বাংলাদেশের পােশাকশিল্প রচনা (700 words) | JSC, SSC |

বাংলাদেশের পােশাকশিল্প রচনার সংকেত

  • ভূমিকা
  • পােশাকশিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান
  • বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পােশাকশিল্পের ভূমিকা
  • পােশকশিল্পে বিরাজমান সমস্যা
  • সমস্যা সমাধানের উপায়
  • উপসংহার

বাংলাদেশের পােশাকশিল্প রচনা

ভূমিকা:

বাংলাদেশে দুত বিকাশমান ও সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী যেসব শিল্পখাত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলাে পােশাকশিল্প। বাংলাদেশে তৈরি পােশাকশিল্পের শতকরা একশভাগই রপ্তানিমুখী। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের মােট দেশজ প্রবৃদ্ধির ১৪.৬ শতাংশই এসেছে পণ্যও সেবা রপ্তানী খাত থেকে। মােট পণ্য রপ্তানী হয়েছে ৪ হাজার ৫৪ কোটি ইউএস ডলার। এর মধ্যে পােশাক খাত থেকে এসেছে ৮৪ শতাংশ।

পােশাকশিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান:

বাংলাদেশে তৈরি পােশাক দেশে-বিদেশে একটি বিশেষ স্থান অধিকার করে নিয়েছে। পােশাক রপ্তানিতে বিশ্বে বাংলাদেশের স্থান বর্তমানে পঞ্চম। বাংলাদেশের তৈরি পােশাকের বাজার ছড়িয়ে রয়েছে বিশ্বের প্রায় ২৩টি দেশে। আর এর সবচেয়ে বড় ক্রেতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এছাড়া ফ্রান্স, কানাডা, বেলজিয়াম, জার্মানি, জাপান ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলােতে বাংলাদেশ পােশাক রপ্তানি করে। অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়াতেও সম্প্রসারিত হচ্ছে বাংলাদেশের পােশাকের বাজার। পােশাকশিল্প কারখানাগুলাে প্রায় ২৫ লাখ শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযােগ করে দিয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ ভাগই নারী শ্রমিক। দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি জনগােষ্ঠীর এক বিরাট অংশের বেকারত্ব নিরসন সম্ভব হচ্ছে এ সম্ভাবনাময় শিল্পখাতটির মাধ্যমে। কিন্তু তারপরও পােশাকশিল্পের কতিপয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও মুক্ত বাজার অর্থনীতির প্রবল চাপের মুখে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পখাতটির ভবিষ্যৎ অনেকটা নাজুক হয়ে উঠেছে। তাই দুত প্রয়ােজনীয় ব্যবস্থা না নিলে প্রতিযােগিতামূলক বিশ্ববাজার থেকে আমরা পিছিয়ে পড়ব।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে পােশাকশিল্পের ভূমিকা:

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ করে রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে তৈরি পােশাকশিল্পের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযােগ্য। এ খাতের সম্ভাবনা ও অবদানের প্রধান দিকগুলাে হচ্ছে:
১. জাতীয় আয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন: প্রতি বছর জাতীয় আয়ের এক বিরাট অংশ আসে পােশাকশিল্প থেকে অর্জিত হয় প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে গতিশীল রাখতে সাহায্য করে।
২. রপ্তানি বৃদ্ধি: দেশে দু হাজারেরও বেশি পােশাক তৈরির কারখানা রয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে প্রতিযােগিতার কারণে পণ্যের গুণগত মান বাড়ছে, রপ্তানি বাড়ছে, বাড়ছে রপ্তানি আয় ।
৩.বেকার সমস্যা নিরসন: দেশের পােশাকশিল্প কারখানাগুলােতে প্রায় পঁচিশ লাখ শ্রমিক কাজ করে। এদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি নারী। আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে এসব শ্রমিকরা পাচ্ছে স্বাবলম্বী জীবন ও অর্থনৈতিক মর্যাদা।
৪. শিল্পের প্রসার: পােশাকশিল্পকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পােশাক তৈরির প্রয়ােজনীয় উপকরণ সরবরাহ করে থাকে। এভাবে দ্রুত শিল্পায়ন সম্ভব হচ্ছে।
৫. পরিবহন শিল্পের অগ্রগতি: পােশাক শিল্পসামগ্রী আমদানি ও রপ্তানির জন্য দেশের পরিবহন খাতেও আয় বাড়ছে নিত্য- নতুন প্রযুক্তির সাথে বাংলাদেশ সম্পৃক্ত হতে পারছে।

পােশকশিল্পে বিরাজমান সমস্যা:

বাংলাদেশের পােশাকশিল্প সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের সহযােগিতা ও সুবিধা পেয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও এ শিল্পখাতটিতে নানা ধরনের সমস্যা বিরাজমান। যেমন:
১. রাজনৈতিক অস্থিরতা বিভিন্ন সময়ে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে চাহিদা অনুযায়ী পােশাক সরবরাহ ব্যাহত হয়।
২.কাচামালের অভাব: দেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল না পাওয়া গেলে বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে রপ্তানি আয়ের একটা বড় অংশ খরচ হয়ে যায়। অন্যদিকে, উন্নত কাঁচামালের অভাবে তৈরি পােশাকের সুনাম নষ্ট হয়।
৩.বিভিন্ন ধরনের পােশাক তৈরিতে সীমাবদ্ধতা: বিশ্ববাজারে প্রায় ১১৫ ধরনের পােশাকের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ সরবরাহ করতে পারে ৫ থেকে ১০ রকমের পােশাক। ফলে প্রতিযােগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে।
8. শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তার অভাব: শ্রমিকরা প্রায়ই নানা ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ড, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর মতাে ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
৫. শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য: অন্যান্য শিল্পের তুলনায় পােশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি অনেক কম। রয়েছে নারী শ্রমিকদের বেতন বৈষম্য। দীর্ঘ শ্রমঘণ্টা, অনিয়মিত বেতন শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে ।
৬. অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: নিরাপদ পানি, পরিবেশ ও পেশাগত ঝুঁকির কারণে অনেক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে। মজুরি কম হওয়ায় তাদের কোনাে সয় থাকে না। তার ওপর কোনাে কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে বেতন কেটে নেয়া হয় । এছাড়াও রয়েছে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব, বিদ্যুৎ সমস্যা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রভৃতি।

সমস্যা সমাধানের উপায়:

যেহেতু পােশাকশিল্প অত্যন্ত লাভজনক একটি খাত সে কারণে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এ লক্ষ্যে প্রয়ােজন-
১. আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন পােশাক তৈরি করা;
২. দেশেই প্রয়ােজনীয় কাঁচামাল উৎপাদনের পদক্ষেপ নেওয়া;
৩. শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কাজের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা;
৪. নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা;
৫. রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা ইত্যাদি।

উপসংহার:

বিশ্বায়নের এ যুগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযােগিতায় টিকে থাকতে হলে পােশাকশিল্পে বিরাজমান সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। ইতােমধ্যে বাংলাদেশ সরকার শ্রমিক ও তাদের পরিবারের কল্যাণের লক্ষ্যে শ্রম আইন ও শ্রম কল্যাণ আইন- ২০০৬ প্রবর্তন করেছে। কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তার ব্যাপারটিও বিবেচনাধীন প্রয়ােজন সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে সমঝােতা । তাহলেই সম্ভা•) ময় এ শিল্পখম আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *