিরে দেখি মা খাবার সাজিয়ে রেখেছেন টেবিলে । মা ঘুমােতে বলেন, আরাম করতে বলেন। আমি ঘুমাই না। কখনাে মাকে এ বিষয়ে বকুনি দিতেও দেখেছি। বড় জোড় কাত হয়ে আছি, কিন্তু নিদ্রা নির্বাসিত । আমার বন্ধুরা এ সময়টা দুপুরের আয়েশি ঘুমে পার করে দেয়। আমি এ সময়টাতে শুয়ে বিশ্রাম নিই নিদ্রাহীন। এ সময়টাতে আমি পাঠ্যপুস্তকের বাইরে নানারকম বই পড়তে ভালােবাসি। বিশেষ করে মহামনীষীদের জীবনী আমাকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে। আমারও সাধ জাগে আমিও হব মহামানুষ। আমার জীবনী পড়বে হয়তাে শত বছরের পরে কোনাে স্কুল প্রত্যাগত বালক ঠিক আমারই মতাে। দুপুর নিস্তেজ হয়ে পড়ে। বিকেলের তাপহীন সূর্যালােকে বন্ধুরা ততক্ষণে ক্রিকেট ব্যাট, বল নিয়ে হইচই আরম্ভ করে দিয়েছে । আমারও ইচ্ছে করে বলটাকে পিটিয়ে সবার মাথার ওপর দিয়ে সীমানা পার করে দেই । কিন্তু আমি জানি, ক্রিকেটার হওয়া আমার জীবনের লক্ষ্য নয়। তাই খেলার মাঠ আমাকে আকর্ষণ করলেও আমি তাতে মনােযােগী না হয়ে মনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিই। স্বাস্থ্যের জন্য খেলাধুলার প্রয়ােজন আছে এবং মাঝে মধ্যে কখনাে কখনাে শূন্য রানে আমিও যে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেছি তা মনে পড়ে। কিন্তু আমার মন পড়ে থাকে পাড়ার পাঠাগারে । আমি ব্যাট-বল সসম্মানে রেখে দিয়ে বন্ধুদের প্রিয় কোলাহল পরিত্যাগ করে নীরবে গিয়ে হাজির হই পাঠাগারে, লাভ করি পরমানন্দ।

সন্ধ্যা নামে যবে:

গােধূলি লগ্নে আমি পাঠাগার থেকে ঘরে ফিরে আসি। চা-নাশতা নিতে নিতে পত্রিকায় সদ্য দেখে আসা। নানা বিষয় নিয়ে বাবার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করি। বাবা আমাকে এ সময়টাতে অনেক আনন্দের সাথে সময় দেন এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা বিষয়ে আমাকে ধারণা দেন। পড়তে বসি টেবিলে। স্কুলের যাবতীয় হােমওয়ার্ক প্রস্তুত করি। পড়তে পড়তে ক্লান্তি আসে । ঘড়িতে রাত দশটা বাজার সংকেত বাজতে থাকে। মা রাতের খাবারের জন্য ডাক দেন। পরিবারের সকলে একসঙ্গে বসে খাবার গ্রহণের এ সময়টাতে খুব ভালাে লাগে।

রাত্রি যখন:

রাতের খাবার শেষ হতেই ছােট বােন সায়মা এসে যােগ দেয় আমার সাথে । ও ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। ভালাে গান
করে সে। কদাচিৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটলে মােমবাতি জ্বালিয়ে আমরা গনি ধরি । কিছুক্ষণ পর সায়মা ঘুমােতে যায় তার ঘরে। আর আমি মােমবাতিটা নিভিয়ে নিদ্রামগ্ন হবার চেষ্টা করি । আর ভাবি জীবন থেকে পার হচ্ছে আরও একটি দিন । কাল সূর্য উঠবে গতকালকের মতােই । আমিও স্কুলে যাব আর ফিরব আজকের মতােই। ভাবতে থাকি কখন আসবে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ । ভ্রমণে আমার ক্লান্তি নেই। ইচ্ছে করে ডানা মেলে যদি উড়তে পারতাম বিশ্বটাকে একবার প্রদক্ষিণ করে আসতাম । নানাভাবনা ও হিসাব-নিকাশ চলতে থাকে শায়িত অন্ধকারে। কখন যে নিদ্রাপুরীতে আমি চলে যাই কিছুই বলতে পারি না।

উপসংহার:

জীবন আনন্দ-বেদনারই যেন কাব্য। দিন যায়, রাত আসে। দুঃখ যায়, সুখ আসে। এমনই করে পার হচ্ছে।
জীবন । একদিন জীবনের রুটিনের বদল হবে । আমি হয়তাে দৈনন্দিন জীবনে আজ যা করছি তা না করে অন্য কিছু করব। কিন্তু জীবন যে একদিন সমাপ্ত হয়ে যায়! হায় জীবন! কেন তুমি ক্ষান্ত হও?

(Visited 1 times, 1 visits today)

FILED UNDER : রচনা

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি