জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা রচনা

জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • খেলাধুলার প্রকার
  • খেলাধুলা ও শিক্ষা
  • খেলাধুলার গুরুত্ব
  • জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাধুলা
  • সুস্থদেহ ও সুস্থমন
  • পেশা হিসেবে খেলাধুলা
  • উপসংহার

জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা রচনা

ভূমিকা:

মানুষের জীবন শুধু কর্মমুখর, ব্যস্ত হলেই চলে না। জীবিকার অনিবার্য প্রয়ােজনে মানুষ কেবল অর্থের পিছু ছুটলেই জীবনে তৃপ্তি লাভ করে না। বরং জীবনের একঘেয়েমি দূর করে আনন্দ লাভের চেষ্টাও করে মানুষ । আর আনন্দ লাভের একটি বড় নিয়ামক হচ্ছে খেলাধুলা। তাই বলে খেলাধুলা শুধু আনন্দেরই সামগ্রী নয় । খেলাধুলা সুস্থ স্বাস্থ্যের বিষয়টিকেও নিশ্চিত করে সুস্থ মনের জন্যে সুস্থ দেহ চাই । জাতীয় জীবনেও আছে খেলাধুলার অত্যাবশ্যকতা

খেলাধুলার প্রকার:

বিশ্বের নানা দেশ ও নানা জাতির মধ্যে নানারকম খেলাধুলার প্রচলন রয়েছে। ভৌগােলিক ও প্রাকৃতিক কারণেও একেক দেশ একেক রকম খেলাধুলাকে গ্রহণ করে। আজকের বিশ্বে ফুটবল, ক্রিকেট, টেনিস, হকি ইত্যাদি জনপ্রিয় খেলা । নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট। বিশ্ব অলিম্পিক আসরে জগতের প্রায় সকল দেশ অংশগ্রহণ করে রকমারি খেলাধুলার ইভেন্টে। খেলাধুলার বহু প্রকারের মধ্যে হা-ডু-ডু’ বাংলাদেশের জাতীয়
খেলা।

খেলাধুলা ও শিক্ষা:

একজন মানুষের পরিপূর্ণতার জন্যে শিক্ষাই জরুরি। খেলাধুলার মধ্যেও শিক্ষার বিষয়টি অতি গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যয়নের মতাে খেলাধুলাকেও শিখে নিতে হয় । খেলাধুলার কলাকৌশল শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমেই আয়ত্তে আনতে হয়। শিক্ষা লাভ ব্যতীত ভালাে ক্রীড়াবিদ আশা করা যায় না। বার বার অধ্যয়ন যেমন শিক্ষার্থীকে মেধাবী করে তােলে তেমনি ক্রীড়ার বার বার অনুশীলন ক্রীড়াবিদকে দক্ষ করে তােলে । অনেক সময় ভালাে ছাত্র না হয়েও ভালাে ক্রীড়াবিদ হয়ে জাতীয় পর্যায়ে অবদান।
রাখা যায়।

খেলাধুলার গুরুত্ব:

আধুনিক সভ্য সমাজে খেলাধুলাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে ঐক্য ও মৈত্রীভাব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে খেলাধুলার গুরুত্বকে অস্বীকার করা যায় না। ধর্ম, বর্ণ, গােত্র ও জাতি নির্বিশেষে পৃথিবীর সব দেশের মানুষ এসে পরম বন্ধনে মিলিত হয় খেলার মাঠে। বহু দেশ আজ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থ ও দ্বন্দ্ব ভুলে একে অন্যের নিকটবর্তী হতে পেরেছে খেলাধুলার কল্যাণেই। খেলাধুলার মান উন্নয়ন করে অনেক দেশ মর্যাদার উঁচু আসনে অধিষ্ঠিত। খেলাধুলা ব্যক্তির জীবনে আনন্দ ও মানসিক উৎকর্ষ বয়ে আনলেও জাতির জন্যে বয়ে আনে সুমহান মর্যাদা। পেলে, ডিয়াগাে ম্যারাডােনা শুধু ব্যক্তিগতভাবেই পৃথিবীতে পরিচিত নন। তাদের দেশ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনাও বিশ্বে এটি তাদের জন্যে কম পাওয়া নয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপ দেশ শ্রীলঙ্কা, ভারত ও পাকিস্তান। ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে পরিচিত, এটি স্ব স্ব জাতির জন্যে গৌরবের বিষয়। তাই জাতীয় জীবনেও খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে খেলাধুলা:

খেলাধুলা জাতীয় জীবনে বয়ে আনে আনন্দ ও গৌরব। সর্বোচ্চ ক্ৰীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে প্রতিপক্ষের দলের বিজয় লাভের আনন্দই আলাদা। ক্রীড়া ক্ষেত্রে আছে শৃঙ্খলা চর্চার একটি বড় সুযােগ। খেলার মাঠে। বিদকে কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়, ফলে এ ঙ্খলা চর্চা খেলােয়াড়ের মানসগঠনে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। তাই জাতীয় জীবনেও পড়ে এর ইতিবাচক প্রভাব । খেলাধুলা শুধু দেশের গণ্ডিতে এখন সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে খেলাধুলার নানা আয়ােজন। খেলাধুলাকে বাহন করেই দেশে দেশে আজ সম্প্রীতি। শত্রুকে মিত্রে পরিণত করছে খেলাধুলা, রচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সেতুবন্ধন। বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট,
সাফ গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমস ইত্যাদি ক্রীড়ানুষ্ঠানগুলাে মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। ফলে ভেদাভেদ ভুলে সকলে এসে দাড়ায় সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির একই সমতলে ।।

সুস্থদেহ ও সুস্থমন:

খেলাধুলা সুস্থ দেহের পরিচয় বহন করে। কোনাে অসুস্থ মানুষ খেলাধুলা করতে পারে না। ক্রীড়াতে মনের আনন্দ নিহিত বলে মানুষ স্বসময়ই সুস্থ থাকার চেষ্টা করে। আর সুস্থ দেহ যার নেই তার মনে আনন্দ আশা করা যায় না। সুস্থ মন না থাকলে একজন ছাত্র পাঠে মনােনিবেশ করতে পারে না। ফলে সফলতা লাভ তার জন্যে হয়ে ওঠে অসম্ভব। শিশু-কিশােরদের মানসিক বিকাশেও খেলাধুলার অবদান অস্বীকার করা যায় না। শিশু-কিশােরদের জীবনে আনন্দের সাক্ষাৎ না ঘটলে তাদের জীবন হয়ে পড়ে উদ্যমহীন।

পেশা হিসেবে খেলাধুলা:

আজকাল অনেক দেশের খেলােয়াড়দের দেখা যায় তারা খেলাধুলাকে বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। নিজের ব্যক্তিগত ক্রীড়ানৈপুণ্যকে পুঁজি করে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে একজন খেলােয়াড়ের খ্যাতি। দেশ, ক্লাব, আন্তর্জাতিক সংস্থা এমনকি বিভিন্ন কোম্পানি খেলাধুলার পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। অনেক খেলােয়াড় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছেন কোনাে ক্লাবের সাথে মাত্র এক বছর বা দুই বছরের জন্যে। এতে অর্থনৈতিক দিক থেকেও লাভবান হচ্ছে একজন পেশাধারী খেলােয়াড়। একজন পেশাধারী ক্রীড়াবিদ অন্যদেশ বা ক্লাবের সাথে যখন উচ্চ সম্মানির বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন এতে দেশের সম্মানও বৃদ্ধি পায়। তাই পেশা হিসেবেও খেলাধুলা দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে

উপসংহার:

ক্রীড়াই তারুণ্য, ক্রীড়াই শক্তি । জাতির সুস্থতা, জাতির আনন্দ ও গৌরব ক্রীড়াতেই নিহিত। তাই জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য । সুস্থ সবল ও আনন্দময় জাতি গঠনে খেলাধুলা একটি বড় নিয়ামক।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *