অভিধান অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

প্রশ্নঃ অভিধান নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।উত্তরঃ

অভিধান বলতে এমন একটি বইকে বােঝায় যেখানে শব্দ ও ভাষার সব ধরনের ব্যবহার অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করা থাকে। অভিধান সংস্কৃত বা তৎসম শব্দ। শব্দটির আক্ষরিক অর্থ শব্দকোষ বা শব্দভাণ্ডার, কিন্তু মূল অর্থ বিশেষভাবে অনুধাবন করা। পৃথিবীর যেকোনাে জীবন্ত ভাষা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সর্বদা ভাষার শব্দগুলাে গ্রহণ-বর্জনের মাধ্যমে শুধু শব্দরূপ নয় বরং এর ব্যবহারবিধির ক্ষেত্রেও পরিবর্তন দেখা যায়। বিভিন্ন সময়ে প্রয়ােজন হয় এই পরিবর্তনগুলাে একসাথে সংকলনের। আর সে লক্ষ্যেই রচনা করা হয় অভিধান। অভিধানে শব্দগুলাে মূলত সাজানাে হয় বর্ণক্রম অনুসারে। ফলে খুব
সহজে যেকোনাে প্রয়ােজনীয় শব্দ দ্রুত বের করা সম্ভব হয়। অভিধান প্রণয়নের মাধ্যমে ভাষার স্থির-শুদ্ধ-মানরূপ নির্ণয়ের প্রথম পদক্ষেপ নেয় ইতালি। অভিধান নানা রকমের হয়ে থাকে। কোনােটিতে শব্দের অর্থ, কোনােটিতে উচ্চারণ, কোনােটিতে বানান, আবার কোনােটিতে ব্যবহারিক নিয়মও দেওয়া থাকে। এছাড়াও রয়েছে আঞ্চলিক ভাষার অভিধান, চরিতাভিধান ও অনুবাদ অভিধান। অনুবাদ অভিধানে প্রধানত এক ভাষার শব্দকে আরেক ভাষায় রূপান্তর করা হয়। যেমন- বাংলা থেকে ইংরেজি, ইংরেজি থেকে বাংলা, আরবি থেকে বাংলা ইত্যাদি। এছাড়াও একটি শব্দ বাক্যের মধ্যে কত অর্থে প্রযুক্ত হতে পারে তা জানা যায় অভিধানে। আবার শব্দের উৎস ও ব্যুৎপত্তি নির্দেশও থাকে। অভিধানের প্রধান উদ্দেশ্যই হচ্ছে শব্দগুলাে এমনভাবে সাজানাে যাতে খুব সহজেই প্রয়ােজনীয় শব্দটি খুঁজে পাওয়া যায়। অনেক সময় বানান বা উচ্চারণ নিয়েও সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যার সমাধান করা যায় অভিধানের মাধ্যমে । ভাষাতাত্ত্বিক, বিজ্ঞ শিক্ষক, কবি-সাহিত্যিকদের নিরলসপরিশ্রমের ফলে অভিধানগুলাে হয়ে ওঠে ভাষার বিশ্বস্ত এক দলিল। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, গবেষক ও অনুসন্ধিৎসু মানুষের কাছে অভিধানের গুরুত্ব অনেক। তাই প্রত্যেক ভাষার নিজস্ব একটি পূর্ণাঙ্গ অভিধান থাকা উচিত।অনেক সময় অভিধান সংক্ষিপ্ত বিশ্বকোষের দায়িত্বও পালন করে।

অভিধান অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *