প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে

একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। অথবা, তোমার বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের ওপর একটি প্রতিবেদন তৈরি করো। অথবা, তোমার বিদ্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করো। অথবা, একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করো। অথবা, তোমার বিদ্যালয়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উদ্‌যাপন করেছ। উক্ত অনুষ্ঠানের বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবরে একখানা প্রতিবেদন রচনা করো।

তোমার বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদন রচনা — ১

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০
বরাবর।
প্রধান শিক্ষক
“ক” বিদ্যালয়, নেত্রকোনা।
বিষয় : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন সম্পর্কিত প্রতিবেদন।

সূত্র : আদেশ নং- অ, আ, ম, ম, ক. – ২২/২০
জনাব,
আপনার আদেশক্রমে বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়ােজিত অনুষ্ঠানের একটি প্রতিবেদন আপনার সদয় অবগতির জন্য পেশ করছি।

“ক” বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

প্রতিবছরের ন্যায় এবারও “ক” বিদ্যালয়ে যথাযােগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক সহযােগিতা ও শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দিবসটি স্বকীয় মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে উঠে। ভাের ৬টায় প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে প্রভাতফেরির মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা খুব ভােরে ঘুম থেকে উঠে বিদ্যালয়ে এসে হাজির হয়। বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত হওয়ার পর নগ্ন পায়ে শােভাযাত্রা শুরু হয়। এ সময় সবার বুকেই কালাে ব্যাজ শােভা পাচ্ছিল। বিদ্যালয়ে স্থাপিত শহিদ মিনারের উদ্দেশে যাত্রাকালে সকলের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়- ‘আমার ভায়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ এ সময় এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রভাতফেরিটি শহিদ মিনারের পাদদেশে উপনীত হলে সর্বপ্রথম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, এরপর শিক্ষকমণ্ডলী এবং সবশেষে শিক্ষার্থীরা একে একে বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মােনাজাত করা হয়।
মােনাজাত পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের ধর্মশিক্ষক জনাব আফজাল হােসেন।

সকাল দশটায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে একুশ উপলক্ষে আলােচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। আলােচনা সভায় বক্তারা বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারির চেতনাই বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল উৎস। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের সূত্র ধরেই পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন ও উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ঘটে। এরই ফলশ্রুতিতে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র লাভ করতে সক্ষম হই। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আবদুল মজিদ বলেন, একুশে ফেব্রুয়ারিকে আমরা কেবল ভাষার অধিকার রক্ষার লড়াই ভাবলে ভুল করব। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ হলো শোষকের বিরুদ্ধে শােষিতের, অসুন্দরের বিরুদ্ধে সুন্দরের ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলাের চিরন্তন সংগ্রামের স্মারক। সভাপতির বক্তব্যে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভাষাশহিদরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। এই দিনে আমাদের সব রকম অন্যায়, অত্যাচার শোষণ ও নিষ্পেষণের বিরুদ্ধে মাথা উচু করে দাঁড়ানাের শপথ নিতে হবে।

আলােচনা পর্ব শেষে শুরু হয় এক মনােজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। একুশের গান, কবিতা আবৃত্তি, বিতর্ক প্রতিযােগিতার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি উপভােগ্য হয়ে উঠে। সবশেষে ভাষা আন্দোলনের উপর মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘কবর’ নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অভিনয় মুগ্ধ করে সবাইকে। এরপর প্রধান অতিথি কবিতা আবৃত্তি ও সুন্দর হস্তাক্ষর প্রতিযােগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের নৈপুণ্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

একুশে ফেব্রুয়ারির দিনটি আমাদের জন্য বেদনাবিধুর হলেও দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে তা বিশেষ তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে উঠে।

বিনীত প্রতিবেদক
মানিক
দশম শ্রেণি, মানবিক বিভাগ।
“ক” বিদ্যালয়, নেত্রকোনা।

তোমার বিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষে প্রতিবেদন — ২

২৩/০২/২০২০
প্রধান শিক্ষক
বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়
ঢাকা।
বিষয়: একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন উপলক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃক আয়ােজিত অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কিত প্রতিবেদন।
সূত্র: বি.উ.বি./২০২০/২ (২১)
২২/০২/২০২০
জনাব,
বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে উদ্যাপিত একুশে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরির জন্যে আদিষ্ট হয়ে নিচের
প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করছি।

বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন

১. অমর একুশে ফেব্রুয়ারি বা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে ২১-এ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়ােজন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিল একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন কমিটি। এবারের প্রতিপাদ্য স্লোগান ছিল “একুশ আমার চেতনে, একুশ আমার মননে”।

২. একুশে ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন কমিটি ১৯-এ ফেব্রুয়ারি ২০২০ মাতৃভাষা দিবস পালনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করে। সেই কর্মসূচি অনুসারে ছাত্র-শিক্ষকের সমন্বিত একটি দল ২১-এ ফেব্রুয়ারি রাত ১২:০১ মিনিটে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে । সকাল ৭টায় প্রভাতফেরি শুরু হয়। প্রভাতফেরিতে যােগদানকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা খালি পায়ে হেঁটে ভাষা আন্দোলনের শহিদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। ছাত্র-শিক্ষক সবার কণ্ঠে ছিল “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।” আর সঙ্গে এবারের অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য স্লোগান– “একুশে আমার চেতনে, একুশ আমার মননে”। প্রভাতফেরি শেষ হলে প্রধান শিক্ষকের পর অন্যান্য শিক্ষার্থী শহিদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে।

৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পরবর্তী কর্মসূচি আলােচনা সভা শুরু হয় সকাল ৯টায়। উদ্বোধন করেন বিখ্যাত প্রাবন্ধিক সলিমুল্লাহ খান। প্রথমেই শুরু হয় আলােচনা সভা। সলিমুল্লাহ খান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও আলােচনায় অংশ নেন সাহিত্যিক জাকির তালুকদার। আলােচকগণ ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস, স্বাধীনতা আন্দোলনে এর প্রভাব, ২১-এ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হয়ে ওঠার পরিপ্রেক্ষিত এবং বর্তমান সময়ে একুশের চেতনায় উজ্জীবনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন। আলােচনা শেষ হয় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে।

৪. দুপুর ২টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথমেই একুশের চেতনাসমৃদ্ধ কবিতা আবৃত্তি ও গান পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা । এরপর বিকাল ৪টায় মঞ্চায়িত হয় মমতাজউদ্দীন আহমদ-এর ‘বিবাহ’ নাটকটি। সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কার বিতরণী । সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘােষণা করেন ‘একুশের ফেব্রুয়ারি উদ্যাপন কমিটির সভাপতি শিক্ষক আ ন ম বজলুর রশিদ।

উদযাপিত অনুষ্ঠানমালা ছিল প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা । তবে ছাত্রশিক্ষক সকলেই সচেতন ছিলেন যাতে ভাষা শহিদদের প্রতি যথাযােগ্য সম্মান দেখিয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপনকে ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও সার্থকতামণ্ডিত করা যায়।

প্রতিবেদকের নাম ও ঠিকানা : সুমন্ত সরকার, মানবিক বিভাগ, নবম শ্রেণি
প্রতিবেদনের শিরােনাম: বিদ্যানিকেতন উচ্চ বিদ্যালয়ে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন
প্রতিবেদন তৈরির সময়: রাত ১০টা ৩০ মিনিট
প্রতিবেদন রচনার তারিখ: ২৩/০২/২০২০

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.