Home অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ |

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ |

by Curiosityn
8 comments

প্রশ্নঃ বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ ১

একটি স্বাধীন জাতির মর্যাদা ও স্বকীয়তার প্রতীক জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকাই প্রমাণ করে দেশটি স্বাধীন ও সার্বভৌম। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতি হিসেবে বাংলাদেশেরও নিজস্ব জাতীয় পতাকা রয়েছে লাখাে শহিদের আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা এ পতাকা অর্জন করেছি । বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সবুজ আয়তক্ষেত্রের মধ্যে লাল বৃত্ত। সবুজ আয়তক্ষেত্র নির্দেশ করে বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি আর লাল বৃত্ত নির্দেশ করে আমাদের বিপ্লবী চেতনা। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা বিধি প্রণীত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং লাল বৃত্তের ব্যাসার্ধের অনুপাত ৫: ৩:১ । জাতীয় পতাকার বিভিন্ন মাপ রয়েছে। ভবনে ব্যবহারের জন্য পতাকার বিভিন্ন মাপ হলাে ১০ ফুট x ৬ ফুট, ৫ ফুট X ৩ ফুট, ২.৫ ফুট x ১.৫ ফুট। আন্তর্জাতিক ও দ্বিপক্ষীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য টেবিল পতাকার মাপ হলাে ১০ ইঞ্চি x ৬ ইঞি। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বর্তমান রূপটি ১৯৭২ সালের ১৭ই জানুয়ারি সরকারিভাবে গৃহীত হয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার পটুয়া কামরুল হাসান। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পতাকার ওপর ভিত্তি করে এই পতাকা নির্ধারণ করা হয়; তখন মাঝের লাল বৃত্তে বাংলাদেশের মানচিত্র ছিল । মানচিত্রখচিত বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ডিজাইনার ছিলেন শিবনারায়ণ দাশ। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলার এক জনসভায় প্রথমবারের মতাে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তঙ্কালীন ছাত্রনেতা, ডাকসু ভিপি আ স ম আবদুর রব। এ কারণেই স্বাধীনতার পর থেকে ২রা মার্চকে ‘জাতীয় পতাকা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়। বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় কলকাতায়। কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে ১৯৭১ সালের ১৮ই এপ্রিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এম. হােসেন আলী। এটিই কোনাে বিদেশি মিশনে সর্বপ্রথম বাংলাদেশি পতাকা উত্তোলন। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গে জাপান ও পালাউ এই দুটি দেশের পতাকার মিল আছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি/ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্মানের সঙ্গে প্রতি কর্মদিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নিয়ম রয়েছে। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য জাতীয় পতাকাকে যথাযথ সম্মান দেখানো ও এর মর্যাদা রক্ষা করা।

জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ -২

জাতীয় পতাকা একটি স্বাধীন জাতির পবিত্র সমপদ। এটি স্বাধীন জাতির নিদর্শন। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন।দেশ। প্রত্যেক স্বাধীন জাতির একটি নিজস্ব পতাকা রয়েছে। আমাদেরও একটি নিজস্ব জাতীয় পতাকা রয়েছে। আমাদের পতাকার আকার আয়তাকার। পতাকার আকারের অনুপাত ১০ ঃ ৬। মাঝে লাল বৃত্তসহ পতাকাটি সবুজ বর্ণের। প্রতিটি স্বাধীন জাতিরই একটি পতাকা আছে। আমাদের একটি নিজস্ব জাতীয় পতাকা আছে। লাল বৃত্তটি এ দেশের বীর সন্তানদের পবিত্র রক্তের সাক্ষ্য বহন করে। পতাকার সবুজ অংশটি সবুজ গাছপালা, সবুজ ফসল এবং সবুজ মাঠের সাক্ষ্য বহন করে। এটি আমাদেরকে এদেশের মুক্তিযােদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের জাতীয় পতাকা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে এবং যে কোনাে চ্যালেঞ সাহসিকতার সঙ্গে মােকাবেলা করতে প্রেরণা দেয়। যখন আমাদের জাতীয় পতাকা আমাদের মাথার ওপর পত পত করে উড়তে থাকে তখন মন আনন্দে নেচে উঠে। আমরা হৃদয় দিয়ে আমাদের পতাকাকে ভালােবাসি এবং শ্রদ্ধা করি। আমরা যেকোনাে মূল্যে এর মর্যাদা রাখব। প্রতিদিনই সরকারি ভবনের উপরে, কোর্ট এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পতাকা উত্তোলন করা হয়। আমাদের জাতীয় শােক দিবসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। কিন্তু ভাষা দিবসে,স্বাধীনতা দিবসে এবং বিজয় দিবসে এটি সব জায়গায় উত্তোলন করা হয়।

আমাদের জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদ ৩

জাতীয় পতাকা একটি দেশের প্রতীক। বিশ্বের প্রতিটি দেশের একটি নিজস্ব জাতীয় পতাকা রয়েছে। এটি দেশভেদে ভিন্ন হয়। একটি দেশের জাতীয় পতাকা দেখে ঐ দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যায়। আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশেরও একটি জাতীয় পতাকা রয়েছে। আমাদের এ জাতীয় পতাকা ১৯৭০ সালে প্রথম অঙ্কন করেছিলেন বুয়েটের ছাত্র শিব নারায়ণ। তাঁর অঙ্কিত জাতীয় পতাকায় সবুজ জমিনের আয়তক্ষেত্রের মধ্যে বাংলাদেশের মানচিত্র অঙ্কিত ছিল। তৎকালীন ছাত্র নেতাদের উদ্যোগে অঙ্কিত এ পতাকা প্রথম উত্তোলিত হয় ১৯৭১ সালের ২রা মার্চ পল্টন ময়দানে। তবে বর্তমানে প্রচলিত জাতীয় পতাকার ডিজাইনার হলেন চারুশিল্পী পটুয়া কামরুল হাসান। তার ডিজাইনকৃত পতাকার দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের অনুপাত ১০ : ৬। মাঝখানে একটি লাল বৃত্তসহ আমাদের জাতীয় পতাকার রং সবুজ। আমাদের জাতীয় পতাকার সবুজ পটভূমি আমাদের মনােমুদ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে নির্দেশ করে। পতাকার লাল বৃত্ত আমাদের জাতীয় বীরদের রক্তদানকে নির্দেশ করে। তাঁরা ১৯৭১ সালে দেশের জন্য তাঁদের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। সর্বোপরি, আমাদের জাতীয় পতাকা বিশ্বের অন্যান্য জাতিগােষ্ঠীকে এ বার্তা পৌছে দেয় যে, এক সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা এ পতাকা অর্জন করেছি। আমরা আমাদের এ জাতীয় পতাকাকে খুব ভালােবাসি ও শ্রদ্ধা করি। আমরা এটির জন্য গর্বিত। আমরা জীবন দিয়ে হলেও এ পতাকার মান ও মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখব।

বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

4.4/5 - (46 votes)

You may also like

8 comments

Anab November 1, 2021 - 8:46 pm

Arektu sort korle valo hoito

Reply
Sabbir8986 November 1, 2021 - 9:34 pm

Short korle long korar jnno apnader alada kosto hote pare. Jehetu sobar kotha mathay rakhte hoy. Apni proyojon moto ektu choto kore nite paren. Sathe thakar jnno dhonnobad.

Reply
Labiba Hasan Ahona August 22, 2022 - 12:31 am

Dhonnobaad onucched gulo besh valo hoyeche

Reply
Muhin August 22, 2022 - 8:07 pm

Love it so much

Reply
FAHIM November 15, 2022 - 1:08 am

2nd onnuched a 13th sentence a moron lekha. shoron hoar kotha ig.

Reply
Curiosityn November 15, 2022 - 1:36 am

☺️Updated. অসংখ্য ধন্যবাদ। মাঝে মাঝে কিছু ভুল দৃষ্টগোচর হয় না।

Reply
Fatin Hasnat July 14, 2023 - 11:17 am

প্রথম অনুচ্ছেদের সর্বশেষ লাইনে পতাকা কে প্তাকা লেখা হয়েছে।অনুগ্রহপূর্বক এটি ঠিক করে নিন।

Reply
Curiosityn September 6, 2023 - 3:13 am

🙂Thanks for your cooperation.

Reply

Leave a Comment