Sabbir8986 / December 29, 2020

কুটিরশিল্প অনুচ্ছেদ | বাংলা ২য় পত্র অনুচ্ছেদ রচনা

Spread the love

প্রশ্নঃ কুটিরশিল্প নিয়ে বাংলা অনুচ্ছেদ লিখ ।

উত্তরঃ

কোনাে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতির জন্যে শিল্পের ওপর অত্যধিক গুরুত্ব আরােপ করতে হয়। এই জন্যে কুটিরশিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়ােজন। বহুকাল পূর্ব থেকেই এদেশে কুটিরশিল্পের ব্যাপক প্রচলন ছিল। এখানকার নানা ধরনের কুটিরশিল্পের নিদর্শন বিশ্বের বহু মানুষের সশ্রদ্ধ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অবশ্য ইংরেজ শাসনামলে কুটিরশিল্প খুবই দুরবস্থার সম্মুখীন হয়েছিল। এই রকম সংকটাপন্ন অবস্থায়ও বিলুপ্ত হয়ে যায়নি এই শিল্প। রুচি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে কুটিরশিল্প তুলনাহীন। এদেশে কয়েকটি নির্দিষ্ট কুটিরশিল্প রয়েছে। যেমন- পাটের দ্রব্যসামগ্রী প্রস্তুত, হস্তচালিত তাঁতের সুতিবস্ত্র তৈরি, বাঁশ-বেতের চেয়ার, মাটির হাঁড়ি-পাতিল, টেবিল তৈরি ইত্যাদি, যা বৃহদায়তন শিল্পে বহুল পরিমাণে উৎপাদনের সুবিধা নেই। কুটিরশিল্প দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে গ্রাম্যশিল্পকে মূলধন জোগাতে হবে, সরবরাহ করতে হবে সস্তায় কাঁচামাল। বাংলাদেশে কুটিরশিল্পের অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন হলেও এখানে কুটিরশিল্প টিকে থাকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অনেক উন্নত দেশে বৃহদায়তন শিল্পের পাশাপাশি যদি কুটিরশিল্পের অস্তিত্ব সগৌরবে বর্তমান থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশেও তা সম্ভবপর। জাপানে মােট শ্রমশক্তির শতকরা ৩০ ভাগ ক্ষুদ্রায়তন শিল্পে নিয়ােজিত রয়েছে। আর রপ্তানির ৬০ ভাগ কুটিরশিল্প থেকে আসে। এ থেকে সহজেই কুটিরশিল্পের প্রয়ােজনীয়তা প্রমাণিত হয়। কুটিরশিল্প আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণ হলাে এই শিল্প। এর মাধ্যমে বেকারত্ব ঘােচানাে এবং দারিদ্র্য বিমােচনও সম্ভব। এসব চিন্তা করে কুটিরশিল্পের পুনরুজ্জীবন ও প্রসার ঘটানাে প্রয়ােজন।
ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি ক্ষুদ্র কিন্তু জনবহুল দেশ। এদেশের জনসংখ্যার অধিকাংশ বাঙালি হলেও অনেকগুলাে ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী বা আদিবাসী গােত্রও রয়েছে। বাংলাদেশের মােট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ১.০৮ ভাগ হলাে ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে এদের সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ ৮৬ হাজার। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সিংহভাগ পার্বত্য চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রাজশাহী অঞ্চলে বসবাস করে। বাংলাদেশের আদিবাসী গােষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। বিবিএস ১৯৮৪ সালের রিপাের্টে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সংখ্যা ২৪, পক্ষান্তরে ১৯৯১ সালের রিপাের্টে এ সংখ্যা ২৯-এ উন্নীত হয়। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সংখ্যা ৪৫।
বিভিন্ন রিপাের্টে প্রচলিত ইংরেজি বানানে ভিন্ন রীতির কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে হয়। সর্বশেষ আদমশুমারি ও গৃহগণনা বলছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৭টি জেলাতেই ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সংখ্যা কমেছে। অন্য ১৭টি জেলায় তা বেড়েছে। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী হলাে চাকমা। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান জেলায় এদের বসবাস। আর দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগােষ্ঠী হলাে সাঁওতাল । এরা রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও দিনাজপুরে বাস করে। এছাড়া উল্লেখযােগ্য ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী হলাে মারমা, গারাে, খুমি, হাজং, রাখাইন, রাজবংশী, মুরং, মণিপুরি, লুসাই, খাসিয়া ইত্যাদি। বাংলাদেশে বসবাসকারী অধিকাংশ ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী (৪৩.৭%)। এছাড়াও সনাতন, খ্রিষ্টান, ইসলাম ধর্মের অনুসারীও রয়েছে। বাংলাদেশে প্রকৃতিপূজারি আদিবাসী খুন্তা ও রাজবংশী । এ সকল ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর রয়েছে নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও উৎসব। আদিবাসীদের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানকে সামগ্রিকভাবে বৈসাবি বলে, যা কি না বৈসুক, সাংগ্রাই এবং বিজুর সংক্ষিপ্ত রূপ। আদিবাসীদের দ্বারা ব্যবহৃত কয়েকটি উল্লেখযোেগ্য ভাষা হলাে— ককবরক (ত্রিপুরা), সাঁওতালি (সাঁওতাল), মান্দি (গারাে) ইত্যাদি। পার্বত্য শান্তিচুক্তির মাধ্যমে ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সঙ্গে বাঙালি জাতিগােষ্ঠীর সম্পর্ক গভীরতর হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীকে উন্নয়নের ধারায় যুক্ত করতে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। এছাড়াও ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীর সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ১৯৯৭ সালে নেত্রকোনা জেলায় ‘উপজাতীয় সাংস্কৃতিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের বৃহত্তম জনগােষ্ঠী ও সরকারকে সমন্বিত করে এ সকল ক্ষুদ্র জাতিগােষ্ঠীকে সহযােগিতা করতে হবে। তবেই তারা নিজস্বতা বজায় রেখে উন্নত জীবন লাভ করবে।

কুটিরশিল্প অনুচ্ছেদটি কেমন হয়েছে ? নতুন কিছু সংযোজন করা যায় বা বাদ দেওয়া প্রয়োজন? কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না।

FILED UNDER : অনুচ্ছেদ

Submit a Comment

Must be required * marked fields.

:*
:*

Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content

রচনা, ভাবসম্প্রসারণ,অনুচ্ছেদ,পত্র, আবেদন পত্র, সারাংশ-সারমর্ম , লিখন , বাংলা, ১০ম শ্রেণি, ২য় শ্রেণি, ৩য় শ্রেণি, ৪র্থ শ্রেণি, ৫ম শ্রেণি, ৬ষ্ঠ শ্রেণি, ৭ম শ্রেণি, ৮ম শ্রেণি, ৯ম শ্রেণি,  for class 10, for class 2, for class 3, for class 4, for class 5, for class 6, for class 7, for class 8, for class 9, for class hsc, for class jsc, for class ssc, একাদশ শ্রেণি, দ্বাদশ শ্রেণি