ক্রিকেট রচনা (700 words) | JSC, SSC |

ক্রিকেট রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • ক্রিকেটের উৎপত্তি ও বিকাশ
  • ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট ম্যাচ
  • আইসিসির প্রতিষ্ঠা
  • প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী ক্রিকেট
  • ক্রিকেটে বাংলাদেশ
  • উপসংহার

ক্রিকেট রচনা

ভূমিকা:

ক্রীড়াজগতে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট। বিশ্বায়নের প্রভাবে বর্তমানে বিশ্বের দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে জনপ্রিয় এ খেলাটি। ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির নাবিকরা ১৭২১ সালে ক্রিকেটের সূচনা করেন বলে জানা যায়।

ক্রিকেটের উৎপত্তি ও বিকাশ:

ক্রিকেটের জন্ম ইংল্যান্ডে। তাই ইংল্যান্ডকে বলা হয় ক্রিকেটের জনক। তবে ঠিক কখন থেকে
অভিজাতদের অবসর কাটানাের মাধ্যম হিসেবে ক্রিকেট খেলার উদ্ভাবন হয়। এটি ছিল রাজবংশীয় অর্থাৎ অভিজাতদের খেলা। ত্রয়ােদশ শতাব্দীতে ইংল্যান্ডের রাজা এডওয়ার্ডের আমলে একটি বইতে ক্রিকেট খেলার উল্লেখ রয়েছে। তবে এ খেলা জনপ্রিয়তা লাভ করে অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে। ১৭৪৫ সালে ইংল্যান্ডে মহিলা ক্রিকেট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল এমন তথ্যও মিলেছে। তবে এর আগে ১৭৪৪ সালে ক্রিকেট খেলার কিছু নিয়মকানুন চালু হয়। পরবর্তীকালে ‘হ্যাম্বলডন ক্লাব’ নামে পরিচিত বিত্তশালী ক্রিকেটামােদী সংগঠন ক্রিকেট খেলার বেশকিছু নিয়ম প্রবর্তন করে এবং প্রতিষ্ঠা করে এমসিসি। ক্রিকেটকে আকর্ষণীয় করে তােলার জন্যে যেসব নিয়ম-কানুন প্রবর্তিত হয় তা এমসিসিরই বেঁধে দেয়া।

ক্রিকেটের প্রথম টেস্ট ম্যাচ:

ক্রিকেটের প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৮৭৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবাের্ন ক্রিকেট মাঠে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে। শুরুতে ক্রিকেট বলতে মূলত টেস্ট ক্রিকেটকেই বােঝানাে হতাে। এ খেলায় অস্ট্রেলিয়া ইংল্যান্ডকে ৪৫ রানে রাজিত করে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যান চার্লস বেনরম্যান এ খেলায় ইতিহাসের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন।

আইসিসির প্রতিষ্ঠা:

আইসিসি বা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কনফারেন্স গঠিত হয় ১৯৫৬ সালে। মূলত আইসিসি প্রতিষ্ঠা পায় ১৯০৯ সালে। তখন এটি ইমপেরিয়াল ক্রিকেট কনফারেন্স নামে পরিচিত ছিল। ‘ইন্টারন্যাশনাল হিসেবে পরিবর্তনের ফলে ব্রিটিশ কমনওয়েলথভুক্ত দেশ ছাড়াও অন্যান্য দেশ এর সদস্য হবার সুযােগ পায়।

প্রথম ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং পরবর্তী ক্রিকেট:

বিশ্বকাপে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালে। টেস্ট ম্যাচের চার- পাঁচ দিনের একঘেয়েমি দূর করতে সীমিত ওভারের আন্তর্জাতিক ওয়ানডে প্রবর্তন করা হয়। প্রথম ওয়ানডেতেও ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া মুখােমুখি হয়। একদিনের এ ম্যাচেও জয়ী হয় অস্ট্রেলিয়া । ওয়ানডে ক্রিকেট চালু হওয়ার পর থেকে বাড়তে থাকে। ক্রিকেট খেলার জনপ্রিয়তা। বিশেষত ১৯৭৫ সালের প্রথম বিশ্বকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট আলাদা জায়গা করে নেয় ক্রীড়ামােদীদের মনে। ফলে বিশ্বকাপের পাশাপাশি বেনসন এন্ড হেজেস সিরিজ, এশিয়াকাপ, শারজাহ ট্রফি, অস্ট্রেলিয়া কাপ, রথম্যানস কাপ, নেহরু কাপ প্রভৃতি টুর্নামেন্ট শুরু হয়। ক্রিকেট ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের দেশে। দেশে। ১৯৭৫-এর পর থেকে প্রতি চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে নাটকীয় জয়লাভের মধ্য দিয়ে উপমহাদেশে বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে আসে ভারত। এশিয়ার আরও দুটি শক্তিশালী ক্রিকেট দল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা যথাক্রমে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে ঘরে তােলে বিশ্বকাপ। বর্তমান বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন দল অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডে ক্রিকেট খেলার প্রচলন হয় সে ব্যাপারে ভিন্নমত রয়েছে। জানা যায়, ইংল্যান্ডের লর্ড এবং বিশেষত ব্রিটিশ সমাজের। সময়ের বিবর্তনের সাথে সাথে ক্রিকেট খেলার নিয়মাবলি এবং ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। ক্রিকেটে বর্তমানে তিন ধরনের
ম্যাচের প্রচলন রয়েছেটেস্ট, ওয়ানডে এবং টুয়েন্টি-টুয়েন্টি। চার-পাঁচদিন ব্যাপী চলতে থাকা টেস্ট ম্যাচের চেয়ে একদিনের
ম্যাচই তুলনামূলকভাবে বেশি জনপ্রিয়। সাম্প্রতিককালের টুয়েন্টি-টুয়েন্টি ম্যাচও জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে মারমুখী ব্যাটিং
ও টানটান উত্তেজনাপূর্ণ হলেও এ খেলায় সব ব্যাটসম্যান কিংবা সব বােলারের খেলার সুযােগ খুব কম থাকে। বর্তমানে আইসিসির উদ্যোগে দুই বছর পর পর টুয়েন্টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ভারতে
অনুষ্ঠিত এ খেলায় ইল্যাংন্ডকে পরাজিত করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরােপা লাভ করে ।

ক্রিকেটে বাংলাদেশ:

বাংলাদেশ ক্রিকেট দুনিয়ায় সাড়ম্বরে পদার্পণ করে ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি অর্জনের মধ্য দিয়ে। এরপর ‘৯৯-এর বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ড ও পাকিস্তানকে পরাজিত করে আলােচনায় উঠে আসে বিশ্ব ক্রিকেট আসরে। এরই ফলাফল ২০০০ সালে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা লাভ এবং আইসিসির দশম সদস্য হিসেবে টেস্ট খেলা শুরু করা। বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করে চমকে দেয় ক্রিকেট বিশ্বের বড় বড় দলগুলােকে। কিন্তু নানা কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল তাদের সাফল্যের পরিপূর্ণ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি। শক্তির বিচারে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল অন্যান্য দলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তবে সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে যে কোনাে দলকে হারানাে বাংলাদেশের জন্যে কঠিন নয়। শুধু মনে রাখতে হবে, সাফল্যের আনন্দ ক্ষণিকের। বৃহত্তর সাফল্যের
জন্যে প্রয়ােজন দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি

উপসংহার:

বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট খুব দ্রুত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল, জটিল নিয়মকানুন ও সময় দীর্ঘতার কারণে পৃথিবীর অনেক দেশেই তা যথাযথভাবে প্রসার লাভ করেনি। জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে ক্রিকেট চরম অনিশ্চয়তার খেলা । মুহূর্তেই ঘুরে যেতে পারে খেলার মােড় । তাই ক্রিকেট উদ্দীপনা, উত্তেজনা এবং সেই সাথে জনপ্রিয় একটি খেলা।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *