Sabbir8986 / March 11, 2021

রচনা লিখন 2

Spread the love

মাদকাসক্তির কুফল ও প্রতিকার

ভূমিকা :

বহু সমস্যায় জর্জরিত বাংলাদেশের ধমনীর শােণিত ধারায় আজ প্রবেশ করেছে মাদকদ্রব্য নামক মৃত্যু-কুটিলকাল নাগিনীর বিষ, যা এক তীব্র নেশা। দেশের লাখ লাখ তরুণ আজ এ মরণনেশায় আসক্ত। দাবানলের মতাে এটি ছড়িয়েপড়েছে বিভিন্ন শহরে, শহরতলীতে, গ্রামে, গ্রামান্তরে। এ মরণনেশা থেকে এ জাতির যুবসমাজকে রক্ষা করা না গেলে এহতভাগ্য জাতির পুনরুত্থানের স্বপ্ন অচিরেই ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।মাদক দ্রব্য ও মাদকাসক্তি : যে দ্রব্য সেবনে বা গ্রহণে মানুষ কিছু সময়ের জন্য বিশেষ প্রতিক্রিয়া অনুভব করে,দৈহিক এবং মানসিকভাবে নেশায় আচ্ছন্ন হয়, তাকে মাদকদ্রব্য বলে। আর দৈহিক ও মানসিক উত্তেজক আনন্দানুভূতির এঅস্বাভাবিক অবস্থাই মাদকাসক্তি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর মতে, নেশা এমন একটি মানসিক ব্যাধি বা শারীরিকঅবস্থা, যার সৃষ্টি হয়েছে জীবিত প্রাণী ও মাদক ওষুধের মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে।মাদকদ্রব্যের প্রকারভেদ : বিভিন্ন আকার ও অবয়বে মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। অবয়ব, প্রভাব ও মূল্যমানের ভিন্নতারউপর নির্ভর করে মাদকদ্রব্যাদি বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আফিম ও ক্যানাবিস জাতীয় গাছপালা থেকে মাদকদ্রব্য তৈরি হয়েথাকে। প্রাচীনকালের মাদকদ্রব্যের মাঝে রয়েছে মদ, গাঁজা, ভাং, আফিম ইত্যাদি। বর্তমানে নিত্যনতুন মাদকদ্রব্য আবিষ্কৃতহচ্ছে। যেমন : হেরােইন, ইয়াবা, প্যাথেড্রিন, মারিজুয়ানা, কোকেন, হাসিস, মরফিন, পপি, সিডাকসিন, ইনকার্ডন,ফেনসিডিল, বিয়ার ইত্যাদি।মাদকদ্রব্যের উৎস : আধুনিক বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কম-বেশি মাদকদ্রব্য পাওয়া যায়। কোনাে দেশে কম আবারকোনাে দেশে অনেক বেশি। যেমন, গােল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল (লাওস, মায়ানমার, থাইল্যান্ড), গােল্ডেন ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান,পাকিস্তান, ইরান), গােল্ডেন ওয়েজ (ভারত, নেপাল ও তিব্বত) এ তিন স্থানে পপি উৎপাদিত হয়। পপি ফুলের নির্যাস থেকেআফিম এবং এই আফিম থেকে সর্বনাশা হেরােইন তৈরি হয়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, গুয়াতেমালা, জ্যামাইকা,ব্রাজিল, প্যারাগুয়ে, ঘানা, নাইজেরিয়া, কেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও থাইল্যান্ডসহ ১১টি দেশে মারিজুয়ানা উৎপন্ন হচ্ছে।দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, বলিভিয়া প্রভৃতি দেশ কোকেন উৎপাদনে বিখ্যাত। তাছাড়া এশিয়া মহাদেশেরপ্রায় অনেক দেশেই আফিম, হেসিস ও হেরােইন উৎপন্ন হয়।মাদকাসক্তির কারণ : গবেষণালব্ধ অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে বহুবিধ কারণে মানুষ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। যেমন—সহজ আনন্দ লাভের বাসনা, মাদকের কুফল সম্পর্কে অজ্ঞতা, প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ, বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গী-সাথিদের প্রভাব, পারিবারিক পরিমণ্ডলে মাদকের প্রভাব, কৈশাের ও যৌবনের বেপরােয়া মনােভাব, বেকারত্ব, হতাশা ওআর্থিক অনটন, মনস্তাত্ত্বিক বিশৃঙ্খলা, মাদকের সহজলভ্যতা, নৈতিক শিক্ষার অভাব ইত্যাদি। তা ছাড়া কৌতুহল মেটাতে ওকুসংসর্গে পড়ে যারা একবার বা দু’বার মাদক গ্রহণ করেছে, তারা আর এর সংস্রব থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। নতুনেরপ্রতি মানুষের চিরন্তন নেশা, নতুন অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের দুর্নিবার আকর্ষণ ও আপাত ভালাে লাগার অনুভূতি-তাড়িত হয়েওঅনেকে মাদক ব্যবসায়ীদের পেতে রাখা ফঁাদে নিরুপায় কীট-পতঙ্গের মতাে ধরা দেয়। এভাবেই নৈরাজ্যের সুতীব্র যন্ত্রণায়দগ্ধীভূত হয়ে যুবসমাজ বেছে নেয় মাদকাসক্তির মাধ্যমে আত্মবিনষ্টির পথ।মাদকের ক্ষতিকর দিক : মাদক সমস্যা মানুষের সৃষ্ট শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা।মানবসম্পদ উন্নয়নে এ সমস্যা এক বিরাট বাধা। মাদকের অপব্যবহারে ব্যক্তি তাে বটেই, পুরাে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রনানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মাদকাসক্তির ফলে জনশক্তি দুর্বল এবং নির্জীব হয়ে পড়ছে। মাদকের নিষ্ঠুর ছােবলে অকালেকরে যাচ্ছে বহু তাজা প্রাণ। অঙ্কুরেই বিনষ্ট হচ্ছে বহু তরুণের সম্ভাবনাময় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। মাদকদ্রব্য তরুণ সমাজের একবিরাট অংশকে অকর্মণ্য ও অচেতন করে তুলছে, অবক্ষয় ঘটাচ্ছে মূল্যবােধের। ফলে সুস্থ সামাজিক বিন্যাস, সুন্দর পরিবেশও জাতীয় স্থিতিশীলতা এক বিরাট হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। রুদ্ধ হয়ে পড়ছে সামাজিক চিন্তাস্রোত। নতুন কিছু আবিষ্কারের২৪৬পপি এসএসসি রচনা শিক্ষা।সম্ভাবনা তিরােহিত হচ্ছে। মানবিক মূল্যবােধ ও সামাজিক সম্পর্কের দারুণ অবনতি ঘটছে। মাদকদ্রব্যের ব্যবহার তাই গােটাবিশ্বকে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে।মাদকাসক্তি প্রতিরােধের উপায় : বিশ্বজুড়ে মাদকাসক্তি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা হিসেবে প্রতিভাত হওয়ায় এসমস্যা সমাধানে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে।দেশে-বিদেশে চলছে বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিরােধমূলক কর্মসূচি প্রণয়ন। বিশ্বের প্রতিটি শাস্ত্র, বিষয় ও ধর্মে মাদককেনিষিদ্ধ ঘােষণা করা হয়েছে এবং এর প্রতিকারে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে পবিত্র আল-কুরআনে সুরামায়েদার ৯০ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া, প্রতিমা ও ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ এসব শয়তানেরকার্য বৈ তাে নয়। অতএব এগুলাে থেকে বেঁচে থাক, যাতে তােমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।” তা ছাড়া বিভিন্ন দর্শন, সমাজতত্ত্ব,সাহিত্য প্রতিটি বিষয়ে তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে এসব নেশার প্রতি নিষেধমূলক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত হয়েছে। তাই এসবঅনুশাসন মেনে সুশৃঙ্খল জীবনযাপনই পারে মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণ করতে। অন্যদিকে এ সমস্যা মােকাবিলার সবচেয়েবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া হচ্ছে- প্রতিকারমূলক, প্রতিরােধমূলক এবং পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ জন্য অবৈধ মাদক পাচারও মাদকাসক্তি যে একটি ভয়াবহ সমস্যা সে সম্পর্কে সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং এ সমস্যা সমাধানেসম্মিলিত সামাজিক প্রতিরােধ গড়ে তুলতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে তুলতে হবে। এজন্য প্রয়ােজন হবে ব্যাপক সামাজিকসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের মাঝে নৈতিক মূল্যবােধ ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তােলা। এক্ষেত্রে পিতা-মাতা, অভিভাবক,শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার, প্রশাসন, নীতি-নির্ধারক, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবকসহ সকল স্তরের নাগরিকের ঐক্যবদ্ধঅঙ্গীকার ও প্রচেষ্টা অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এভাবে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই কেবল আমাদের বর্তমানও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের অভিশাপ থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।মাদকাসক্তি প্রতিরােধে গৃহীত পদক্ষেপ : মাদকাসক্তদের চিকিৎসা সেবাদানের উদ্দেশ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরচারটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা করে আসছে। তা ছাড়া সরকারি প্রচেষ্টায় কয়েকজন তরুণ ডাক্তার ওসমাজসেবীর উৎসাহে ঢাকার গুলশানে ‘মাদকাসক্তি নিবারণ কেন্দ্র এবং মগবাজারে ‘মুক্তি ক্লিনিক’ খােলা হয়েছে। সরকারকর্তৃক প্রণীত হয়েছে সকল প্রকার মাদক দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত কঠোর আইন।উপসংহার : মাদকে ভীরু খোজে সাহস, দুর্বল খোঁজে শক্তি, দুঃখী খোঁজে সুখ, কিন্তু অধঃপতন ছাড়া আর কিছুই পায়না। তারপরও এরই আকর্ষণে অসংখ্য সম্ভাবনাময় তরুণ আজ অকাল মৃত্যুর দিকে ছুটে চলেছে। এ অবস্থা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে হবে। কঠোর হস্তে বন্ধ করতে হবে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান। মাদকাসক্তির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কেসবাইকে সম্যকভাবে অবহিত করে এর বিরুদ্ধে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই কেবল।মাদকাসক্তির ভয়াবহ পরিণতি থেকে জাতি রক্ষা পাবে।

কর্মমুখী শিক্ষাঅথবা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা।অথবা, কারিগরি শিক্ষা[সিবাে, ২০২০; ম. বাে, ২০২০; য. বাে, ২০১৭; ঢা, বাে, ২০১৫)ভূমিকা : শিক্ষাই জাতির উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তবে এ শিক্ষা তখনই একটি জাতিকে মাথা তুলে দাঁড়াতে সাহায্য করবে,যখন তা হবে জীবনের সাথে সম্পৃক্ত। জীবনের সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষাই কর্মমুখী শিক্ষা। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে পৃথিবী দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার সাথে কর্মমুখী শিক্ষার সংযােগ সাধনের ফলেই তা সম্ভব হচ্ছে। কর্মই একটি জাতিরউন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। ফলে আজকের বিশ্বে সাধারণ শিক্ষার চেয়ে কর্মমুখী শিক্ষাই অধিক গুরুত্ব পাচ্ছে।২৪৮পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে অনেকগুলাে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ভােকেশনাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, লেদার টেকনােলজিকলেজ, টেক্সটাইল টেকনােলজি কলেজ, গ্রাফিক আর্ট ইনস্টিটিউট ইত্যাদি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা বাের্ডের সূত্রমতে,বর্তমানে ৮ হাজার ৬৭টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এগুলােতে বিভিন্ন ট্রেডে কারিগরি শিক্ষা ও সার্টিফিকেট দেওয়াহয়। এখন সর্বমােট সােয়া ১২ লাখ শিক্ষার্থী কর্মমুখী শিক্ষায় অধ্যয়ন করছে। যা দেশের মােট শিক্ষার্থীর প্রায় ১৬ শতাংশ।কর্মমুখী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের সমস্যা ও সুপারিশ: কর্মমুখী শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ওঅবকাঠামােগত সুযােগ-সুবিধার যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। প্রয়ােজনীয় শিক্ষক, অন্যান্য লােকবল, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ,আর্থিক ব্যয় সংকুলানের ব্যবস্থা ইত্যাদি ক্ষেত্রেও প্রকট সমস্যা বিদ্যমান। শিক্ষকদের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণেরপ্রয়ােজনীয়তাও অনস্বীকার্য। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়ােজনীয় সংখ্যক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক নিয়ােগ।নিশ্চিত করতে হবে। বৃত্তিমূলক ও কারিগরি শিক্ষার জন্য প্রয়ােজনীয় উপকরণ সরবরাহ করতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভােকেশনাল শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ : একটি দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি শিক্ষা ছাড়া সমৃদ্ধির পথে, উন্নয়নের পথে এগিয়েনেওয়া সম্ভব নয়। এই বিবেচনায় বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনও অনেক দূরে রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে বর্তমানসরকার প্রযুক্তি এবং কারিগরি শিক্ষার নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে। ইতােমধ্যে দেশের ৬ষ্ঠ থেকে ১০মশ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য‘কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা বিষয়টি পাঠ্যভুক্ত করা হবে। নবম-দশম শ্রেণির সব শাখায় কারিগরি শিক্ষার বই বাধ্যতামূলককরা হবে। এছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে সাধারণ শিক্ষা ধারার (বিদ্যালয় ও মাদরাসা) সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০মশ্রেণি পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক কোর্স চালু করা হবে।উপসংহার : প্রযুক্তির উন্নয়নে বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আমাদেরও সময় এসেছে যুগের সাথেতাল মিলিয়ে শিক্ষার মানে পরিবর্তন আনার। যুগের প্রয়ােজনে জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা আজ অপরিহার্য। শুধু ডিগ্রি বাসার্টিফিকেটের পেছনে ছুটে চলা নয়, জাতির সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। সাধারণ শিক্ষার চেয়েবৃত্তিমূলক কর্মমুখী শিক্ষা যে বেশি উপকারী এই চেতনা সৃষ্টি করতে হবে। তাহলেই ব্যক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয়কল্যাণ ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হবে।

ক্রিকেট খেলাসূচনা : আভিধানিকভাবে ‘ক্রিকেট’ অর্থ ঝি ঝি পােকা হলেও বর্তমানে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। ক্রিকেটফুটবলের মতােই একটি বিদেশি খেলা। ফুটবল খেলা যদিও জনপ্রিয় খেলা তবু ক্রিকেটকেই বলা হয় খেলার রাজা। অনেকব্যয়বহুল ও দীর্ঘ সময়ের খেলা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই ক্রিকেট খেলা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এসবদেশে ক্রিকেট এত বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, মজা করে এ জনপ্রিয়তাকে ‘ক্রিকেট জ্বর’ বলেও আখ্যা দেয়া হয়।ক্রিকেট খেলার ইতিহাস : ক্রিকেট খেলার জন্মভূমি ইংল্যান্ড। খ্রিস্টীয় আঠারাে শতকে ইংল্যান্ডের মাটিতেই প্রথমক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাম্পশায়ারের অন্তর্গত হাম্পবলডনে প্রথমে ক্রিকেট দল গড়ে উঠে। তারপর সমগ্র ইল্যান্ডে এখেলা জনপ্রিয় হয়ে উঠে। উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর পূর্বাহে পৃথিবীর বিভিন্ন অংশে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য সম্প্রসারিত হওয়ারসাথে সাথে ক্রিকেট খেলাও ছড়িয়ে পড়ে। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক সফরেরমাধ্যমে বিশ্বের ক্রিকেটপ্রিয় দেশগুলাের সাথে প্রতিযােগিতায় অবতীর্ণ হয়। পরবর্তীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, অস্ট্রেলিয়া,পপি এসএসসি রচনা শিক্ষানিউজিল্যান্ড, ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, স্কটল্যান্ড প্রভৃতি দেশেএ খেলা ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠে।ক্রিকেট খেলার প্রকারভেদ : ক্রিকেট খেলা তিন ধরনের। যথা- টেস্ট ম্যাচ অর্থাৎ পাঁচ দিনের খেলা, ওয়ানডে ম্যাচ।অর্থাৎ এক দিনের সীমিত ওভারের খেলা, এবং টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অর্থাৎ ২০ ওভারের খেলা।ক্রিকেট খেলার নিয়ম : ক্রিকেট দু’দলে খেলতে হয়। প্রত্যেক দলে এগারােজন করে খেলােয়াড় থাকে। ক্রিকেটখেলার জন্য একটি কাঠের ব্যাট ও মুষ্টির ন্যায় আয়তনবিশিষ্ট একটি গােলাকার কাঠের বলের প্রয়ােজন হয়। মাঠেরমধ্যস্থলে পরস্পরের সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে বাইশ গজ দূরে এক একদিকে তিনটি করে কাঠের দণ্ড পোতা থাকে। এ পোঁতাকাঠের দণ্ডকে ক্রিকেটের পরিভাষায় ‘উইকেট’ বলা হয়। এ উইকেটের মাথায় একটি নির্দিষ্ট মানের দুটি করে কাঠখণ্ডথাকে, এগুলােকে বলা হয় ‘বেইল’। ক্রিকেট খেলা আরম্ভ হওয়ার পূর্বে টস দেওয়া হয়। যে পক্ষ টসে জয়লাভ করে সে পক্ষসিদ্ধান্ত নেয় কে আগে ব্যাট করবে। প্রতিপক্ষ ফিল্ডিং-এর জন্য প্রস্তুত হয়। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে উভয় দলকে পর্যায়ক্রমেদুবার করে ব্যাট করতে হয়। প্রত্যেকবারের খেলাকে একটি ইনিংস বলা হয়। ক্রিকেট খেলা যিনি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণকরেন তাকে আম্পায়ার বলে। দুই পাশের উইকেটের জন্য দুইজন আম্পায়ার থাকেন। তবে বর্তমানে আরও এক আম্পায়ার।অন্তরালে থেকে কাজ করেন, যাকে ‘থার্ড আম্পায়ার’ বলা হয়।একদল ব্যাট করে আর অন্যদল মাঠের নির্দিষ্ট স্থান ঘিরে দাঁড়ায়, যাতে বল আয়ত্তের বাইরে যেতে না পারে। দুজন।ব্যাটধারী দুদিকের উইকেটের নিকট পরস্পর মুখােমুখি দাঁড়ায়। তাদের মধ্যে একজন বল পিটায় আর অন্যজনপ্রয়ােজনবােধে দৌড়িয়ে দলের জন্য রান সংগ্রহ করতে সাহায্য করে, পরে পালাক্রমে নিজেরা ব্যাট করে। প্রতিপক্ষ দলেরএকজন একদিক থেকে বল নিক্ষেপ করে ব্যাটধারীর উইকেট স্পর্শ বা আঘাত করতে চেষ্টা করে। বল নিক্ষেপকারীকে‘বােলার’ বলে। একজন বােলার একাধারে ছয় বল অর্থাৎ এক ওভার এবং একদিনের খেলায় বিরতি দিয়ে দিয়ে মােট দশওভার বল করতে পারে। ব্যাটধারীর উইকেটের পেছনে যে দাড়িয়ে থাকে তাকে ‘উইকেট রক্ষক’ বলে। তাদের লক্ষ্য থাকেউইকেট ও বলের দিকে, বাকি খেলােয়াড় চতুর্দিকে নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে বল আটকাবার চেষ্টা করে। এ জন্য তাদেরকেফিল্ডার বলে। একদলের দশজন খেলােয়াড় আউট হলে তাদের এক ইনিংস শেষ হয়। তখন অপর দল ব্যাট করার সুযােগপায়।আউটবিধি : প্রত্যেক বােলর সর্বদা ব্যাটসম্যানকে আউট করার চেষ্টা করেন। আবার ব্যাটসম্যান চেষ্টা করেন।উইকেট রক্ষা করে রান সংগ্রহ করতে। আর এভাবেই খেলা উপভােগ্য হয়ে উঠে। ফিল্ড-এ থাকা দলের খেলােয়াড়রা মাঠেরবিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয় এবং বলকে সীমানা ছাড়িয়ে যেতে বাধা দেয়। ফিল্ডাররা বল মাটি স্পর্শ করার আগেই শূন্যেবলটি ধরে ব্যাটসম্যানকে ‘ক্যাচ আউট’ করেন। ক্যাচ আউট ছাড়াও ক্রিকেটে বােল্ড আউট, রান আউট, লেগ বিফোরউইকেট, স্ট্যাম্প আউট ইত্যাদি রয়েছে।জয়-পরাজয় ; এক দিনের খেলার জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয় নির্দিষ্ট ওভারে রানের সংখ্যা এবং কতজন ব্যাটসম্যান।নট আউট তার হিসাব সুতরাং এ খেলায় সব সময় লক্ষ রাখতে হয় রান বাড়াবার দিকে এবং উইকেট রক্ষার দিকে।অন্যদিকে টেস্ট ম্যাচে প্রতি দল দুইবার ব্যাট করার সুযােগ পায়। এর মধ্যে যে দল বেশি রান করতে পারে এবং নির্দিষ্টসময়ের মধ্যে প্রতিপক্ষকে আউট করতে পারে সে দলই জয়ী হয় নতুবা খেলা দ্র হয়।সাম্প্রতিক ক্রিকেট খেলা ; সাম্প্রতিককালে এ খেলা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং এর অনেক নতুন মাত্রা যােগহয়েছে। বর্তমানে দীর্ঘ সময়ের অসুবিধা দূর করার জন্য টি-টোয়েন্টি খেলা চালু করা হয়েছে। এতে প্রত্যেক দল ২০ ওভারকরে খেলার সুযােগ পায়; এতে যে দল বেশি রান করতে পারে সে দল বিজয়ী বলে ঘােষিত হয়। টি-টোয়েন্টি ম্যাচ কমসময়ে শেষ হয় বলে এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে। তা ছাড়া ৫০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচও তার জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।বিশ্বকাপ ক্রিকেট : ক্রিকেটের ইতিহাস দীর্ঘদিনের হলেও ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হয়েছে ক্রিকেটের মহামিলন বিশ্বকাপক্রিকেট। প্রতি চার বছর পর পর বিশ্বকাপ ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হয়।পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাপ্রথম দুইবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং তৃতীয়বার ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৮৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চতুর্থ বিশ্বকাপক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয় অস্ট্রেলিয়া। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়নহয় পাকিস্তান। ১৯৯৬ সালে পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলংকায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে চ্যাম্পিয়ন হয়।শ্রীলংকা। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্বকাপ, ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অষ্টম বিশ্বকাপ এবং২০০৭ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত নবম বিশ্বকাপ জয় করে অস্ট্রেলিয়া। ২০১১ সালে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকা।যৌথভাবে আয়ােজন করে দশম বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আসর। এ আসরে ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৫ সালে যৌথভাবে।অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এগারােতম বিশ্বকাপ আয়ােজন করে। দুই স্বাগতিক দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ফাইনাল ম্যাচ এবংএতে অস্ট্রেলিয়া জয়লাভ করে চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়ােজন করে।ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমবারের মতাে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার মর্যাদা লাভ করে।ক্রিকেটে বাংলাদেশ : স্বাধীনতা লাভের পূর্বে বাংলাদেশে ক্রিকেটের যাত্রা শুরু হলেও পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠীর বৈষম্যেরকারণে তেমন উন্নতি হয় নি। ১৯৭৬ সালের ২৬ জুলাই বাংলাদেশ আইসিসি’র সহযােগী সদস্য নির্বাচিত হয়। তারপরথেকে আন্তরিক চেষ্টা ও সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে আইসিসি’র ষষ্ঠ আসরে ফাইনালে কেনিয়াকে ২ উইকেটেহারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ ওয়ানডে স্ট্যাটাস পায়। এরপর থেকে বাংলাদেশ আইসিসি’র কাছে টেস্টস্ট্যাটাস দাবি করে আসছিল। অবশেষে ২০০০ সালের ২৬ জুন আইসিসি’র ৩৬তম সভায় বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাসপ্রদান করা হয়। এরপর থেকে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নতি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলংকা, ভারত,পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়াসহ বড় বড় দলকে বাংলাদেশ পরাজিত করেছে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্ভোধনীঅনুষ্ঠানসহ ৮টি ম্যাচ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা এদেশের ক্রিকেটে ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। ২০১৫কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে চমক দেখায় টাইগাররা। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে নাস্তানাবুদ করেসিরিজ জিতে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রপিতে খেলার যােগ্যতা অর্জন করে মাশরাফির বাংলাদেশ। ২০১৯ সালে বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ প্রায় শেষ পর্যন্ত ৫ম স্থান ধরে রাখে। এ বিশ্বকাপে বিশ্বের তাবৎ ক্রিকেটপ্রেমী এবং বিশ্ববিখ্যাতধারাভাষ্যকাররা বাংলাদেশের পারফরম্যান্সের অকুণ্ঠ প্রসংশা করেছেন।উপসংহার : বর্তমানে দেশ-বিদেশে ক্রিকেট একটি জনপ্রিয় খেলা। এ খেলার মাধ্যমে দেশে দেশে গড়ে উঠে সখ্য।মানুষের মাঝে সম্প্রীতির বন্ধন হয় দৃঢ়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে এ খেলা সকল মানুষকে এক কাতারে সামিল করে। যা বিশ্বশান্তির দ্বার উন্মােচিত করে সহজেই।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশয, বাে, ২০২০, ২০১৬]অথবা, ক্রিকেট ও বাংলাদেশ।[য, বাে, ২০১৬; রা, বাে, ২০১৬; বরি, বাে, ২০১৪]ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বে ক্রিকেট একটি অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। বাংলাদেশ খুব অল্প সময়েই এই খেলায় সফলতা অর্জনকরেছে। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এই সফলতা সত্যিই গৌরবের বিষয়। সােনার বাংলার দামাল ছেলেরা আজ ক্রিকেটবিশ্বে সাফল্যের পতাকা উড়িয়ে উজ্জ্বল করেছে দেশের সম্মান। তাই এ দেশের মানুষের কাছে ক্রিকেট খেলা অত্যন্তআনন্দের, গর্বের ও অহংকারের।বাংলাদেশ ক্রিকেটের সূচনা : স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে বাংলাদেশে ক্রিকেটের হাতেখড়ি ঘটে। কিন্তু পাকিস্তানিশাসকগােষ্ঠীর একচোখা স্বভাব ও স্বার্থপরতার বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে অন্যান্য সেক্টরের মতাে বাংলাদেশ ক্রিকেটওপৃষ্ঠপােষকতার মুখ দেখেনি। তাই এ সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়েছিল। কিন্তু অদম্য বাঙালি জাতিতাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির আন্দোলনের সাথে সাথে নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সযত্নে আগলে রেখেছিল;যার ফলে ক্রিকেটে আমাদের আজকের এ অবস্থান।পপি এসএসসি রচনা শিক্ষা২৫৩।বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতি : স্বাধীনতা-পূর্ব সময়ে বাংলাদেশে ক্রিকেট খেলা শুরু হলেও দীর্ঘকাল এটি সাফল্যের মুখদেখেনি বললেই চলে। স্বাধীনতা-উত্তরকালে বাংলাদেশ যখন অবকাঠামােগত বিনির্মাণে হাত দেয় তখন ক্রিকেটের প্রতিওসবিশেষ যত্নবান হয়। আর এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ আই.সি.সি’র সহযােগী সদস্যপদ লাভ করে।আই.সি.সি’র সদস্য হওয়ার পর বাংলাদেশ নিজেদের নৈপুণ্য উপস্থাপনের সুযােগ পায়।আই.সি.সি. ট্রফি । বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটে ১৯৯৭-র আই.সি.সি. ট্রফিতে। কিন্তু সেপ্রতিযােগিতায় একটা সময় বাংলাদেশের আশার তরী ডুবতে বসেছিল। এ প্রতিযােগিতায় দ্বিতীয় রাউন্ডের সর্বশেষ খেলা ছিলহল্যান্ডের সঙ্গে। হল্যান্ডের সাথে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাত্র ১৫রানে ৪টি মূল্যবান উইকেটের পতন ঘটে। কিন্তু সে সময়ের অধিনায়ক আকরাম খান ও তার সহযােদ্ধারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচজিতে সেমিফাইনালে উন্নীত হয়। পরবর্তী পর্যায়ে সেমিফাইনালে বাংলাদেশ সহজেই স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উন্নীতহয়। আর তখনই বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলা নিশ্চিত হয়।ওয়ানডে স্ট্যাটাস ও বাংলাদেশ : ১৯৯৭ সালে আই.সি.সি. ট্রফি জেতার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বাের্ড ওয়ানডেস্ট্যাটাসের জন্য বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্তা আই.সি.সি’র কাছে জোর দাবি জানায়। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সার্বিক অবস্থাবিবেচনা করে আই.সি.সি ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশকে ‘ওয়ানডে স্ট্যাটাস প্রদান করে।টেস্ট ক্রিকেট ও বাংলাদেশ : ‘ওয়ানডে স্ট্যাটাস পাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বাের্ড ‘টেস্ট স্ট্যাটাস’ এরজন্য আই.সি.সি’র কাছে দাবি জানিয়ে আসছিল। ১৯৯৯ এর বিশ্বকাপে দুটো দেশের বিরুদ্ধে জয় লাভ করায় বাংলাদেশেরএ দাবি আরও জোরালাে হয়ে উঠে। ফলে বিশ্বকাপ পরবর্তী আই.সি.সি’র সভায় বাংলাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাসের বিষয়টি বেশগুরুত্ব পায়। এরপর আই.সি.সি বিভিন্নভাবে বাল্লাদেশের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার সম্ভাবনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। ওয়েস্টইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড ‘এ’ দলসহ বেশ কয়েকটি দল বাংলাদেশ সফর করে এবং তারা বাংলাদেশের সাথে বেশ কয়েকটিওয়ানডে, ৩ দিনের ও ৪ দিনের ম্যাচে অংশ নেয়। এ খেলাগুলাের ফলাফল, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অবস্থান ও অবকাঠামােগতসম্ভাবনাসহ সার্বিক দিক বিবেচনা করে আই.সি.সি. ২০০০ সালের ২৬ জুনের সভায় সবগুলাে টেস্ট প্লেয়িং দেশের সমর্থনেরপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস প্রদান করে। নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের জন্য এটি এক বিরল অর্জন। আর ইতােমধ্যেটেস্ট ম্যাচ জয় করে বাংলাদেশ তাদের যােগ্যতা প্রমাণও করেছে। কারণ, বিশ্বের কোনাে দেশই টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পরএত তাড়াতাড়ি টেস্ট ম্যাচ জয় করতে পারেনি।বিশ্বকাপ ক্রিকেট ও বাংলাদেশ : ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতাে স্বপ্নের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয় এবংঅসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে। সাবেক বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটের পরাশক্তি পাকিস্তান এবং নবাগত স্কটল্যান্ডকে হারিয়েবাংলাদেশ ক্রিকেট বিশ্ব তথা গােটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতাে বিশ্বকাপেঅংশগ্রহণ করে। এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের খেলােয়াড়রা তেমন সফলতা লাভ করতে পারে না। তারপর বিশ্বকাপ জয়ীশ্রীলংকার কোচ ডেভ হােয়াটমােরকে বাংলাদেশ দলের কোচ নিয়ে করা হয়। তার সুদক্ষ প্রশিক্ষণ ও পরিচালনায়বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে পরাজিত করে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীকে অবাক করে দেয়। কেনিয়া ওজিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ জয় করে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ স্কটল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডকেপরাজিত করে হৈচৈ ফেলে দেয়। শক্তিশালী ভারত ও বারমুডাকে পরাজিত করে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতাে বিশ্বকাপক্রিকেটের দ্বিতীয় পর্বে পা রাখে। দ্বিতীয় রাউন্ডে ক্রিকেট পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করে দেশের জন্য বিরলসম্মান বয়ে আনে। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ তাদের মিশন শেষ করে ১৬ দলের মধ্যে সপ্তম স্থান।অর্জনের মধ্য দিয়ে। ২০১১ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডসহ আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডকে হারানাের পরও বাংলাদেশ সুপারএইটে উঠতে ব্যর্থ হয়। ২০১৫ সালে যৌথভাবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপের আয়ােজন করে। এ বিশ্বকাপেবাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে নতুন ইতিহাস রচনা করে।বিশ্বকাপ ২০১৯ ও বাংলাদেশ : ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল সেমিফাইনাল খেলা। বিশ্বকাপের মতাে বড়আসরে এ টার্গেট করাকে বড় দলগুলাের কাছে উচ্চাভিলাষী মনে হয়েছিল। তবে প্রথম ম্যাচে যখন দক্ষিণ আফ্রিকার মতাে২৫৪পপি এসএসসি রচনা শিক্ষারাশক্তিধর দলকে হারিয়ে দিল, তখন দলগুলাে নড়েচড়ে বসে। শ্রীলঙ্কার সাথে ম্যাচটি বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে যাওয়ার পরওয়েস্ট ইন্ডিজের করা তিনশর বেশি রান অবলীলায় তাড়া করে জেতে। বাল্লাদেশের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে শ্রীলঙ্কারসাথে ম্যাচটি যদি বৃষ্টিতে ভেসে না যেত তবে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌছে যেত। এই একটি ম্যাচইবাংলাদেশের লক্ষ্যে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তারপরও নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ভারতের মতাে পরাশক্তিধর দলগুলাের সাথে।যেভাবে পাল্লা দেয় তাতে তাদের কপালে হারের দুশ্চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, টুর্নামেন্টের একেবারেশেষ অবধি পাঁচ নম্বর স্থানটি ধরে রেখেছিল। আশা ছিল, ক্রিকেটীয় ভাষায় অসম্ভব বলে কিছু নেই এই মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে।ভারত ও পাকিস্তানকে হারিয়ে সেমিফাইনালে চলে যাওয়ার পথটি প্রশস্ত হতে পারে। সে আশা পূর্ণ হয়নি। শেষ দুই ম্যাচেহেরে সেবারের বিশ্বকাপ মিশন শেষ করেছে টাইগাররা। তবে পুরাে টুর্নামেন্টজুড়ে ক্রিকেটাররা যে দক্ষতা ও যােগ্যতাদেখিয়েছে তা অতুলনীয়।ব্যক্তিগত রেকর্ডের ক্ষেত্রে সাকিবের কৃতিত্ব ছিল অসাধারণ। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একইম্যাচে পাঁচ উইকেট ও সেঞ্চুরি করেছেন। তিনি শচিন টেন্ডুলকার, মেথু হেডেনের পর এক বিশ্বকাপে তাদের চেয়ে দুই-তিনম্যাচ কম খেলে ৬০০ রান করা (আট ম্যাচ) তৃতীয় ব্যাটসম্যান। যদি বাংলাদেশ সেমিফাইনাল পর্যন্ত যেতে পারত তাহলে তারকীর্তি কোথায় গিয়ে দাঁড়াত তা সহজেই অনুমান করা যায়। বাংলাদেশের বােলিংয়ে বিস্ময় বালক মােস্তাফিজুর রহমান পরপরদুই ম্যাচে পাঁচ উইকেট যেমন নিয়েছেন তেমনি ওয়ানডেতে চতুর্থ দুততম বােলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলকছুঁয়েছেন। এছাড়া মুশফিকুর রহিম, তামিম, মাহমুদুল্লাহর মতাে সিনিয়র ক্রিকেটারদের পাশাপাশি সাইফুদ্দিন, মিরাজ,মােসাদ্দেক, লিটন দাশের মতাে তরুণ ক্রিকেটাররা তাদের প্রতিভা দেখিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অগ্রগতির পথেএবারের বিশ্বকাপটি হয়ে থাকবে স্বপ্নের এক বিশ্বকাপ! বলা যায়, বিশ্বকাপ জেতার ভিত্তি হিসেবে এই আসর বাংলাদেশকেঅনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে।ক্রিকেটের মানােন্নয়নে করণীয় : ক্রিকেটে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতেহবে। যেমন- সরকারি পৃষ্ঠপােষকতা বৃদ্ধি করতে হবে; যােগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে নির্বাচক ও বিসিবির সদস্য নির্বাচনকরতে হবে; তৃণমূল পর্যায়ে ক্রিকেটের উপর জোর দিতে হবে এবং প্রশিক্ষণের উন্নত ব্যবস্থা করতে হবে। তা ছাড়াঅবকাঠামােগত উন্নয়ন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বেশি বেশি টুর্নামেন্টের আয়ােজন করতে হবে। এ পদক্ষেপগুলােগৃহীত হলে বাংলাদেশ ক্রিকেটে পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।উপসংহার : শুরু থেকেই ক্রিকেটে এ দেশের অর্জন নিঃসন্দেহে আমাদেরকে অনেক আশাবাদী করে। ইতােমধ্যেজনপ্রিয় এ খেলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে। দেশের সরকার ও খেলােয়াড়সহ সংশ্লিষ্ট সকলেরউচিত ক্রিকেটে দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণে প্রয়ােজনীয় ভূমিকা রেখে দেশের মর্যাদাকে সুসংহত করা।

বাংলাদেশের কৃষককু, বাে. ২০২০]ভূমিকা : বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এদেশের প্রায় ৬৭% লােক প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল।দেশের মােট রপ্তানি আয়ের প্রায় ১৪% আসে কৃষিখাত থেকে। তাই এদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ সম্পূর্ণভাবে কৃষির উপরনির্ভরশীল। আর এ কৃষি ব্যবস্থার সাথে মিশে আছে বাংলার অগণিত কৃষক। এ কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলানাে ফসল।দিয়েই ঘুরছে আমাদের অর্থনীতির চাকা। তাই তাে কবি বলেন,“সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষাদেশ মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা।”কৃষি ও কৃষক : বাংলার মাটি ও মানুষের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত হলাে এদেশের কৃষি ও কৃষক। এদেশের খেটেখাওয়া আপামর জনসাধারণ রােদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সােনার ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে যে২৫৫পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাপেশায় জীবিকা নির্বাহ করে, সেটাই হলাে কৃষি। বাংলাদেশের আর্থিক কাঠামােই হচ্ছে কৃষিভিত্তিক। আর কৃষি কাজ করেযারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তারাই হলেন কৃষক। কৃষককুলের হাড়ভাঙা পরিশ্রমে, ত্যাগে, ঘামে গড়ে উঠেছে এদেশেরঅর্থনীতি। দুঃখ-দারিদ্র, লাঞ্ছনা-গঞ্জনা সহ্য করে তারা যেভাবে দেশ ও দশের সেবা করে যাচ্ছে তার তুলনা নেই।কৃষকের অক্লান্ত পরিশ্রমেই এদেশ ভরে উঠে ফসলের সমারােহে আর আমরা পাই ক্ষুধার অন্ন। কৃষকের উৎপাদিত কাঁচামালবিদেশে রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হয় বৈদেশিক মুদ্রায়, সম্ভব হয় শিল্পায়ন। তাই এদেশের অর্থনীতির একঅবিচ্ছেদ্য অংশ হলাে কৃষি ও কৃষক।কৃষকের গুরুত্ব : বাংলার কৃষক হচ্ছে বাংলার কৃষির প্রাণ। তাই বলা হয়ে থাকে ‘কৃষকই জাতির মেরুদণ্ড। কৃষকেরউৎপাদিত পণ্যে এদেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকে। জাতীয় আয় সৃষ্টিতে কৃষক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খাদ্যদ্রব্য ওনিত্য প্রয়ােজনীয় দ্রব্যাদি যােগায় আমাদের কৃষকই। কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা মিটিয়েও বিদেশে রপ্তানি করেবৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত দ্রব্য রপ্তানি করেই অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। এ পাটকৃষকেরই উৎপাদিত পণ্য। এদেশের অধিকাংশ খাদ্যের যােগানদাতা কৃষক। ভাত, ডাল, আলু, তরকারি বাঙালির প্রধানখাদ্য। এগুলাে সবই কৃষক উৎপাদন করে। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ফলানাে এ ফসল দিয়েই আমরা জীবন নির্বাহ করি।বাংলা ও বাঙালির জন্য তাই কৃষক মহান ঈশ্বরের আশীর্বাদস্বরূপ। তাই আমাদের জীবনে কৃষকের গুরুত্ব অপরিসীম।কৃষকের জীবন : বাংলাদেশের কৃষকগণ অতি সহজ ও সরল জীবনযাপন করে। তাদের জীবনের একমাত্র সম্বলহালের গরু ও পুরাতন ভোতা কৃষি যন্ত্রপাতি। তারা ভাগ্যের উপর পূর্ণ বিশ্বাস রেখে কাজ করে যায়। সারাদিন মাঠে কাজকরতে ভালােবাসে। রােদ-বৃষ্টি তাদেরকে কাবু করতে পারে না। মাঠভরা সােনার ফসল দেখলে তাদের মন আনন্দে নেচেউঠে।কৃষকদের অতীত অবস্থা : অতীতে গ্রামবাংলার কৃষকদের জীবন ছিল সুখী ও সচ্ছল। তারা যে ফসল ফলাতাে তা দিয়েতারা সারা বছর ভালােভাবে কাটাতে পারত। তখন তাদের ছিল গােলাভরা ধান, গােয়ালভরা গরু এবং পুকুরভরা মাছ। তাদেরহৃদয় ছিল হাসি, ও আনন্দে ভরপুর। জমির তুলনায় লােকসংখ্যা ছিল খুবই কম। তাই অভাব-অনটন মােটেই ছিল না।অভাব-অনটন না থাকায় বাংলার কৃষক মনের আনন্দে দ্বিগুণ পরিশ্রম করে আরও বেশি সােনালি ফসল ফলাতাে। এ ফসলদিয়ে অতীতে কৃষক হাসিমুখে জীবিকা নির্বাহ করতে পারত।কৃষকদের বর্তমান অবস্থা : কৃষকের অতীতের সচ্ছলতা এখন আর নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সার, বীজ, মূলধনেরঅভাব, জনসংখ্যার অতিরিক্ত চাপ, ভূমির উর্বরতা হ্রাস ইত্যাদি বহুবিধ ভৌগােলিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে বাংলারকৃষক এখন আর আগের মতাে ফসল ফলাতে পারে না। তারা নানা অভাব অনটন ও রােগ-শােকে জর্জরিত। আজ তারাসর্বহারা। তাদের মুখে সেই হাসি নেই। তাদের পেটে নেই ভাত, পরনে নেই কাপড়। ক্ষেতের ফসল ওঠার সঙ্গে সঙ্গেমহাজনদের দেনার দায়ে সেই ফসল বিক্রি করতে হয় নামমাত্র মূল্যে। ফলে সকল সুখ-স্বপ্ন থেকে তারা হয় বঞ্চিত।দারিদ্র্যের অভিশাপে সুচিকিৎসা পায় না। রােগ-শােক তাদের জীবনসাথি । মৃত্যুকালে এরা উত্তরাধিকারীদের জন্যে রেখেযায় শুধু দারিদ্র্যের অভিশাপ।কৃষকদের দুর্দশার কারণ : বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও আমাদের কৃষি ব্যবস্থা খুবই অনুন্নত এবংকৃষকদের অবস্থাও অত্যন্ত দুর্দশাগ্রস্ত। আমাদের কৃষকদের এ দৈন্যদশার পিছনে প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে নানা কারণবিদ্যমান। আমাদের দেশে লােকসংখ্যার তুলনায় জমির পরিমাণ খুবই কম। জমির স্বল্প আয়ে তাদের সংসার চলে না। তারাশিক্ষার আলাে থেকে বঞ্চিত। তাই আধুনিক যন্ত্রপাতি সম্বন্ধে তারা অজ্ঞ। হাড্ডিসার গরু ও ভোঁতা লাঙল এখনও তাদেরসম্বল। দারিদ্র্যের অভিশাপে প্রয়ােজনীয় কীটনাশক ওষুধ কিংবা উন্নতমানের সার ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্রমাগতএকই চাষের ফলে জমির উর্বরা শক্তি হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন কমে গেছে। আবার যে সামান্য ফসল পায় তার যথাযথ মূল্য নাপাওয়াতে কৃষিঋণ এবং মহাজনের দেনা পরিশােধ করার জন্য কম দামে কৃষককে সব ফসল বিক্রি করে দিতে হয়। তাহ্য, বাংলাদেশের কৃষকদের এক বিরাট অংশ ভূমিহীন। তারা অন্যের জমি চাষ করে। তাই উৎপাদিত ফসলের অধিকাংশইমালিকের নিকট চলে যায়। বাংলাদেশে শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত হয় না। এ সময় সেচের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনের জন্যপপি এসএসসি রচনা শিক্ষা।গভীর নলকূপ বসানাের সামর্থ্যও কৃষকের থাকে না। ফলে কৃষি উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটে। আবার বন্যা, খরা, জলােজ্জাস ইত্যাদিপ্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিবছর হাজার হাজার একর জমির ফসল ভাসিয়ে নিয়ে যায় বা নষ্ট করে। এতে কৃষকের দুর্দশা আরােবেড়ে যায়। আবার বর্ষা মৌসুমে কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষক তিন মাস বেকার থাকে। ফলে কৃষক দরিদ্র থেকেহতদরিদ্র হয়।দুর্দশা দূরীকরণের উপায় : কৃষিই অর্থনীতির মেরুদণ্ড। আর কৃষির সাথে জড়িয়ে আছে আমাদের কৃষকের প্রাণ। কৃষিরউন্নতি না হলে কৃষকেরও উন্নতি হবে না। কৃষির উন্নতি যদি বাধাগ্রস্ত হয় তবে বাংলাদেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাইকৃষির উন্নতি সাধিত হলে কৃষকেরও দুর্দশা লাঘব হবে। আর এ দুর্দশা লাঘবে নানা পদক্ষেপও নিতে হবে। এ ব্যাপারেকৃষকদের মধ্যে চেতনাবােধ জাগিয়ে তুলতে হবে। পুরানাে আমলের চাষাবাদ প্রণালি পরিবর্তন করে আধুনিক বিজ্ঞানসম্মতচাষাবাদ প্রবর্তন করতে হবে। আমাদের কৃষকগণ শিক্ষিত নয়। আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের জ্ঞান নেই। তাই কৃষিবিশেষজ্ঞ ও কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় সহযােগিতায় কৃষক সম্প্রদায়কে আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতন করে তুলতেহবে। কৃষকদের উন্নতির জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সুষ্ঠু সরকারি নীতি গ্রহণ করা প্রয়ােজন। গ্রামে গ্রামে কৃষকদেরসংগঠিত করে সমবায় বা যৌথ খামার ব্যবস্থা প্রচলনের মাধ্যমে চাষাবাদের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়ােজনের সময় কম দামে।কৃষকদের সার ও কীটনাশক সরবরাহ করতে হবে। কৃষকরা যাতে কম মূল্যে সেচযন্ত্র ও অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি পায় তারব্যবস্থা করতে হবে। বন্যার পানি যাতে ফসলের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য নদীর তীরে বড় বড় বাঁধ নির্মাণ কিংবা নদীখননের মাধ্যমে বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারকে ভূমি সংস্কার করার লক্ষ্যে কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবংসুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে। কৃষকদের মধ্যে সহজ শর্তে প্রয়ােজনীয় ঋণ প্রদানের জন্য সমবায় ব্যাংক ও কৃষিব্যাংকের সম্প্রসারণ করতে হবে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশের হাওর ও বিলের ভূমি চাষযােগ্য করতে হবে।অধিক উৎপাদনের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা দ্বারা কৃষকদেরকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। এসকল উদ্যোগ গ্রহণ করলেবাংলার কৃষকদের দুর্দশা লাঘবের পথ অত্যন্ত সুগম হবে।উপসংহার : কৃষকদের ভাগ্যের সঙ্গে এ দেশের অগণিত মানুষের ভাগ্য ওতপ্রােতভাবে জড়িত। সেজন্য এদেশেরউন্নয়ন ঘটাতে হলে প্রথমে কৃষকদের উন্নতি সাধন করতে হবে। তা না হলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হবে।

বই পড়ার আনন্দকুি, বাে, ২০১৭; দি, বাে, ২০১৪; রা, বাে, ২০১৪]ভূমিকা : বই মানুষের পরম বিশ্বস্ত বন্ধু! সামাজিক জীব হিসেবে মানুষ অন্যের সাহচর্য পাওয়ার পাশাপাশি বইকেওবন্ধু হিসেবে বেছে নিয়েছে। বইয়ের সাথে গড়ে তুলেছে আত্মিক সম্পর্ক। মানবজীবন প্রবাহের যাবতীয় ভাব-অনুভূতিজানার প্রবল আগ্রহ মানুষকে বইমুখী করেছে। মানুষের হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার অনুভূতি ধারণ করে বই অতীত-বর্তমান ও অনাগত ভবিষ্যতের মধ্যে যােগসূত্র স্থাপন করে। তাই বই পড়ে মানব মন লাভ করে পরম প্রশান্তি।বইয়ের আবির্ভাব : সভ্যতা বিকাশের এক পর্যায়ে মানুষ তার হৃদয়ের ভাবকে, অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে অন্য মানুষেরকাছে পৌছে দেয়ার আকাঙ্ক্ষা যখন প্রকাশ কর, তখন তারা আশ্রয় নিল বইয়ের। নিজেদের ভাব-অনুভূতি লিখে অন্যদেরজানানাের চেষ্টা করে তারা। সেক্ষেত্রে মুদ্রণ যন্ত্র আর ছাপাখানার আবিষ্কার বইয়ের প্রচারকে করেছে বিস্তৃত। আর এভাবেইঅতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত হয়। বই হয়ে উঠে অতীত ও বর্তমানের সেতুবন্ধন।বই পাঠের প্রয়ােজনীয়তা : বিশ্ববিখ্যাত ঔপন্যাসিক লিও টলস্টয় মানবজীবনে বইয়ের প্রয়ােজনীয়তা বােঝাতে গিয়েবলেন, “Three things are essential for life and those are books, books and books.” তার এ উক্তিটি থেকেবইয়ের প্রয়ােজনীয়তা অনুধাবন করা যায়। বই মানুষকে একই সাথে আনন্দ ও জ্ঞান দান করে। জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিদেরজ্ঞানভাণ্ডার আজ মহাসমুদ্র হয়ে স্বল্পায়ু মানুষের জ্ঞান-পিপাসা মিটানাের অপেক্ষায় বইয়ের রূপ ধারণ করে আছে। যুগে যুগেপপি এসএসসি রচনা শিক্ষা২৫৭পৃথিবীতে মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা মানুষকে শুনিয়েছেন আত্মার মুক্তির গান। হােমার, ভার্জিল, শেক্সপিয়র,দান্তে, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এরিস্টটল, প্লেটো, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরীর মতাে মহামানবেরাপৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তারা রেখে গেছেন তাদের মহামূল্যবান বই। এসব বই পড়ে তাদের সান্নিধ্য পাওয়া যাবে,উপলদ্ধি করা যাবে তাদের উপস্থিতি, জানা যাবে তাদের মূল্যবান জীবন দর্শন। তাই মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করারজন্য এবং আনন্দের অফুরন্ত উৎসের জন্য বই পাঠের প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে।মানুষের মন ও বই : বই পাঠে মানুষের কোমল মনে জন্ম নেয় আনন্দ, বেদনা, বিস্ময়, নীতি, সহানুভূতি, স্নেহ,প্রেম, মায়া, মমতা, ভক্তি প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি। বই পাঠে মানুষের মনে এক অপূর্ব শিহরণ জাগে। বই পাঠ করেই সে এপৃথিবীর বিশালত্ব অনুভব করতে পারে। বই পাঠের মাধ্যমে মানুষ সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের সন্ধান পায়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথঠাকুর বলেছেন-“বিশাল বিশ্বের আয়ােজনে।মন মাের জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্রতারই এক কোণেসেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আছে যাহেঅক্ষয় উৎসাহে। ”বই পড়ে মানুষের মনে নতুন প্রেরণা ও উৎসাহ জন্মে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব মুহূর্তেই বই মানুষের পাশেথাকে। বই কখনাে পুরনাে হয় না। বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ প্রভৃতি সাহিত্যিকদের বই এখনােপাঠকের মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। আর এ কারণেই বই মানুষের মনে চিরকালের জন্য স্থান করে নিয়েছে।আনন্দের উৎস বই : মানুষের আনন্দ লাভের পথ বিচিত্র। বই পাঠ আনন্দ লাভের শ্রেষ্ঠ পথ। বই মানুষের হৃদয়েআনন্দের অফুরন্ত উৎস। বই বিচিত্র বিষয় নিয়ে রচিত, যা মানুষের মনকে আনন্দ দান করে। স্বল্পায়ু মানুষ তার মন ওহৃদয়কে সুখ ও আনন্দে ভরে তুলতে চায়। তাই গ্রন্থপ্রেমিক মানুষ মনের আনন্দ উপভােগের জন্য বই হাতে তুলে নেয়। বইমানুষকে অফুরন্ত আনন্দ দান করে ঐশ্বর্যময় করে তােলে। বই আনন্দের পাশাপাশি মানুষকে জ্ঞান দান করে অধিকতর যােগ্যকরে গড়ে তােলে। বই জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণের সুযােগ দান করে। তাছাড়া বই সভ্যতার বাহক হিসেবে কাজ করে। বইপাঠ করে আমরা বিভিন্ন সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারি। ফলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। তাই যে জাতি বইবিমুখ,তারা আনন্দের অফুরন্ত উৎস থেকে বঞ্চিত হয়ে সংকীর্ণতা ও কূপমণ্ডুকতার শিকার হয়।বইয়ের বৈচিত্র্য: সভ্য মানুষের প্রয়ােজন অসংখ্য গ্রন্থরাজির সান্নিধ্য ও সঙ্গ। বিচিত্র বইয়ের বাহারি বৈচিত্র্য থেকেমানুষ আনন্দের নির্যাস পান করে। ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য ইত্যাদি বইয়ের পাতায় পাতায় মিশে আছে বিভিন্নজাতির জ্ঞান, বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের স্রোতধারা। সে ধারার মােহনায় সঙ্গম ঘটাতে পারলেই মানুষের আত্মপ্রসার ঘটেএবং গড়ে উঠে আসাধারণ ব্যক্তিত্ব।সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বই : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতু রচনা করে যুগােত্তীর্ণ গ্রন্থরাজি। গ্রন্থেরসাহচর্যেই মানুষ অগ্রসর হয়ে চলে সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রম অগ্রযাত্রার পথে। আমাদের বৃহত্তর জীবনের যাত্রাপথের সবচেয়েবড় সঙ্গী বরেণ্য মনীষীদের লেখা মূল্যবান বই। একবিংশ শতাব্দীর এ বিশ্বে হােমার, দান্তে, এডিসন, মাদাম কুরি, প্লেটো,এরিস্টটল এদের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব না হলেও যদি গ্রন্থাগারে তাদের বই থাকে, তাহলে পাওয়া যাবে তাদের নিকটসান্নিধ্য। বইয়ের মাধ্যমেই আমরা তাদের কর্মউদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পাব।মানবজীবনের উৎকর্ষ সাধনে বই : মানবজীবন কঠিন সাধনার ক্ষেত্র। এখানে যথার্থ মানুষ হতে হলে প্রাণপণ চেষ্টাচালাতে হয়। এ জন্য প্রয়ােজন জ্ঞানের বিকাশ ঘটানাে। বই জ্ঞানের আলাে ছড়িয়ে মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করতেপারে। বইয়ের সান্নিধ্যে মানুষ বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীদের মননের সাথে পরিচিতি লাভ করে। তাদের চিন্তা-চেতনার সংসর্গ লাভকরে। আর এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জীবনে উৎকর্ষ লাভ করা সম্ভব। জীবন-ঘনিষ্ঠ ভালাে বই পাঠ করে কুসংস্কার, জড়তাআর মিথ্যাকে বিদূরিত করে মনের শুদ্ধতা আনয়ন করা যায়। এতে যেমন পরম আনন্দ ও প্রশান্তি লাভ করা যায়, তেমনিজীবনকে সার্থকতা ও সফলতার সীমায় পৌছে দেওয়া সম্ভব হয়।1>>>পপি এসএসসি রচনা শিক্ষা২৫৭পৃথিবীতে মহামানবের আবির্ভাব ঘটেছে। তারা মানুষকে শুনিয়েছেন আত্মার মুক্তির গান। হােমার, ভার্জিল, শেক্সপিয়র,দান্তে, কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, এরিস্টটল, প্লেটো, জীবনানন্দ দাশ, প্রমথ চৌধুরীর মতাে মহামানবেরাপৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু তারা রেখে গেছেন তাদের মহামূল্যবান বই। এসব বই পড়ে তাদের সান্নিধ্য পাওয়া যাবে,উপলদ্ধি করা যাবে তাদের উপস্থিতি, জানা যাবে তাদের মূল্যবান জীবন দর্শন। তাই মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করারজন্য এবং আনন্দের অফুরন্ত উৎসের জন্য বই পাঠের প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে।মানুষের মন ও বই : বই পাঠে মানুষের কোমল মনে জন্ম নেয় আনন্দ, বেদনা, বিস্ময়, নীতি, সহানুভূতি, স্নেহ,প্রেম, মায়া, মমতা, ভক্তি প্রভৃতি সুকুমার বৃত্তি। বই পাঠে মানুষের মনে এক অপূর্ব শিহরণ জাগে। বই পাঠ করেই সে এপৃথিবীর বিশালত্ব অনুভব করতে পারে। বই পাঠের মাধ্যমে মানুষ সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের সন্ধান পায়। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথঠাকুর বলেছেন-“বিশাল বিশ্বের আয়ােজনে।মন মাের জুড়ে থাকে অতি ক্ষুদ্রতারই এক কোণেসেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণ বৃত্তান্ত আছে যাহেঅক্ষয় উৎসাহে। ”বই পড়ে মানুষের মনে নতুন প্রেরণা ও উৎসাহ জন্মে। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা সব মুহূর্তেই বই মানুষের পাশেথাকে। বই কখনাে পুরনাে হয় না। বাংলা সাহিত্যের রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ প্রভৃতি সাহিত্যিকদের বই এখনােপাঠকের মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। আর এ কারণেই বই মানুষের মনে চিরকালের জন্য স্থান করে নিয়েছে।আনন্দের উৎস বই : মানুষের আনন্দ লাভের পথ বিচিত্র। বই পাঠ আনন্দ লাভের শ্রেষ্ঠ পথ। বই মানুষের হৃদয়েআনন্দের অফুরন্ত উৎস। বই বিচিত্র বিষয় নিয়ে রচিত, যা মানুষের মনকে আনন্দ দান করে। স্বল্পায়ু মানুষ তার মন ওহৃদয়কে সুখ ও আনন্দে ভরে তুলতে চায়। তাই গ্রন্থপ্রেমিক মানুষ মনের আনন্দ উপভােগের জন্য বই হাতে তুলে নেয়। বইমানুষকে অফুরন্ত আনন্দ দান করে ঐশ্বর্যময় করে তােলে। বই আনন্দের পাশাপাশি মানুষকে জ্ঞান দান করে অধিকতর যােগ্যকরে গড়ে তােলে। বই জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণের সুযােগ দান করে। তাছাড়া বই সভ্যতার বাহক হিসেবে কাজ করে। বইপাঠ করে আমরা বিভিন্ন সভ্যতা সম্পর্কে জানতে পারি। ফলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়। তাই যে জাতি বইবিমুখ,তারা আনন্দের অফুরন্ত উৎস থেকে বঞ্চিত হয়ে সংকীর্ণতা ও কূপমণ্ডুকতার শিকার হয়।বইয়ের বৈচিত্র্য: সভ্য মানুষের প্রয়ােজন অসংখ্য গ্রন্থরাজির সান্নিধ্য ও সঙ্গ। বিচিত্র বইয়ের বাহারি বৈচিত্র্য থেকেমানুষ আনন্দের নির্যাস পান করে। ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞান, সাহিত্য ইত্যাদি বইয়ের পাতায় পাতায় মিশে আছে বিভিন্নজাতির জ্ঞান, বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্যের স্রোতধারা। সে ধারার মােহনায় সঙ্গম ঘটাতে পারলেই মানুষের আত্মপ্রসার ঘটেএবং গড়ে উঠে আসাধারণ ব্যক্তিত্ব।সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশে বই : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সেতু রচনা করে যুগােত্তীর্ণ গ্রন্থরাজি। গ্রন্থেরসাহচর্যেই মানুষ অগ্রসর হয়ে চলে সভ্যতা ও সংস্কৃতির ক্রম অগ্রযাত্রার পথে। আমাদের বৃহত্তর জীবনের যাত্রাপথের সবচেয়েবড় সঙ্গী বরেণ্য মনীষীদের লেখা মূল্যবান বই। একবিংশ শতাব্দীর এ বিশ্বে হােমার, দান্তে, এডিসন, মাদাম কুরি, প্লেটো,এরিস্টটল এদের প্রত্যক্ষ সান্নিধ্য পাওয়া সম্ভব না হলেও যদি গ্রন্থাগারে তাদের বই থাকে, তাহলে পাওয়া যাবে তাদের নিকটসান্নিধ্য। বইয়ের মাধ্যমেই আমরা তাদের কর্মউদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত হয়ে সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করার অনুপ্রেরণা পাব।মানবজীবনের উৎকর্ষ সাধনে বই : মানবজীবন কঠিন সাধনার ক্ষেত্র। এখানে যথার্থ মানুষ হতে হলে প্রাণপণ চেষ্টাচালাতে হয়। এ জন্য প্রয়ােজন জ্ঞানের বিকাশ ঘটানাে। বই জ্ঞানের আলাে ছড়িয়ে মানুষকে সঠিক পথ প্রদর্শন করতেপারে। বইয়ের সান্নিধ্যে মানুষ বিভিন্ন জ্ঞানী-গুণীদের মননের সাথে পরিচিতি লাভ করে। তাদের চিন্তা-চেতনার সংসর্গ লাভকরে। আর এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে জীবনে উৎকর্ষ লাভ করা সম্ভব। জীবন-ঘনিষ্ঠ ভালাে বই পাঠ করে কুসংস্কার, জড়তাআর মিথ্যাকে বিদূরিত করে মনের শুদ্ধতা আনয়ন করা যায়। এতে যেমন পরম আনন্দ ও প্রশান্তি লাভ করা যায়, তেমনিজীবনকে সার্থকতা ও সফলতার সীমায় পৌছে দেওয়া সম্ভব হয়।1>>>পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাসত্যের সন্ধান দেয় বই : বই শুধু জ্ঞানার্জনের উপায়ই নয়, বই সত্য, সুন্দর ও আনন্দময় অনুভূতিতে পাঠক-পাঠিকাকে আলােড়িত করে। জ্ঞানী ব্যক্তিরা বই পাঠের মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করে। কবিগুরু বলেছেন –“সেই সত্য যা রচিবে তুমিঘটে যা তা সত্য নয়।”এ ধরনের অজস্র কথার মধ্যে সত্যদ্রষ্টা সত্যকে খুঁজে পাবার সাধনায় মগ্ন থাকে। বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ যেমন-কোরআন,বেদ, পুরাণ, মহাভারত, গীতা, বাইবেল, ত্রিপিটক ইত্যাদি জ্ঞানসমৃদ্ধ গ্রন্থসমূহ মানুষকে সত্য পথের সন্ধান দেয়।বই নির্বাচন : বই জ্ঞানের বাহন হলেও বই নির্বাচনের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে। কেননা, বাজারে আজঅশ্লীল ও নিম্নমানের বইয়ের ছড়াছড়ি। এসব বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চরিত্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাছাড়া বইপড়ার প্রকৃত আনন্দ কেবল ভালাে বই থেকেই পাওয়া সম্ভব। তাই চরিত্র গঠন ও জ্ঞান অন্বেষণের মহান স্বার্থে সকলেরই।উচিত ভালাে বই নির্বাচন করা।উপসংহার : বই পাঠে মানুষ আনন্দ লাভ করে থাকে সত্য, তবে আনন্দ উপলব্ধির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হয়।বইয়ের জগৎ থেকে আনন্দ লাভের জন্য মানুষকে অধ্যবসায়ী হতে হবে। উৎকৃষ্ট বই মানুষকে প্রকৃত সুখ ও আনন্দ দানকরতে পারে। তাই ভালােবাসতে হবে বইকে, বইয়ের সাথে গড়ে তুলতে হবে নিবিড় সখ্য।

বাংলাদেশের বেকার সমস্যা ও তার প্রতিকার।৩৭।[সি. বাে, ২০১৯; ঢা, বাে, ২০১৬]ভূমিকা : কোনাে দেশের জনশক্তির তুলনায় কর্মসংস্থানের স্বল্পতার ফলে সৃষ্ট সমস্যাই বেকার সমস্যা। বর্তমানেবাংলাদেশে এই সমস্যা জটিল ও প্রকট আকার ধারণ করেছে। যা বাংলাদেশের মতাে একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্যমারাত্মক হুমকিস্বরূপ। কর্মহীন এই বিশাল উদ্বৃত্ত জনশক্তি। পারছে দেশের অর্থনীতিতে কোনাে অবদান রাখতে, না পারছে।নিজের সুন্দর-সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে। ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অর্থনৈতিকঅবকাঠামাে যে কোনাে সময় ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়বে।. বেকারত্ব: ‘বেকার’ শব্দটির আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কর্মহীন। সাধারণ অর্থে যার কোনাে কাজ নেই বা যে কোনােকাজ করে না সে-ই বেকার। সমাজ বিজ্ঞানের ভাষায় বেকার হচ্ছে তারা, যারা সামাজিক অবস্থায় যথেষ্ট কর্মক্ষম হওয়ারবিপরীতে কাজ পায় না। অর্থনীতির দৃষ্টিতে কাজ করার যােগ্যতা বা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কর্মসংস্থান বা কাজের সুযােগ নাথাকার নাম বেকারত্ব। অর্থাৎ যে বা যারা কাজের সামর্থ্য বা ইচ্ছা থাকার পরও কাজের সুযােগ পায় না তারাই বেকার।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেকারত্ব : বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান ও জনবসতিপূর্ণ দেশ। জনসংখ্যার দিক দিয়েপৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। মাত্র ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গ কি.মি. আয়তনের ছােট দেশটিতে প্রায় ১৭ কোটিলােকের বাস। হিসাব মতে, বাংলাদেশে কর্মক্ষম লােকের প্রায় ২৭.৯৫ শতাংশ মানুষ বেকার সমস্যায় ভুগছে। বাংলাদেশেবেকারত্বের অন্যতম প্রধান কারণ কৃষিনির্ভরতা। মােট শ্রমশক্তির প্রায় ৫১.৬৯ ভাগ কৃষির উপর নির্ভরশীল। চাষ ও ফসলকর্তনের সময় ব্যতীত তারা কোনাে কাজ পায় না। ফলে বছরের প্রায় অর্ধেক সময় তারা বেকার থাকে। তাছাড়া কর্মমুখীশিক্ষার অভাবে দিন দিন বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শিক্ষিত লােকের শতকরা প্রায় ৫০ ভাগতাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ পায় না। তারা অপেক্ষাকৃত কম যােগ্যতায় কাজ করতে বাধ্য হয়। এটিও বেকারত্বের আরএকটি বৈশিষ্ট্য।| বাংলাদেশে বেকারত্বের কারণ : বিগত বছরগুলাের ইতিহাস পর্যালােচনা করলে নির্ধিধায় বলা যায় যে, অর্থনৈতিকক্ষেত্রে বাংলাদেশ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি। অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা বাংলাদেশের বেকার সমস্যাকে সুদৃঢ়ভাবেপ্রভাবিত করছে। বাংলাদেশে বেকার সমস্যা সৃষ্টির পিছনে যেসব বিষয় দায়ী সেগুলাে হলাে :২৫৯পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাদুর্বল অর্থনীতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি : আমাদের অর্থনৈতিক কাঠামাে শক্তিশালী নয়। এজন্য দেশে শিল্প কারখানা,ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়নমূলক কাজের প্রসার ঘটছে না। আমাদের দেশে বর্তমানে এমনিতেই অসংখ্য লোেক বেকার।তদুপরি যে হারে আমাদের দেশে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। তাই দিন দিন বেকারের সংখ্যা বেড়েইচলেছে।কুটির শিল্পের অবলুপ্তি : আমাদের সরকারি পুঁজি বা বিদেশ থেকে প্রাপ্ত ঋণের সিংহভাগই চমক লাগানােঅনুৎপাদনশীল খাতে বিনিয়ােগ হয়। এতে সাময়িকভাবে কিছু কর্মসংস্থানের সুযােগ হলেও স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হচ্ছেনা। তাছাড়া কুটির শিল্পের কাঁচামাল আসে কৃষি থেকে। কিন্তু কৃষির অনগ্রসরতার দরুন কৃষিখাতে উৎপাদন বহুগুণ হ্রাসপাচ্ছে। ফলশ্রুতিতে কাঁচামালের যােগানের অভাবে দিন দিন দেশের কুটির শিল্প বিলুপ্ত হচ্ছে। শিল্পায়ন, শহরায়ন, বাণিজ্যএবং যুগােপযােগী পণ্য উৎপাদনের অভাবে এদেশের কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সে কারণে কুটির শিল্পের সঙ্গে জড়িতশ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়ছে।কারিগরি জ্ঞানের অভাব : বাংলাদেশের শ্রমজীবী শ্রেণির অধিকাংশই নিরক্ষর ও কারিগরি জ্ঞানের দক্ষতা বর্জিত। সেজন্য তারা যেমন কোনাে কর্মসংস্থান পায় না তেমনি নিজেরাও কিছু করতে পারে না। তাছাড়া দেশের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা।চাকরি ছাড়া অন্য কোনাে শ্রমসাধ্য কাজ করতে চায় না। কিন্তু বাল্লাদেশের অর্থনৈতিক কাঠামাে অনুন্নত ও কৃষিনির্ভর।ফলে এদেশে অধিক কর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। তাই চাকরির অভাবে শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের অনেকেইবেকার থাকছে।ব্যবসাক্ষেত্রে অনাগ্রহ : সময়ের বিবর্তনে মানুষের পছন্দের পরিবর্তন ঘটেছে। বর্তমানে ডিগ্রিধারী শিক্ষিত ব্যক্তিগণব্যবসা-বাণিজ্যে অংশ না নিয়ে চাকরির প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ছে। চাকরির আকাক্সক্ষা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে বিমুখতা বেকারসমস্যাকে আরও তীব্র করে তুলছে।মধ্যবিত্তদের অবস্থান : কর্মহীন শ্রমিক ও মধ্যবিত্ত শিক্ষিত সম্প্রদায়ের কারণে বেকার সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।আমাদের কৃষকরা বছরের কয়েক মাস ঘরে বসেই দিনাতিপাত করে। অন্যদিকে মধ্যবিত্ত শিক্ষিতরা শ্রমশিল্প ও কৃষিকাজেঅনভ্যস্ত। তারা চাকরির প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী। কিন্তু চাকরি ক্ষেত্রেও তারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। ফলে বেকারত্বদিন দিন বেড়েই চলছে।অস্বাস্থ্য ও অপুষ্টি : বাংলাদেশের কর্মক্ষম জনগােষ্ঠীর এক বিরাট অংশ অস্বাস্থ্য ও অপুষ্টিজনিত সমস্যার শিকার। ফলেতারা দিন দিন তাদের কর্মক্ষমতা হারিয়ে বেকারত্বের শিকার হচ্ছে।নিরক্ষরতা : নিরক্ষরতার দরুন বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কোনাে কাজে নিয়ােজিত হতে পারছেন না। ফলেঅনেকেই বেকার জীবনযাপন করছে।বেকারত্বের প্রভাব : বাংলাদেশের সর্বত্র বেকারত্বের ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার লাভ করছে। এটি বাংলাদেশের জন্যএকটি বিরাট অভিশাপ। বেকারত্বের দরুন আমাদের দেশে দারিদ্র্যের হার ক্রমাগত বাড়ছে। এ দেশের শতকরা প্রায় ২৪ ভাগলােকই দরিদ্র। বেকারত্বের কারণে এ অবস্থা কাটিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া বেকারত্বের দরুন অধিকাংশ মানুষেরমাঝে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তারা নানারকম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে। তাদের নৈতিকতার অবক্ষয় ঘটছে।ফলে সামাজিক অস্থিতিশীলতা ও কলহ বেড়েই চলেছে।বেকারত্বের শিকার হয়ে অসংখ্য ব্যক্তি সমাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। ফলে আমাদের জাতীয় সম্পদের বিপুলপরিমাণ অপচয় হচ্ছে, যা জাতীয় উন্নতিতে বাধা সৃষ্টি করছে। এ ছাড়া বেকারত্ব আমাদের যুবসমাজের মাঝে হতাশা সৃষ্টিকরছে। ফলে তারা দেশ, সমাজ ও আইনের প্রতি তাদের আস্থা হারিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এর ফলে সমাজব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। বেকারত্বের অসহনীয় যাতনা মানুষের মনে হতাশা ও সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভের সঞ্চারকরে। পরিণামে ব্যক্তি অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠে। বেকারত্বজনিত দুঃসহ যাতনা ও মানসিক পীড়াকে ভুলে থাকার ভুল প্রচেষ্টা।হিসেবে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এভাবে সমাজ জুড়ে নানা ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেতে থাকে।২৬০পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাবেকার সমস্যা সমাধানের উপায় : বাংলাদেশের মতাে দরিদ্র দেশের পক্ষে সীমিত সম্পদ নিয়ে বেকারত্ব মােকাবেলাকরা খুবই কষ্টসাধ্য। তাই বাস্তব ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ব্যতীত কোনােভাবেই বেকার সমস্যার সমাধান আশা করা যায়।। এ সমস্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি অন্যতম সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানকল্পে অনতিবিলম্বে প্রয়ােজনীয়।পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়ােজন। যেমন- প্রকৃতিনির্ভর কৃষিব্যবস্থা বাদ দিয়ে কৃষিকে একটি নির্ভরশীল ক্ষেত্র হিসেবে প্রতিপন্ন।করতে হবে। কুটির শিল্প ও বৃহদায়তন শিল্প কারখানা স্থাপন করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযােগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রাকৃতিকসম্পদের সুষম বণ্টনের দিকে মনােযােগী হতে হবে। বাংলাদেশের জনশক্তিকে বােঝা না বানিয়ে হাতিয়ার হিসেবে কাজেলাগাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। শিল্পক্ষেত্রের মতাে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বিনিয়ােগ বৃদ্ধি করতে হবে। বিদেশেবাংলাদেশি শ্রমশক্তির বাজার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সর্বোপরি সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতেই লােক নিয়ােগের ব্যাপারে।সচেষ্ট হতে হবে।উপসংহার : কর্মহীন জীবন অভিশপ্ত ও অন্ধকারময়; জাতির কাঁধেও তারা বােঝাস্বরূপ। তাই বেকার বা কর্মহীনদেরকর্মের আলােয় আলােকিত করে তুলতে হবে। বেকারত্বের অভিশাপ দূরে সরিয়ে সৃষ্টির উল্লাসে মাতিয়ে তুলতে হবে।সর্বোপরি যুবসমাজের বেকারত্বের অভিশাপ ও অপবাদ ঘােচাতে হলে এবং জাতির কাঁধ থেকে বেকারত্বের বােঝা নামাতেহলে সরকারকে যেমন এগিয়ে আসতে হবে, তেমনি জনগণকেও সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালাতে হবে।

বাংলাদেশের বন্যা ও এর প্রতিকারঅথবা, বন্যা।যি.বাে, ২০১৭]ভূমিকা : বন্যা একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বিভিন্ন কারণে পানি স্ফীত হয়ে নদ-নদী, খাল-বিল, মাঠ-ঘাট, গ্রাম ওঘর-বাড়ি ডুবে গিয়ে বন্যার সৃষ্টি হয়। প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশ বন্যার কবলে পতিত হয়। ফলে ব্যাপক প্রাণহানীসহ বিপুলপরিমাণ আর্থিক ক্ষতি সাধিত হয়।বন্যার কারণ : বাংলাদেশ ভাটির দেশ। সমুদ্রতল থেকে এ দেশ খুব বেশি উঁচু নয়। ফলে যে কোনাে কারণেজলস্ফীতি ঘটলে নদীর পানি যখন বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তখন বন্যা দেখা দেয়। এ জলস্ফীতির প্রধানকারণ প্রবল বৃষ্টিপাত এবং বালি জমে নদীর গভীরতা ও নাব্যতা হ্রাস পাওয়া। হিমালয়ের হিমবাহে অতিরিক্ত তুষার গলনওবন্যার কারণ। গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মেরু অঞ্চলে বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েও বন্যারসৃষ্টি হয়। তাছাড়া প্রকৃতির উপর মানবীয় হস্তক্ষেপ যেমন- নদীভরাট, গাছপালা নিধন ইত্যাদি কারণেও বন্যা দেখা দেয়।অপরিকল্পিত ব্রিজ, কালভার্ট, বাড়িঘর ইত্যাদি নির্মাণ করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিও বন্যার কারণ।বন্যার ক্ষয়-ক্ষতি : বন্যা আশীর্বাদ নয়, অভিশাপ। বন্যার কারণে আমাদের দেশে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকারসম্পদ বিনষ্ট হয়। এ ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিক ও বন্যা পরবর্তী এ দু’ধরনের হয়ে থাকে। বন্যার তাৎক্ষণিক ক্ষতি হিসেবেফসল, অসংখ্য ঘর-বাড়ি, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, ব্রিজ-কালভার্ট এবং রাস্তাঘাট বিনষ্ট হয়। বহু মানুষ ও গবাদিপশু, হাঁস-মুরগির প্রাণহানী ঘটে। বন্যা পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি হিসেবে দেখা দেয় চরম খাদ্যাভাব। বন্যায় বিভিন্ন ভাবে পানি দূষিত হয়।দূষিত পানি পান করার ফলে পানিবাহিত রােগের সৃষ্টি হয়। কখনাে কখনাে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয় ইত্যাদি মহামারিআকার ধারণ করে। বন্যার অনেক ক্ষতিকর দিক থাকা সত্ত্বেও এর উপকারী দিকটাও অস্বীকার করা যায় না। বন্যার ফলে।জমিতে পলি সঞ্চিত হয়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বন্যার পানি আমাদের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে নিয়ে যায়।বাংলাদেশের বন্যা : প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় ৫৫ শতাংশের অধিক ভূখণ্ড বন্যার কবলে পড়ে। ১৯৭৪, ১৯৭৮,১৯৮৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯৮ ও ২০০৪ সালে বাংলাদেশে বড় ধরনের বন্যা হয়। এগুলাের মধ্যে ১৯৭৪, ১৯৮৮, ১৯৯৮ও ২০০৪ সালের বন্যা ছিল ভয়াবহ। এসকল বন্যায় সারাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এবং সারাদেশের প্রায় ২০কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।২৬১পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাবন্যা ১৯৯৮ ও ২০০৪ : বাংলাদেশে সংঘটিত উল্লেখযােগ্য বন্যার মধ্যে রয়েছে ১৯৯৮ এবং ২০০৪ সালের বন্যা। এপটি বন্যায় দেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। ১৯৯৮ সালের বন্যাটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী বন্যা। এ বন্যায়১ হাজার বর্গ কিলােমিটার এলাকা প্লাবিত হয় এবং প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ বন্যায় ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণদুখণ্ড প্লাবিত হয়। এ বন্যায় প্রায় ৪২ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।হল প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা। ২০০৪সালের বন্যাটিও এ দেশের অন্যতম বড় বন্যা। এ বন্যায় দেশের শতকরা ৬৫ ভাগসাম্প্রতিক কালের বন্যা : ২০১৭ সালের বৈশাখের শুরুতে অকাল বন্যা দেশবাসীকে নাকাল করে তােলে। টানা ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ডুবে যায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ ওব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এ বন্যায় প্রায় দেড় কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তাঘাট তলিয়েযাওয়ায় যােগাযােগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ধারণা করা হয়, এ অকাল বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ হাজারকোটি টাকা।আগাম বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১৭ সালের বর্ষার শেষার্ধে দেশজুড়ে দেখা দেয় ভয়াবহ বন্যা। এ বন্যা,এতটাই ভয়ংকর রূপ ধারণ করে যে, দেশের প্রায় ৪২টি জেলা প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি,শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান সবকিছু পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে যােগাযােগ ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়ে। প্রায় ১০০ কিলােমিটার রেলপথক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। খাদ্য সংকট দেখা দেয়। পানিবাহিত রােগমহামারি আকার ধারণ করে। বহুলােকের প্রাণহানি ঘটে। গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাধ্য হয়েঅনেকে নামমাত্র মূল্যে গবাদিপশু বিক্রি করতে বাধ্য হয়। বিস্তীর্ণ জনপদের বেশিরভাগ স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা বন্ধ ঘােষণাকরা হয়। ধারণা করা হয়, এ বন্যায় প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে সরকারের সঠিক ব্যবস্থাপনারকারণে এ বন্যা মােকাবিলা করা সম্ভব হয়। সরকারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন সংগঠন তাদের মানবতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে।বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।২০১৯ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৮টি জেলা বন্যায় প্লাবিত হয়। এতেশতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রায় এক কোটিরও বেশি মানুষ। দুই লাখেরও বেশি হেক্টরজমির ফসল নষ্ট হয়। গবাদিপশু, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।একই বছর অক্টোবরে আবারও বন্যা দেখা দেয়, যা পূর্ববর্তী ৬০ বছরে কখনাে দেখা যায়নি। মূলত বাংলাদেশের উজানেভারতীয় অংশে গঙ্গা নদী থেকে আসা পানির কারণে এ বন্যা দেখা দেয়। এ বন্যা প্রায় দশ-বারাে দিন স্থায়ী হয়। এ সময়েদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকায় পেকে উঠা আমন ধান ও শীতের আগাম সবজির ব্যাপকক্ষতি হয়।বন্যা সমস্যার সমাধান : বন্যা প্রায় প্রতিবছরই বাংলাদেশের কোনাে না কোনাে অঞ্চলে আঘাত হানে। ফলে ক্ষতিগ্রস্তহয় হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পদ। ব্যাহত হয় উন্নয়নের ধারা। তাই এর সমাধান অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সরকারকেপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে। নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য নদী ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থাপিত ৭% স্বয়ংক্রিয় জোয়ার বিরােধী গেটের ব্যবস্থা করে সাগরের জোয়ার অনুপ্রবেশ রােধ ওজলাবদ্ধতা দূর করার জন্য পােল্ডার নির্মাণ করে পানি মাপ করার ব্যবস্থা করতে হবে। বাইরের দেশের পাহাড়ি ঢলেরপানির অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকারিভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সর্বোপরি, আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারত, নেপাল, ভুটান,চীন প্রভৃতি দেশকে নিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থানেওয়া সম্ভব।উপসংহার : বন্যার কারণে প্রতিবছরই আমরা ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হচ্ছি। ব্যাহত হচ্ছে আমাদের উন্নয়নের ধারা।তাই সরকারকে সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করতেহবে। নচেত আমাদের সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশের যে স্বপ্ন তা চিরতরে নস্যাৎ হয়ে যাবে।

খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তাঅথবা, জাতীয় জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তাযিবাে, ২০১৪)সূচনা : মানুষ জীবনকে উপভােগ করতে চায়, চায় আনন্দমুখর করতে। খেলাধুলা মানবজীবনে আনন্দমুখর পরিবেশসৃষ্টিতে অত্যন্ত সহায়ক। খেলাধুলা বিনােদনের উত্তম মাধ্যম। জাতীয় জীবনে বিনােদন হিসেবে খেলাধুলার কোনাে বিকল্পনেই। এর প্রয়ােজনীয়তা ব্যক্তি থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।খেলাধুলার উদ্ভব : সুপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষকে সুস্থদেহী, সবল ও কর্মক্ষম করে রাখার জন্য বিভিন্ন খেলার প্রচলনছিল। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৩০০০ বছর আগে প্রাচীন মিশরের খেলা ছিল ডালকুকুর নিয়ে শিকার। কুস্তি খেলার প্রথম সূচনা হয়।ইরাকে, ৪০০০ বছরেরও বেশি আগে। খ্রিষ্টপূর্ব ২০৫০ সনে মিশরে শুরু হয় হকি খেলা। এ ছাড়া মুষ্ঠিযুদ্ধ, অসিযুদ্ধ,দৌড়-ঝাপ ইত্যাদির ইতিহাসের সূচনাও হয় প্রায় ৪০০০ বছর আগে। প্রাচীনকালে বিভিন্ন দেশে শারীরিক সামর্থ্য প্রীক্ষারজন্য ক্রীড়া প্রতিযােগিতা আয়ােজিত হতাে। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ২৫০ বছর আগে প্রাচীন রােমে ক্রীড়া হিসেবে মল্লযুদ্ধ প্রতিযােগিতাঅনুষ্ঠিত হয়। আসিরিয়া ও মিশরের স্থাপত্য থেকে জানা যায়, সেকালের তীর চালনা খেলার কথা। খেলাধুলার ইতিহাসেঅনন্য ঘটনা খ্রিস্টপূর্ব ৭৭৬ অব্দে প্রাচীন গ্রিসে অলিম্পিক খেলার সূত্রপাত। সেই বিশাল প্রতিযােগিতায় গ্রিসের শ্রেষ্ঠক্রীড়াকুশলীরা দৌড়, ঝাপ, মল্লযুদ্ধ, চাকতি নিক্ষেপ, বর্শা ছােড়া, মুষ্টিযুদ্ধ ইত্যাদি প্রতিযােগিতায় অংশ নিত। এভাবে অতিপ্রাচীনকাল থেকেই মানুষের জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা স্বীকৃতি পেয়ে এসেছে।খেলাধুলার প্রকারভেদ : খেলাধুলা মূলত দুই প্রকারের। যথা- ইনডাের গেম বা ঘরােয়া খেলা ও আউটডাের গেম বাবাইরের খেলা। ঘরের ভেতর বা নির্দিষ্ট হলরুমে অনুষ্ঠিত খেলাকে ইনডাের গেম বলা হয়। যেমন, দাবা, ভলিবল,ব্যাডমিন্টন, জুডাে ইত্যাদি। ইনডাের গেমের জন্য সংশ্লিষ্ট খেলা উপযােগী তাপমাত্রা ও ছাদের নির্দিষ্ট উচ্চতা রাখা হয়।অন্যদিকে, উন্মুক্ত স্থানে বা মাঠে অনুষ্ঠিত খেলাকে আউটডাের গেম বলা হয়। যেমন- ক্রিকেট, হকি, ফুটবল, সাঁতার,রেসিং, শুটিং ইত্যাদি। বর্তমানে আউটডােরের অনেক খেলা যেমন হকি ও সঁতার ইনডাের স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।উপরের দু’শ্রেণির খেলার মাঝে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক খেলাও রয়েছে। আমাদের দেশীয় খেলার মধ্যে হা-ডু-ডুঅথবা কাবাডি, কানামাছি, বৌচি, গােল্লাছুট ইত্যাদি প্রধান। আন্তর্জাতিক খেলার মাঝে রয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, হকি,টেনিস, দাবা, ব্যাডমিন্টন, ভলিবল ইত্যাদি। জাতীয় জীবনে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক এ দু’প্রকার খেলাই আবশ্যক।খেলাধুলা ও চরিত্র গঠন : খেলাধুলা এক অনাবিল আনন্দের চিরন্তন উৎস। এই আনন্দের মধ্যে দিয়ে গড়ে।মানুষের শরীর, মন ও চরিত্র। সেই চরিত্রই মানুষের জীবনযুদ্ধের সফলতার প্রধান সােপান। খেলাধুলার সং্যম শাসনেইজীবনের শৃঙ্খলা। খেলাধুলাই মানুষকে দেয় এক ভারসাম্যের শিক্ষা। খেলার মাঠের মতাে জীবনের প্রাঙ্গণে সাফল্যের জন্যআছে প্রতিযােগিতা, আছে বিজয়ােল্লাস, পরাজয়ের গ্লানি। আছে শান্তচিত্তে তা মেনে নেওয়ার ক্ষমতা। খেলার মাধ্যমেই সেসংগ্রহ করে জীবনের শ্রেষ্ঠ আচরণের দীক্ষা। খেলাধুলা একদিকে চরিত্রকে দেয় সংকল্পের দৃঢ়তা, প্রতিযােগিতার একাগ্রতা,অপরদিকে দেয় পরাজয়ের সহনশীলতা, হৃদয়ের উদারতা।শিক্ষায় খেলাধুলা : জীবন গঠনের সূচনায় সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই খেলাধুলা শিক্ষার উপায়। ছাত্রছাত্রীদের বিদ্যাশিক্ষাকেচিত্তাকর্ষক করতে এবং পাঠ্য বিষয়ের প্রচণ্ড চাপ লাঘব করতে শিক্ষার সাথে সাথে খেলাধুলাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। খেলারছলে শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার নিয়মও আজকাল অনেক স্কুলে দেখা যায়। যেমন বলা যায়, বার্লিনের একটি স্কুলের কথা।সেখানে হয়তাে ক্লাস করতে করতে শিক্ষিকা হঠাৎ করে ছাত্রছাত্রীদের ব্যায়াম করার নির্দেশ দিলেন। এতে ছাত্রছাত্রীদেরএকঘেয়েমি কেটে যায়। আজকাল ছাত্রছাত্রীদেরকে খেলাধুলায় উৎসাহী করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠানেরওআয়ােজন করা হয়ে থাকে।উঠে,পপি এসএসসি রচনা শিক্ষা২৬৩খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে বিভিন্ন রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি : সারা বিশ্বের প্রগতিশীল সকল রাষ্ট্রেই খেলাধুলাজাতীয় উন্নতির কর্মপ্রেরণার শক্তি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। জাপানের কলকারখানায় কাজ শুরু করার আগে হাজার হাজারকর্মী খােলা মাঠে ১৫ মিনিট খালি হাতে ব্যায়াম করেন। জার্মানদের প্রতি পাঁচ জনের অন্তত একজন কোনাে না কোনােক্রীড়া সংস্থার সক্রিয় সদস্য। একসময় চীনারা ছিল পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে রােগগ্রস্ত জাতি। কিন্তু গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের প্রতিষ্ঠারপর থেকে চৈনিকরা খেলাধুলাকে সুস্বাস্থ্য গঠনের পথ হিসেবে বেছে নিয়ে সেই বদনাম কেবল ঘােচায় নি, তারা সােনাওজিতেছে। অনেক ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে বিশ্বক্ৰীড়ায়। বিশ্বের সকল উন্নত রাষ্ট্রেই এখন খেলাধুলাকে বিশেষ মর্যাদাদেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের নেশা ও ধূমপান প্রতিরােধের জন্যও এখন খেলাধুলাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বিশ্বসম্প্রদায়। এক কথায় সারা বিশ্বের সকল উন্নত-অনুন্নত রাষ্ট্রে এখন খেলাধুলার গুরুত্ব স্বীকৃত।জাতীয় জীবনে খেলাধুলার গুরুত্ব ; শরীর ভালাে থাকলে মন ভালাে থাকে। শরীর ও মন ভালাে রাখার জন্যখেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তির মধ্য দিয়ে যখন সমগ্র জাতীয় জীবনে খেলাধুলা ছড়িয়ে পড়ে তখন খেলাধুলার আয়ােজন।করা হয় মনের খাদ্য যােগাবার জন্য। খেলাধুলার মাধ্যমে মনের স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায় সুন্দরভাবে। তাই জাতীয় জীবনেখেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তা অপরিসীম। খেলার রাজ্য জাতিকে কর্মের বন্ধন, সংসারের দৈনন্দিন ক্ষুদ্রতা, তুচ্ছতা এবং দুঃখ-গ্লানি থেকে মুক্তি দেয়। পরাধীন মনােবৃত্তি, কর্মক্লান্তি, আশাহীন-আনন্দহীন জাতির জীবনে খেলাধুলার প্রয়ােজনীয়তাঅনস্বীকার্য। অকাল বার্ধক্যের হাত থেকে জাতিকে নতুন যৌবনের প্রাণচাঞ্চল্যে উজ্জীবিত করে খেলাধুলা। যে জাতির মধ্যেসুস্থ ও সবল লােকের অভাব রয়েছে সে জাতি কখনাে উন্নতি করতে পারে না। খেলাধুলা জাতিকে উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনেসহায়তা করে। এ ছাড়া খেলাধুলার মাধ্যমে উঁচু-নিচু, ধনী-গরিব ও ছােট-বড় ভেদাভেদ অনেকাংশে তিরােহিত হয়।জাতীয় জীবনে খেলার প্রচলন : জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে খেলাধুলার প্রচলন করতে হবে। খেলাধুলায় শরীর সুস্থথাকে, কর্মের প্রেরণা বাড়ে। তাই প্রতিটি নর-নারীর সুস্থ বিনােদনের জন্য সর্বত্র খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘরােয়াখেলার জন্য ক্লাব, সমিতি বা এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। বাইরের খেলার জন্য মাঠ এবং খেলার প্রয়ােজনীয়সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকতে হবে।কাজখেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিকতা : আজকাল খেলাধুলা জাতীয় জীবনে সীমাবদ্ধ না থেকে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে। তাইবিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বকাপ ক্রিকেট, অলিম্পিক গেমস, কমনওয়েলথ গেমস এবং অন্যান্য খেলা বিশ্বব্যাপী মানুষ উপভােগকরছে। এতে ভিন দেশ ও সেখানকার মানুষের সাথে আমাদের পরিচয় ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। বিশ্ব মানবগােষ্ঠী একই আসনে বসেআনন্দ উপভােগ করছে। তাই বলা যায়, খেলাধুলা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সেতুবন্ধন। আন্তর্জাতিক খেলায় অংশগ্রহণ করেখেলােয়াড়রা বহির্বিশ্বে জাতীয় পরিচিতি তুলে ধরতে পারে।উপসংহার : ক্রীড়াই জাতির শক্তি। জাতির সুস্থতা, জাতির আন্তর্জাতিক পরিচিতি এবং জাতির আনন্দের উৎসখেলাধুলায় নিহিত। তাই সর্বস্তরে খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে পারলে যেমন সুস্থ সবল জাতি গড়ে উঠবে, তেমনি জাতিরউন্নতিও হবে ত্বরান্বিত। তাই আমাদের জাতীয় জীবনে খেলা হােক নির্মল, খেলা হােক শুদ্ধ। খেলার মাধ্যমে গড়ে উঠুকএকটি সুখী, সুন্দর ও সমৃদ্ধ জাতি।

বাংলাদেশের যানজট সমস্যা ও তার প্রতিকারভূমিকা : বর্তমান বিশ্ব গতিময়, যান্ত্রিক এবং প্রগতিশীল। এ গতিময় বিশ্বের প্রতিটি দেশের উন্নতি অনেকাংশে নির্ভরকরছে তার সুষ্ঠু যােগাযােগ ব্যবস্থার উপর। সুষ্ঠু যােগাযােগ ব্যবস্থা যাতায়াত ও মালামাল আনা-নেয়ার সুযােগ সৃষ্টি করেদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। কিন্তু বিভিন্ন কারণে সৃষ্ট যানজট বাংলাদেশের সুষ্ঠু যােগাযােগ ব্যবস্থা তথা সামগ্রিকঅগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।২৬৪পপি এসএসসি রচনা শিক্ষাযানজট কী? : যানজট হচ্ছে গাড়ি বা যানবাহনের জট। রাস্তার যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে না পেরে যেঅস্বাভাবিক অবস্থার সৃষ্টি হয়, তা-ই যানজট। যানজটের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে গাড়ির স্বাভাবিকের তুলনায় ধীর গতি,দীর্ঘ যাত্রাকাল, যানবাহনের দীর্ঘ সারি, শব্দদূষণ ইত্যাদি।যানজটের কারণ : স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবার পর বাংলাদেশের সড়ক পথের যথেষ্ট উন্নতি সাধিত হলেও তাপ্রয়ােজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২১ হাজার কিলােমিটার পাকা রাস্তা আছে, যার মধ্যে মাত্র ৪৮%হাইওয়ে সম্পন্ন। অপরদিকে, এ দেশে শুধু মােটরযানের সংখ্যাই প্রায় ৩০ লক্ষ। রিক্সা, ভ্যান, সাইকেল, ঠেলাগাড়ি,অটোরিক্সা ইত্যাদি অগণিত। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে এসব যানবাহনপ্রায় ৩০ গুণ বেশি। এ হিসেবে বাংলাদেশের সড়ক পথে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচলের ফলে যানজট সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।তাছাড়া প্রধান প্রধান সড়কে পথচারীর জন্য প্রয়ােজনীয় ফুটপাথ না থাকা, অবৈধ পার্কিং, হকারদের ফুটপাথ দখল, ট্রাফিক ওনিরাপত্তা আইনের সুষ্ঠু প্রয়ােগ না থাকা, দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালকের অপ্রতুলতা, সড়ক রুকরণ ও নিম্নমানের রাস্তা,সর্বোপরি দ্রুত ও আগে যাবার জন্য ওভারটেকিং-এর অসম প্রতিযােগিতা ইত্যাদির ফলে যানজট সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে।দেশের বৃহত্তম শহরগুলােতে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বন্যার বেগে ছুটে আসা মানুষ আর যানবাহনের ভিড় মিলে যেন ‘তিলঠাই আর নাহিরে’ অবস্থা। অপরিকল্পিতভাবে ওয়াসা, ডেসা, পেট্রো বালা, বিটিটিবি এক রাস্তা একাধিকবার খোঁড়াখুঁড়িকরছে। ওয়ার্কশপ, গ্যারেজ, ফেরিওয়ালা, পালিশওয়ালা, তরকারিওয়ালা, মাছওয়ালা রাস্তাকে নিজ বাড়িঘরের মতাে ব্যবহারকরছে। জনসাধারণের জন্য যতটুকু রাস্তা বরাদ্দ ছিল তাও মুসাফির-ভিখারীর দখলে। এছাড়া যানজটের জন্য সরকারেরসঠিক সিদ্ধান্তের অভাবসহ আরও নানাবিধ কারণ রয়েছে।যানজটের দিক থেকে ঢাকা : আমরা যদি শুধু ঢাকা শহরের যানজট সমস্যার চিত্রটি লক্ষ করি, তাহলেই সমগ্রদেশের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে। ঢাকার আয়তন প্রায় ৩৪৩ বর্গ কিলােমিটার। কিন্তু লােকসংখ্যা প্রায় দুইকোটি। জনসাধারণের যাতায়াতের জন্য ২৫ শতাংশ ফুটপাথ থাকার কথা। কিন্তু আছে তার চেয়ে অনেক কম, যেটুকু আছে।তার অধিকাংশই অবৈধ দখলে। রাস্তাজুড়ে সেবা সংস্থাগুলাের সমন্বয়হীনতার কারণে বারাে মাস খোঁড়াখুঁড়ি চলে।কলকারখানা, হােটেল-রেস্তোরা ও ফেরিওয়ালার দখলে রাস্তার সিংহভাগ। ফলে যানজট লেগেই আছে। অফিস বা অন্যকোনাে কারণে ঘর থেকে কেউ বের হলে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যস্থলে পৌছতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করে কেউ বলতেপারে না।যানজটের ফল : যানজটের ফল খুবই ভয়াবহ। যানজট নানাভাবে একটি দেশ ও জাতির উপর কু-প্রভাব ফেলে।যানজটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের অর্থনীতি। ইউএনডিপি পরিচালিত এক সমীক্ষায় জানা যায়, যানজটের কারণেবছরে প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। যানজটের কারণে শুধু ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ শ্রমঘণ্টা বিনষ্ট হচ্ছে।ফলে চাপ পড়ছে জাতীয় অর্থনীতিতে। যানজটের কারণে যানবাহনে প্রয়ােজনের অতিরিক্ত জ্বালানি পুড়ছে। এজন্য প্রতি বছরঅতিরিক্ত জ্বালানি ক্রয় বাবদ বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। যানজটের কারণেযাতায়াত ব্যবস্থায় যে বিঘ্ন ঘটে তাতে করে মানুষের অনেক ভােগান্তি হয়। এছাড়াও যানজটের কারণে মুমূর্ষ রােগীসহ আরওশত শত মানুষের বিভিন্ন রকম অসুবিধা ও ক্ষয়ক্ষতি হয়ে থাকে।যানজট নিরসনের উপায় : গতিময় বিশ্বের সাথে আমরা পাল্লা দিতে পারব না। কিন্তু প্রত্যেকের সদিচ্ছা থাকলেঅসুবিধাগুলাে দূর করে সুষ্ঠু জীবনযাত্রা নির্বাহ করা যায়। বাড়তি রিক্সা বন্ধ করে, রাস্তার জঞ্জাল সরিয়ে ফুটপাথ ঝামেলামুক্তকরা যায়। অবৈধ দোকানপাট ও পার্কিং উচ্ছেদ করতে পারলে যানজট অনেকটা কমবে। তাছাড়া আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থাআধুনিকায়ন করতে হবে। মূলত যানজট সমস্যার বিষয়টি যতই জটিল সমস্যা হােক না কেন সকলের সহিষ্ণুতা, আন্তরিকতাও নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ সমস্যা কিছুটা শিথিল করা তেমন কোনাে কঠিন কাজ নয়। কঠিন হচ্ছে আন্তরিকতারসঙ্গে সকলকে এ সমস্যা সমাধানে উদ্বুদ্ধ করা। তবে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষার সংকল্প নিয়ে সকলে এগিয়ে এলে।যানজট নিরসন সম্ভব।পপি এসএসসি রচনা শিক্ষা২৬৫সরকার কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ : দেশে যানজট সমস্যা নিরসনে সরকার ইতােমধ্যেই কতিপয় ব্যবস্থা গ্রহণকরেছেন। ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসন, পরিবেশের উন্নয়ন এবং জনজীবনের মানােন্নয়নের লক্ষ্যে ‘ঢাকা আরবানট্রান্সপাের্ট প্রকল্প’ এর আওতায় ২টি ফ্লাইওভার (মহাখালী ও মালিবাগ), ৩টি আন্ডারপাস ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ৩০টি বহুমুখী রাস্তার সংযােগ মােড়ের সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, গাড়ি পার্কিংয়ের সুবিধা এবং ট্রাফিকব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন তথা আধুনিকায়ন করা হয়। নগরীর যানজট সমস্যা নিরসনে এ প্রকল্পের মডেল পরবর্তীতে অন্যান্যবিভাগীয় শহরেও পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করার চিন্তা-ভাবনা সরকারের রয়েছে। ইতােমধ্যে সরকার নগরীর বেশ কয়েকটিগুরুত্বপূর্ণ রাস্তাকে অযান্ত্রিক যানশনমুক্ত ঘােষণা করেছে। কিছু রাস্তাকে করেছে ওয়ান ওয়ে (একদিকে চলাচল)। প্রগতিসরণী ও উত্তরায় বেশ কিছু ইউলুপ নির্মাণ করা হয়েছে। তাছাড়া রাজধানীর দক্ষিণ দিকের যানজট নিরসনে সরকার প্রায়২,৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শনির আখড়া থেকে চানখারপুল পর্যন্ত ১০.৬ কি.মি. দীর্ঘ ফ্লাইওভার চালু করেছে। যার ফলে।ঢাকার সাথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩০টি জেলার যােগাযােগ সহজ হয়েছে। স্থানীয় সরকার তৈরি করেছে মালিবাগ ওমৌচাক ফ্লাইওভার এবং রাজউক তৈরি করেছে কুড়িল ফ্লাইওভার। গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ম্যাস র্যাপিট ট্রানজিট(এমআরটি) বা মেট্রোরেল এবং বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) এর কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। উত্তরার দিয়াবাড়িথেকে কমলাপুর পর্যন্ত ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২০.১ কিলােমিটার দীর্ঘ মেট্রো রেলপথ (এমআরটি-৬) খুব শীঘ্রই চালুহবে। ২০৩০ সালের মধ্যে মেট্রোরেলের আরও ৫টি লাইনের কাজ শেষ হবে। এছাড় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিকবিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও এগিয়ে চলেছে।দ্রুতগতিতে। আশা করা যায়, এসব নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যানজট পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি ঘটবে।উপসংহার : যানজট সমস্যা আমাদের প্রাত্যহিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে একটা বিড়ম্বনাস্বরূপ। এ সমস্যার ভয়াবহতাথেকে এখনই পরিত্রাণের পথ খুঁজে না পেলে আগামী বছরগুলােতে স্থবিরতা গ্রাস করবে। তাই যত তাড়াতাড়ি যানজটসমস্যার সমাধান করা যায় জাতির জন্য ততই মঙ্গল।

FILED UNDER : রচনা

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি