বিদ্যুৎ সমস্যা ও এর প্রতিকার রচনা(৫৫০ শব্দ) |

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা ও এর প্রতিকার রচনার সংকেত

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সমস্যা ও এর প্রতিকার রচনা

ভূমিকা:

বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কারের মধ্যে বিদ্যুৎ অন্যতম । বিদ্যুৎ সভ্য জগতের একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যেখানে বিদ্যুতের অনুপস্থিতি বর্তমান সেখানে সভ্যতা এখনও বহুদূর। এককালের অন্ধকার পৃথিবী এখন বিদ্যুতের কল্যাণেই হয়েছে আলােকিত; কলকারখানা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান হয়েছে গতিশীল । বিদ্যুৎশক্তি আজ গােটা বিশ্বকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। বদলে গিয়েছে মানুষের জীবন, জীবনেও এনেছে গতি।

উন্নত দেশে বিদ্যুৎ সংকট:

আজকের বিশ্বে যেসব দেশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য উৎপাদনধর্মী কলকারখানায় উন্নতি করেছে সেসব উন্নতির পেছনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বিদ্যুৎশক্তি। আমাদের কাছের দেশ সিঙ্গাপুর । দেশটি আয়তনে খুব ছােট হলেও অর্থনৈতিকভাবে তারা প্রভূত উন্নতি সাধন করতে পেরেছে বিদ্যুৎশক্তির যথাযথ ব্যবহার করে । উন্নত দেশগুলােতে বিদ্যুৎ ঘাটতি কম বলে তাদের উৎপাদন, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার মান সব কিছুই উঁচু।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সংকট:

স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশ আর প্রবর্তী বাংলাদেশ এ দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক থাকলেও বিদ্যুতের বিষয়টি থেকে গেছে একইরকম। দেশে তখনও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ছিল না, এখনও নেই। গভীর বিদ্যুৎ সংকটে পতিত আমাদের দেশ প্রকট বিদ্যুৎ ঘাটতি জনজীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অফিস পাড়া, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সর্বত্রই বিদ্যুতের ঘাটতি। ফলে জীবনে দুর্ভোগ, উৎপাদনে স্থবিরতা লেগেই আছে। বিদ্যুৎ ঘাটতি প্রকট বলেই কৃষিজমিতে পর্যাপ্ত সেচব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়। বর্ষা মৌসুমে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কল্যাণে কিছু উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও ব্যাপক ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বড় কোনাে ভূমিকা পালন করা। কেন্দ্রটির পক্ষে সম্ভব হয় না। নিয়মিত লােডশেডিং আমাদের দেশের প্রতিদিনকার চিত্র। দুর্নীতি আর অদক্ষ ব্যবস্থাপনা এসে যখন যুক্ত হয় তখন এ প্রক্রিয়াটি হয়ে পড়ে আরও হতাশাজনক।

বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণসমূহ:

বাংলাদেশে যে কয়টি তাপবিদ্যুৎ ও জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে সেগুলাে সচল রাখার জন্য যে কাঁচামাল নিত্য সরবরাহ জরুরি তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি থেকে যাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই। নতুন উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অদূরদর্শিতা এবং সামর্থ্যহীনতা একটি বড় কারণ। উপযুক্ত প্রযুক্তি ও সহায়ক যন্ত্রপাতির অভাবও এক্ষেত্রে একটি অন্তরায়। পাশাপাশি আমাদের দেশের সরকারের চিরায়ত অবস্থাকে কিছুটা দায়ী করা যেতে পারে। স্বাভাবিকভাবে আমরা লক্ষ করি আমাদের দেশের সরকার সবসময়ই নির্ভরশীল। বিদেশি কোনাে কোম্পানি কখন এসে চুক্তি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে দেবে এ প্রতীক্ষা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে। সরকারের সাহসী সিদ্ধান্তের অভাবও তাই বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ। রাজনৈতিক আস্থাশীলতা ও প্রশাসনিক জটিলতাও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণ বলে বিবেচনা করা যায়। এ অবস্থা আমাদের কাম্য হতে পারে না। আমাদের উচিত এ সংকট থেকে আশু উত্তরণ ।

জাতীয় জীবনে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব:

বিদেশি বিনিয়ােগ যে দুটি প্রধান কারণে বিঘ্নিত হয় তার মধ্যে বিদ্যুৎ ঘাটতি একটি। বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলেই জাতীয় অর্থনীতি ও উন্নয়ন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষত শিল্পকারখানার উৎপাদনের স্মৃব্রিতা ও কৃষিখাতের উৎপাদন হ্রাস জাতির জন্য নিঃসন্দেহে দুশ্চিন্তার কারণ । বিদ্যুৎ শক্তির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করা না গেলে দেশের উন্নতি ও অর্থনৈতিক বুনিয়াদ ভেঙে পড়বে।

বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিকার:

বিদ্যুৎ সংকট থেকে উত্তরণ ঘটাতে চাইলে সর্বাগ্রে প্রয়ােজন চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শুধু উৎপাদনের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়। বরং উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ সংরক্ষণ এবং সমাজের উচু স্তর থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সমভাবে বিতরণের ব্যবস্থাও নিতে হবে। দেশের প্রায় সকল জায়গাতেই অবৈধভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার ও অপচয় হচ্ছে। সরকারের উচিত হবে অবৈধ লাইনগুলাে বিচ্ছিন্ন করা এবং অপচয়রােধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। সমগ্র বাংলাদেশকে ছােট ছােট জোনে বা জেলাভিত্তিক সীমানা নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকার চাহিদা সঠিকভাবে নিরূপণ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ করলে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হতে পারে। তবে এ কাজটি সহজসাধ্য নয় বলে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে অগ্রসর হওয়া যেতে পারে।

উপসংহার:

দেশের উন্নতি ও অবনতি দুই-ই নির্ভর করে বিদ্যুৎশক্তির ওপর। তাই বিদ্যুৎ সংকট থেকে জাতি যত তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসতে পারবে ততই মঙ্গল।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *