অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাও ভালাে

অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাও ভালাে ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাব: কোনাে একটি কাজ ভালােভাবে সম্পন্ন করার পূর্বশর্ত হচ্ছে সঠিক পরিকল্পনা। অর্থাৎ কাজটি সম্পর্কে ভালােভাবে ভাবা । কিন্তু ভাবতে ভাবতেই যদি সময় শেষ হয়ে যায় তবে সে ভাবনা কোনাে কাজেই আসবে না। তাই অধিক ভাবনার চেয়ে কর্মে নিষ্ঠাবান হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

ভাবসম্প্রসারণ: মেঘের অতিরিক্ত গর্জনে যেমন সবসময় বৃষ্টি হয় না, তেমনি অতিরিক্ত ভাবনার ফল সবসময় বাস্তবে রূপলাভ করে না। মানবজীবনে প্রতিষ্ঠার জন্য দরকার কর্মে নিষ্ঠাবান হওয়া। আর কর্ম সম্পাদনের পূর্বে দরকার পরিকল্পনা। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে, প্রয়ােজনের অতিরিক্ত ভাবনা আমাদের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। তাই বৃথাই অনেক বেশি ভাবনার দরকার নেই। দরকার কর্ম-বাহুল্যের। আমরা যা ভাবছি তাকে যদি কর্মে রূপদান করতে পারি তবেই ভাবনাটা সার্থক হয়। যা আমরা করতে পারব না অর্থাৎ আমাদের সাধ্যের বাইরের কোনােকিছু নিয়ে ভাবা বােকামি। অন্যদিকে আমাদের ক্ষমতার মধ্যে যা আছে তা নিয়ে ভাবা এবং সে অনুযায়ী কাজ করা বুদ্ধিমানের কাজ। অনেকে বড় বড় কাজের পরিকল্পনা আঁটে, এটা করবে সেটা করবে বলে বাগাড়ম্বর করে। কিন্তু কাজের বেলায় তাদের পাওয়া যায় না। বড় পরিকল্পনা করা ভালাে কিন্তু তাকে বাস্তবে রুপদান করা যাবে কি না সেটাই প্রকৃত জিজ্ঞাসা। বাগাড়ম্বর কোনাে কাজে সাফল্য নিয়ে আসতে পারে না। তার চেয়ে সুষ্ঠু পরিকল্পনার ভিত্তিতে অল্প কাজ সঠিকভাবে করাই ভালাে। কর্মের মধ্যেই জীবনের সার্থকতার বীজ নিহিত। জীবনে সফল হওয়ার জন্য তাই সবার আগে দরকার কর্মে নিষ্ঠাবান হওয়া ।

ভাবনা যত বড়ই হােক না কেন, ভাবনার চেয়ে কর্মের গুরুত্ব অনেক বেশি। কাজের মাধ্যমেই মানবজীবন ধন্য হয়ে ওঠে। তাই আমাদের উচিত আকাশ-কুসুম কল্পনা না করে নিজ নিজ কাজে মন দেয়া।

অনেক কিছু ভাবার চেয়ে অল্প কিছু করাই শ্রেয় (ভিন্ন লেখা)

মূলভাব : যা ভাবা হয় তাকে কাজে রূপদানের ওপরই মানব জীবনের প্রচেষ্টার স্বরূপ নির্ণীত হয়। তাই পরিকল্পনার বাগাড়ম্বরতা নয়; বরং কর্মবাহুল্যের প্রতি মনােযােগী হওয়াই প্রকৃত জ্ঞানীর কাজ।

সম্প্রসারিত ভাব : প্রাচীন শাস্ত্রে আছে, “কর্মহি সত্যমেব জীবন” অর্থাৎ কর্মের মধ্যেই জীবনের সাফল্য বীজ নিহিত। তাই কাজের মাধ্যমেই মানবজীবনকে ধন্য করতে হবে। কিন্তু কাজ করার জন্য চাই সুষ্ঠু ও সুচিন্তিত পরিকল্পনা। কারণ বিশৃঙ্খল চিন্তার ফসল যে কাজ তা মানব জীবনে কল্যাণের পরিবর্তে অকল্যাণই বয়ে আনে। তাই প্রথমে পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তারপর বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হতে হবে। তবে পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় থাকা আবশ্যক। কেননা, অনেক কিছুই পরিকল্পনা করা হলাে, কিন্তু তা আদৌ বাস্তবায়িত হলাে না- এতে কোনাে লাভ নেই। বাস্তবায়নহীন পরিকল্পনা মিথ্যা মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাই মরীচিকাসম বাগাড়ম্বর পরিকল্পনার চেয়ে যত ক্ষুদ্রই হােক না কেন কাজের মাঝে নিজকে নিয়ােজিত রাখাই জ্ঞানীর পরিচয়। কারণ যে কাঠ জ্বলেনি তাকে আমরা যেমন আগুন বলি না, তেমনি বাস্তবায়নহীন পরিকল্পনা কোনাে কিছুই নয়। তাই ক্ষুদ্র যােক তবুও কাজের মধ্যেই খুঁজে নিতে হবে জীবনের সার্থকতা। কবির কণ্ঠে ধ্বনিত হয়–
“আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে।”

মন্তব্য : কথায় নয় কাজের মধ্যেই জীবনের সার্থকতা নিহিত। তাই কাজের পরিমাণ যাই হােক না কেন এর মাধ্যমে পরিচয় স্পষ্ট করে তােলাই আমাদের ব্রত হওয়া উচিত।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *