জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা রচনা (950 words)

জাতি গঠনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা রচনার সংকেত(Hints)

  • ভূমিকা
  • ছাত্রদের ভূমিকার কারণ
  • ছাত্রদের ভূমিকার স্বরূপ
  • ছাত্রসমাজ ও জাতীয় কর্তব্য
  • ছাত্রসমাজ ও সমাজসেবা
  • ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেম
  • নিরক্ষরতা দূরীকরণ
  • গণশিক্ষা বিস্তার
  • গ্রামােন্নয়ন
  • দুর্নীতি দমনে সহযােগিতা
  • বেকারত্ব নিরসন
  • পরিবেশ সংরক্ষণ
  • সাংস্কৃতিক অবদান
  • উপসংহার

জাতি গঠনে ছাত্র সমাজের ভূমিকা

ভূমিকা:

ছাত্ররা যেকোনাে দেশের সবচেয়ে সচেতন ও প্রগতিশীল অংশ। দেশকে অর্থাৎ জাতিকে সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের পথে ধাবিত করতে ছাত্রসমাজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একজন প্রকৃত ছাত্রের সাধনা হলাে বিনয়ী, সৎ, দেশব্রতী, মুক্তমনা, আত্মত্যাগী ও আত্মবিশ্বাসী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তােলার সাধনা । তাই চিন্তাচেতনা ও শিক্ষায় অগ্রগামী এ ছাত্ররাই দেশ ও জাতির সেরা সম্পদ। আজকের ছাত্ররাই জাতির আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। উন্নয়নশীল দেশগুলাের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রয়ােজন উপযুক্ত দেশব্রতী নেতৃত্ব। আর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের এ প্রয়ােজন মেটাতে হবে আজকের প্রজন্মকে। জাতির গৌরব বৃদ্ধির সুমহান দায়িত্ব একদিন আজকের ছাত্রদের গ্রহণ করতে হবে। তাদের কৃতকর্মের সফলতার ওপরই জাতির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি নির্ভরশীল।

ছাত্রদের ভূমিকার কারণ:

ছাত্ররা তারুণ্যের উদ্দীপনায় উদ্দীপ্ত । নতুন কিছু করার ও গড়ার স্বপ্নে তারা সবসময় বিভাের। তারা উদ্যমী ও দায়িত্ব পালনে উদ্যোগী। যেকোনাে বাস্তব পরিস্থিতি মােকাবিলায় প্রয়ােজনে ছাত্ররাই পারে অকুতােভয় সংগ্রামী ভূমিকা পালন করতে আমাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ নানা আন্দোলন-সংগ্রামই তার উল্লেখযােগ্য উদাহরণ এছাড়াও ছাত্ররা স্বাধীন উদ্যোগ ও স্বেচ্ছাব্রতী দেশ গঠনমূলক কাজে যথেষ্ট উৎসাহ পায়। তাই জাতি গঠনে ছাত্ররাই পালন করতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা। সর্বোপরি একাধারে সংগঠক ও শিক্ষাদাতা কর্মীর ভূমিকা পালন করা তাদের পক্ষেই বিশেষভাবে সম্ভব।

ছাত্রদের ভূমিকার স্বরূপ:

একটি দেশ গঠনে একমাত্র ছাত্ররাই রাখতে পারে যুগােপযােগী ভূমিকা । কেননা যেকোনাে দেশের আর্থসামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতার আলােকেই ছাত্ররা তাদের দেশ গঠনের কার্যক্রম নির্ধারণ করে। জাতি গঠনে ছাত্রদের ভূমিকা দু দিক থেকে বিবেচ্য। প্রথমত, ছাত্ররা নিজের জীবন গঠনে তৎপরতা দেখিয়ে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্যে যােগ্যতা অর্জন করে। দ্বিতীয়ত, তারা প্রত্যক্ষভাবে জাতি গঠনের বিভিন্ন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত হতে পারে। শিক্ষা লাভের জন্যে ছাত্রসমাজ সংঘবদ্ধ থাকার সুযােগ পায় বলে তারা সংঘবদ্ধ এবং প্রবল শক্তি হিসেবে দেশ গঠনমূলক কাজে সম্পৃক্ত হয়।

ছাত্রসমাজ ও জাতীয় কর্তব্য:

যুগে যুগে ছাত্ররাই রচনা করে স্বপ্নিল পৃথিবী। নিদ্রাচ্ছন্ন পথভ্রষ্ট জাতিকে তারাই দেখায় আলােকবর্তিকা । তাদের শক্তি অপরিমেয়, গতিবেগ দুর্বার, উৎসাহ ক্লান্তিহীন এবং সাধনা তাদের অটল । দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তারা মুক্তির অগ্রদূত, মুক্তপ্রাণ ও মুক্তদৃষ্টির অধিকারী । সমাজপ্রগতি ও নতুন স্বপ্নময় জীবনের পথে তাদের দৃঢ় পদ্যাত্রা। তারাই জাতির কর্ণধার। নিজেকে মানুষ হিসেবে গড়ে তােলার সাথে সাথে দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি মােকাবিলা করে ছাত্রদের জাতীয় উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে অংশগ্রহণ করা উচিত। যেমন: দুর্গত ও বিপন্ন মানবতার সেবা, জনসেবা, গ্রামােন্নয়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, গরিব ও মেহনতি মানুষকে সহায়তা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরােপণ ইত্যাদি। এসব দেশ গঠনমূলক কাজের মাধ্যমেই তারা ভবিষ্যতে জাতীয় জীবনে সুশীল নাগরিকের দায়িত্ব পালন করার শিক্ষা লাভ করবে।

ছাত্রসমাজ ও সমাজসেবা:

বিদ্যার্জনের পাশাপাশি সমাজসেবামূলক দায়িত্ব পালন এবং দুর্যোগ-দুর্বিপাকে বিপন্ন মানুষের পাশে দাড়ানাে ছাত্রদের কর্তব্য। ছাত্রদের সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে বন্যা, জলােচ্ছাস, ঘূর্ণিঝড়, ভূমিকম্প প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন জনগণের পাশে দাড়ানাে। বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কাজের মাধ্যমে তারা সমাজের উপকার সাধন করতে পারে। যেমন: বায়ুদূষণ, পানিদূষণের বিরুদ্ধে সক্রিয় নানা ভূমিকা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখায় সহযােগিতা, আর্সেনিক দূষণ। কিংবা ডেঙ্গুর প্রকোপের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, নিরক্ষরতা দূরীকরণ পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ ইত্যাদি সেবামূলক কাজ। সমাজের প্রতি ছাত্রদের আজকের সেবাপরায়ণ মনােভাবই তাদের ভবিষ্যতের যােগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

ছাত্রসমাজ ও দেশপ্রেমঃ

দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক ও পরিচালক ছাত্রসমাজ। তাই ছাত্রদের দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হতে হবে। কেননা ছাত্রদের মনে উপ্ত দেশপ্রেমের ক্ষুদ্র বীজই ভবিষ্যতে কর্মময় জীবনের বিশাল আকার ধারণ করবে। ছাত্ররাই পারে দেশের বিপদে কর্তব্যের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকার করতে। ইতিহাসের পাতায় দেখা যায় ঔপনিবেশিক দেশ ও উন্নয়নশীল দেশগুলােতে সমাজের সচেতন ও সংগ্রামী অংশ হিসেবে ছাত্রসমাজই রাজনৈতিক সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের দেশেও ছাত্ররা ভাষা আন্দোলনে, শিক্ষা আন্দোলনে, ৬ দফা ও ১১ দফার আন্দোলনে এবং রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে গৌরবােজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্রদের আত্মত্যাগই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের অন্যতম হাতিয়ার। সুতরাং, ছাত্রসমাজই পারে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দেশের সার্বিক কল্যাণের বাণী স্বস্তরের জনগণের কাছে পৌছে দিতে।

নিরক্ষরতা দূরীকরণ:

নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অগ্রগতির পথে অন্যতম প্রধান সমস্যা। ছাত্ররা প্রাণদীপ্ত তারুণ্যের অধিকারী। নতুন কিছু করার এবং গড়ার কাজে তারা উদ্যোগী এবং উৎসাহী। তাই নিরক্ষরতা দূরীকরণে ছাত্ররাই সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে । একাধারে সংগঠক এবং শিক্ষাদাতা কর্মীর ভূমিকা পালন করা তাদের পক্ষেই বিশেষভাবে সম্ভব।

গণশিক্ষা বিস্তার:

দারিদ্র্যপীড়িত আমাদের এদেশে বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে চাই সবার জন্যে শিক্ষা তথা গণশিক্ষা। গণশিক্ষা বিস্তারে ছাত্রদের অংশগ্রহণই গণশিক্ষা আন্দোলনকে দুত সাফল্যমণ্ডিত করতে পারে। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে নিরক্ষরতার অভিশাপ সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার ক্ষেত্রে সারাদেশ ছাত্রসমাজই বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। তাই দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করতে হলে ছাত্রদের অবকাশকালীন গণশিক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ খুবই প্রয়ােজন ।

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ:

অধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা। দেশের নিরক্ষর জনসাধারণ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়ােজনীয়তা সম্পর্কে অসচেতন। ছাত্ররাই পারে এক্ষেত্রে জনগণকে সচেতন করে তুলতে । দেশের শিক্ষিত সমাজ হিসেবে সাধারণ মানুষ ছাত্রদের প্রতি শ্রদ্ধা পােষণ করে। তাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে ছাত্রদের বিভিন্ন পরামর্শ ও জ্ঞানদান তারা গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করবে।

গ্রামােন্নয়ন:

আমাদের দেশ গ্রামপ্রধান দেশ। তাই এদেশের উন্নয়ন মূলত গ্রামেরই উন্নয়ন। কেননা আমাদের দেশের অধিকাংশ লােকই গ্রামে বাস করে। তাই দেশের বিপুল অংশকে বাদ দিয়ে দেশ উন্নত হতে পারে না। কিন্তু গ্রাম আজ অবহেলিত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা সবকিছু থেকে বঞিত। দেশের উল্লেখযােগ্য অংশ ছাত্রসমাজই পারে গ্রামের এ দুর্দশার অবসান ঘটাতে । তাদের কর্মোদ্যম ও কর্মোদ্যোগ গ্রামের ঘরে ঘরে শিক্ষার আলাে পৌছে দিতে পারে এবং গ্রামের মানুষকে সচেতন করে তুলতে পারে।

দুর্নীতি দমনে সহযােগিতা:

ছাত্ররা যাবতীয় সংকীর্ণ চেতনার উর্ধ্বে। চারিত্রিক দৃঢ়তাই তাদের প্রধান বৈশিষ্ট্য। সমাজ ও দেশে যেখানেই নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দেয় সেখানেই শােনা যায় তাদের সােচ্চার কণ্ঠের প্রতিবাদ। যেখানে দুর্নীতির কালাে হাত থাবা দিয়েছে সেখানে দেখা যায় ছাত্রদের বলিষ্ঠ অবস্থান, ছাত্রদের এ ভূমিকাই জন্ম দিতে পারে একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ।

বেকারত্ব নিরসন:

বেকার সমস্যা আমাদের দেশের অন্যতম সমস্যা, বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথেই ঘটে নৈতিক স্থলন। বৃদ্ধি পায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি প্রভৃতি অপকর্ম। ছাত্ররা নতুন প্রাণ, নতুন চিন্তার অধিকারী, নবসৃষ্টির তাড়না তাদের প্রাণে। ছাত্ররা যদি তাদের চিন্তাচেতনা দিয়ে নিজেরাই নিজেদের কর্মসংস্থানের পন্থা উদ্ভাবন করতে পারে, তাহলে দেশ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে।

পরিবেশ সংরক্ষণ:

কেবল আমাদের দেশে নয়, পুরাে বিশ্বে পরিবেশ আজ হুমকির সম্মুখীন। জনগণের অসচেতনতা এবং স্বার্থপরতা পরিবেশকে দূষিত করছে প্রতিনিয়ত। লাগামহীন জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, বনভূমির অপরিকল্পিত ব্যবহার পরিবেশের ক্ষতিসাধন করছে। ছাত্রসমাজ যদি তাদের উদ্যোগী সচেতন মন নিয়ে জনগণকে সচেতন। করে তােলে তাহলে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

সাংস্কৃতিক অবদান:

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ছাত্ররা রাখতে পারে অগ্রণী ভূমিকা। সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে তারা বিশ্বের দরবারে। নিজেদের জাতীয় পরিচয় তুলে ধরতে পারে। আবার সাহিত্যের বিভিন্ন শাখা; কাব্য, নাটক, প্রবন্ধ, গল্প-উপন্যাস ইত্যাদি চর্চার মাধ্যমে বিশ্ব সাহিত্যের দরবারে তারা ঘােষণা করতে পারে নিজেদের গৌরবােজ্জ্বল উপস্থিতি।

উপসংহার:

প্রত্যেক মানুষের জীবনে ছাত্রজীবন সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য সময়। কেননা এ সময়টা একাধারে ছাত্রদের জীবন গঠন ও দেশ গঠনের লক্ষ্যে পরিচালিত। অধ্যয়নের ফাঁকে ফাঁকে ছাত্রদের দেশব্রতী ভূমিকা পালনই তাদের ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে ছাত্রদের নানামুখী অবদানই একটা সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি গড়ে তুলতে পারে। সমস্যাপীড়িত দারিদ্রসম দেশমাতৃকাকে গড়ে তােলার ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজই রাখতে পারে অগ্রণী ভূমিকা। এ প্রসঙ্গে গান্ধীজি বলেছেন, ‘The students are the future leaders of the country who could fulfill countrys hopes being capable

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *