Home অনুচ্ছেদ বৃক্ষরােপণ অনুচ্ছেদ | বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা |

বৃক্ষরােপণ অনুচ্ছেদ | বাংলা অনুচ্ছেদ রচনা |

by Curiosityn
1 comment

প্রশ্নঃ বৃক্ষরােপণ অভিযান নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

বৃক্ষরোপণ অনুচ্ছেদ ১

মানুষসহ পৃথিবীর তাবৎ প্রাণীর জীবন প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে বৃক্ষের সঙ্গে সম্পর্কিত। বৃক্ষই এই ধরিত্রীকে জীববাসের অনুকূল করেছে, প্রাণীর অপরিহার্য খাদ্যের সংস্থান করেছে এবং সর্বোপরি পৃথিবীর বাস্তুতান্ত্রিক ও আবহাওয়াগত ভারসাম্য রক্ষা করে চলেছে। আর তাই প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার তাগিদে বৃক্ষরােপণ করার কোনাে বিকল্প নেই। যেকোনাে দেশের জন্যে মূল ভূখণ্ডের কমপক্ষে শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা বাঞ্ছনীয় । কিন্তু সে তুলনায় বাংলাদেশের বনভূমির পরিমাণ মােট আয়তনের মাত্র ১৬ ভাগ। এমন অবস্থাতেও আমরা অহরহ কারণে-অকারণে চারপাশ থেকে নির্বিচারে বৃক্ষরাজি নিধন করছি। এতে আমরা একটা অনিবার্য পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছি। বাংলাদেশের পরিবেশ আজ দূষণের শিকারে পরিণত হয়েছে। ফলে অতিবৃষ্টি কিংবা অনাবৃষ্টি দেখা দিচ্ছে। আকস্মিক বন্যা, জলােচ্ছাস ও ঘূর্ণিঝড়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ হচ্ছে বিপর্যস্ত ও বিধ্বস্ত। এদেশের জলবায়ু ক্রমশ চরমভাবাপন্নতার দিকে এগিয়ে চলেছে । হয়তাে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ উষর মরুতে পরিণত হবে। আর বৃক্ষের অভাবে গ্রিনহাউজ প্রতিক্রিয়াও রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ওজোনস্তর ক্ষয় এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকাগুলাে তলিয়ে যেতে পারে। বৃক্ষরােপণ বা বৃক্ষ সম্পদের উন্নয়ন তাই আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। এ উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে বন বিভাগ’ নামে একটি দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ দপ্তরটি বৃক্ষরােপণ কার্যক্রমে বেশি জনগণকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ১৯৯৪ সাল থেকে দেশব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়ােজন করে চলেছে। অরণ্য সম্প্রসারণ ও অরণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সার্থকভাবে রূপায়িত করার জন্যে সরকারি ও বেসরকারি আন্তরিক প্রয়াস ও প্রচেষ্টা প্রয়ােজন। এ সম্পর্কে অবশ্য পালনীয় কয়েকটি কর্তব্য হলাে— ১. বনের অবাধ ও যথেচ্ছ উচ্ছেদ নিবারণ, ২. নতুন চারাগাছ লাগানাে এবং তার প্রয়ােজনীয় পরিচর্যা করা, ৩. অপরিণত বৃক্ষচ্ছেদন যাতে না করা হয় তার জন্যে আইনের প্রয়ােগ ঘটানাে, ৪. নতুন নতুন এলাকায় সামাজিক বনায়ন গড়ে তােলা ইত্যাদি। এ সকল কিছুর সমন্বিত প্রচেষ্টায় যদি বৃক্ষরােপণ অভিযান চালানাে যায় তবেই বাংলাদেশসহ আমাদের ধরিত্রী আবারও জীববাসের অনুকূল হয়ে উঠবে।

বৃক্ষরোপণ অনুচ্ছেদ ২

নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ব্যাপকভাবে গাছপালা রোপণ করাকে বৃক্ষরোপন বলে। বৃক্ষ আমাদের নিকট বিভিন্নভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ফলমূল এবং ভিটামিন সরবরাহ করার মধ্যমে গাছ আমাদের খাদ্যের চাহিদা মেটায়। আসবাবপত্রসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত কাঠ গাছ থেকে পাওয়া যায়। বৃক্ষ ভূমিক্ষয় প্রতিরোধ করে। লতাপাতা, মূল এবং গাছের ছাল থেকে নানা প্রকারের ওষুধ তৈরি হয়। আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন আর এ অক্সিজেন বৃক্ষ সরবরাহ করে থাকে। গাছ-পালা বিষাক্ত কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস শুষে নিয়ে আমাদের পরিবেশকে ভালো রাখে। আমাদের বাস্তসংস্থানগত ভারসাম্য রক্ষায় গাছ-পালার ভূমিকা অনেক বেশি। বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্য হচ্ছে পরিবেশের জীব ও জড় পদার্থের মধ্যে একটি সুস্থ ও সামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পর্ক। গাছপালা পশুপাখি ও জীবজন্তুকে আশ্রয় ও অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে আমাদেরকে এই ভারসাম্য রক্ষা করতে সহায়তা করে। গাছপালা না থাকলে আমাদের জীবনের অস্তিত্ব থাকত না। বলা হয় যে, বাস্তুসংস্থানগত ভারসাম্য রক্ষা করতে একটি দেশের ২৫% বনভূমি থাকা প্রয়োজন। গাছ-পালার অভাবে একটি দেশ মরুভূমিতে পরিণত হয় এবং সেখানে কোনো জীবন্ত প্রাণী বাস করতে পারে না। তাই গাছ-পালা রোপণ করা আমাদের জন্য মৃত্যাবশ্যক। এগুলো রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারপাশে এবং যেকোনো খোলা জায়গায় রোপণ করা যেতে পারে। আমাদের নিজেদের স্বার্থে আমাদেরকে বেশি বেশি বৃক্ষরোপণ করা উচিত।

বৃক্ষরোপণ অনুচ্ছেদ ৩

বৃক্ষ প্রকৃতি ও জীবজগতের অপরিহার্য অংশ। তাই বৃক্ষ ছাড়া পৃথিবীর বুকে প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনাতীত। নির্বিচারে বৃক্ষনিধন প্রকৃতিকে করছে বিপন্ন। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ হয়ে পড়েছে হুমকির সম্মুখীন। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ব পরিবেশের বিপর্যস্ততার কারণ বিশ্বের বনভূমি উজাড় । জীবন ও পরিবেশের সম্পর্ক অবিচ্ছিন্ন জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। বৃক্ষ জলীয়বাষ্প তৈরির মাধ্যমে বৃষ্টি ঝরিয়ে ভূমিতে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করে। তাছাড়া মাটির ক্ষয় রােধ করে নদীর ভাঙন থেকে ভূভাগকে রক্ষা করে, মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষার ক্ষেত্রেও পালন করে অনন্য ভূমিকা । বৃক্ষ প্রকৃতির বুক থেকে প্রাণিকুলের ত্যাগ করা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয় জীবনদানকারী অক্সিজেন। বৃক্ষহীনতার প্রতিক্রিয়া যে কী ভয়াবহ তার পরিচয় আজ পৃথিবীব্যাপী স্পষ্ট। এর ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলােচ্ছাসের হার অনেক বেড়ে যাবে। আবার গ্রিন হাউস গ্যাসের কারণে ওজোন স্তরের ক্ষয়ের ফলে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পৃথিবীতে চলে আসায় মানুষ ও জীবজন্তুর নানা রােগ দেখা দেবে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য, জীবনােপযােগী পরিবেশের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক গাছ লাগানাে আজ অবশ্য পালনীয় দায়িত্বে পরিণত হয়েছে। রুক্ষ নগরসভ্যতায় বৃক্ষের ছায়াশীতল স্নিগ্ধতা ফিরিয়ে দিতে হলে বৃক্ষরােপণ অপরিহার্য। সুপরিকল্পিতভাবে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তার আওতায় বৃক্ষরােপণ কর্মসূচি ও পরিচর্যার ভার গ্রহণ করতে হবে। যেখানেই খালি জায়গা থাকবে সেখানেই গাছ লাগানাের জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সাধারণ জনগণ পরিবেশের ভারসাম্যহীনতার ভয়াবহতা সম্বন্ধে অবহিত হলেই বৃক্ষরােপণের তাগিদ অনুভব করবে।

4.1/5 - (9 votes)

You may also like

1 comment

Pakhi August 9, 2022 - 7:40 am

Nice 😊👍🏻
🇧🇩🇧🇩

Reply

Leave a Comment