Sabbir8986 / December 31, 2020

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা রচনা (720 words) |

Spread the love

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • বৃত্তিমূলক শিক্ষা কী
  • উদ্দেশ্যহীন শিক্ষা
  • বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব
  • দ্বিমুখী শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা
  • বৃত্তিমূলক শিক্ষার মূল্যায়ন
  • বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার
  • উপসংহার

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষা রচনা

ভূমিকা:

ছাত্রজীবনের সফল সমাপ্তি ঘটিয়ে সকলেই একটি সম্মানজনক কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। শিক্ষার্জনের অর্জিত ধারণাকে জীবিকার্জনের কাজে প্রয়ােগ করতে চায়। জীবিকার জন্যই প্রতিটি মানুষকে যােগ্য শিক্ষা অর্জন করতে হয়। তবে কেবল জীবিকাই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। কোন জীবিকা বা বৃত্তি মানুষ নির্বাচন করবে তার সঙ্গে শিক্ষার একটি সংযােগ বিদ্যমান থাকে। জীবিকা বা বৃত্তি যেটি হবে তার সঙ্গে পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়ােজন হয়। বৃত্তিমূলক শিক্ষা তারই পূর্ব শিক্ষার ব্যবস্থাপত্র।

বৃত্তিমূলক শিক্ষা কী:

‘বৃত্তি’ কথাটির অর্থ হলাে জীবিকা নির্বাহের জন্য কর্ম বা পেশা । আমাদের দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বলতে
সাধারণ কারিগরি শিক্ষাকেই বােঝায়। ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, গাড়ি মেরামত, ড্রাইভিং, দর্জি বিদ্যা, কাঠমিস্ত্রির শিক্ষা, বই বাঁধাই, টাইপ রাইটিং ও শর্টহ্যান্ড শিক্ষা ইত্যাদি শিক্ষা বৃত্তিমূলক শিক্ষার মধ্যে পড়ে। এ বিষয়ে পাঠগ্রহণের জন্য একজন ছাত্রকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবার প্রয়ােজন পড়ে না। নবম-দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়া যে কেউ বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে খুব সহজেই গ্রহণ করতে পারে। এ শিক্ষাগ্রহণে ব্যক্তি যেমন কর্মমুখী হতে পারে তেমনি দেশও লাভবান হবার সুযােগ থাকে। আধুনিক চেতনা থেকে মনে করা হয় যে, শিক্ষা যদি আত্মপ্রতিষ্ঠার সহায়ক না হয় তাহলে সে শিক্ষা নিরর্থক।’ সে দিক থেকে বিচার করতে গেলে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেই সর্বাগ্রে মূল্যায়ন করতে হয়।

উদ্দেশ্যহীন শিক্ষা:

আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নয়। ব্যতিক্রম হিসেবে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা নামে একটি শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের দেশে আছে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা চিত্র নয়। বৃত্তিমূলক শিক্ষাগ্রহণ না করার কারণেই যে শিক্ষক হলে ভালাে হতাে সে হয়ত হয়েছে সৈনিক, যার ডাক্তার হবার কথা সে হয়ত হয়ে ওঠে আইন ব্যবসায়ী। উদ্দেশ্যহীন শিক্ষাগ্রহণ করে প্রথমে কেবল সার্টিফিকেট সংগ্রহের কাজ চলে তারপর যে যেমনটি জোটাতে পারল সেটিই তার বৃত্তি বা পেশা। ফলে জাতি দক্ষ পেশাজীবী জনবল পাচ্ছে না। অথচ মানুষ যদি তার ইচ্ছেমতাে বা যােগ্যতা মতাে বৃত্তি গ্রহণ করতে পারত, তাহলে দেশ হতে দক্ষ কর্মজীবীতে ভরপুর। আর আমাদের পক্ষে সম্ভব হতাে কল্যাণকামী দেশ পাওয়া ।।

বৃত্তিমূলক বা কর্মমুখী শিক্ষার গুরুত্ব :

আমাদের দেশের মতাে উন্নয়নশীল দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রয়ােজন অনেক বেশি। বেকারত্ব লাঘবের একটি মহামন্ত্র হতে পারে বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষা কৃষিকর্ম, বাঁশ ও বেতের কাজ, প্লাস্টিকের কাজ, তাঁতের কাজ, ক্ষুদ্র যন্ত্রপাতি তৈরির কাজ ইত্যাদি কাজে দক্ষতা অর্জনের জন্য দরকার বৃত্তিমূলক শিক্ষা। বৃত্তিমূলক শিক্ষাগ্রহণ করে সামান্য পুঁজিতে একজন মানুষ তার বেকারত্ব ঘােচাতে উদ্যোগী হতে পারে। যেকোনাে শিল্পকারখানাতে অতি সহজে কাজ জুটিয়ে নিতে পারে। তাই আত্ম-উন্নয়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণে এ শিক্ষার রয়েছে অধিক গুরুত্ব।

দ্বিমুখী শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা:

আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় বহুমুখী শিক্ষা কার্যক্রম প্রচলিত আছে। প্রশ্ন উঠতে পারে,
বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে এত গুরুত্ব দিলে দেশে কি শুধু কারিগরই হবে প্রধান জনবল? প্রকৃতপক্ষে এ প্রশ্নের উত্তর থেকেই সূত্রপাত ঘটেছে দ্বিমুখী শিক্ষা বা বহুমুখী শিক্ষার। একজন ছাত্রের মেধা ও মনন অন্য ছাত্রটি থেকে আলাদা। মেধার দিক থেকে যে ছাত্রের
অবস্থান অত্যন্ত নিম্ন পর্যায়ের তার পক্ষে মহাকাশ বিজ্ঞান বা সমুদ্র বিজ্ঞান বুঝে ওঠার কথা নয়। তেমনিভাবে পদার্থ বিজ্ঞানে মেধা এবং প্রবল আগ্রহ আছে এমন ছাত্র নে যাবে কাঠমিস্ত্রি হবার জন্য। সেজন্যেই মেধা ও যােগ্যতার নিরিখে পছন্দ মােতাবেক পাঠ গ্রহণের সুযােগ আছে আমাদের দেশে। অপেক্ষাকৃত কম মেধাবীদের বাঁচতে হবে, তাদেরও চাই কর্ম, চাই জবিকার নিশ্চয়তা। তাই বহুমুখী শিক্ষা পরিবেশের মধ্য থেকে কেউ কেউ বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নিজেকে দক্ষ করে জীবিকা নির্বাহ করবে সেটাই স্বাভাবিক। শিক্ষাগ্রহণে অর্থনৈতিক বিষয়টিও ম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অর্থ না থাকলে আজকাল উচ্চশিক্ষা গ্রহণও সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। তাই অপেক্ষাকৃত কম খরচে বৃত্তিমূলক শিক্ষাগ্রহণ করে দেশ ও জাতির জন্য দক্ষ জনশক্তি হওয়াও কম গৌরবের বিষয় নয়।

বৃত্তিমূলক শিক্ষার মূল্যায়ন:

বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে একজন ছাত্র কেবল পুঁথিগত দিক থেকেই অভিজ্ঞতা অর্জন করে না। বরং ব্যবহারিক বিষয়েও তার দক্ষতা অর্জনের সুযােগ থাকে। দেশীয় শিল্পকারখানাতে ব্যবহারিক কাজে দক্ষ জনশক্তির অনেক চাহিদা রয়েছে। ফলে আত্মকর্মসংস্থান নিয়ে তাকে ভাবতে হচ্ছে না। পাশাপাশি দেশের বাইরেও রয়েছে কারিগরি জ্ঞানের দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা। উন্নত বিশ্বে সাধারণ একজন ইলেক্ট্রিশিয়ানের বেতনও সন্তোষজনক। বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠিয়ে দেশ আজ প্রচুর রেমিটেন্স পাচ্ছে প্রকৃতপক্ষে দেশের বাইরে বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন হচ্ছে বলেই ।

বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিস্তার:

যুগ বাস্তবতার কথা বিবেচনা করে বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ জরুরি। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার স্তরে কুটিরশিল্প ও সুপ্রচলিত হস্তশিল্পের শিক্ষা দান আবশ্যিক করা প্রয়ােজন যেন তার মাধ্যমে ছাত্ররা এক একটি বৃত্তিতে আত্মনিয়ােগের পথ পায় । বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য কিঞিৎ পাঠ ব্যবস্থা থাকলেও তা সন্তোষজনক নয় কারু কলেজ, টেকনিক্যাল কলেজ, কমার্শিয়াল কলেজসহ বৃত্তিমূলক নানা প্রতিষ্ঠান সম্প্রসারণ করা প্রয়ােজন। সেই সাথে প্রয়ােজন। কলকারখানায় কর্মরত অদক্ষ জনবলকে আধুনিক প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত করে তাদের পেশাগত মানােন্নয়ন করা।

উপসংহার:

বাংলাদেশের মতাে একটি জনবহুল দরিদ্র দেশে বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দেয়া দরকার। ব্যক্তির বেকার সমস্যা দূরীকরণ এবং কল্যাণকামী রাষ্ট্র গঠনে বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষাকে উৎসাহিত করার বিকল্প নেই।

FILED UNDER : রচনা

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি